ঢাকা ০৪:১৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
পানি পানের পর অসুস্থ, রাতে ৪ লাখ টাকা-স্বর্ণালংকার চুরি পরিকল্পিত সন্ত্রাসের প্রতিবাদে সুন্দরগঞ্জে বিএনপির মিছিল ৯ জনকে কামড়ানো সেই শিয়ালের মাথা গেল পরীক্ষাগারে গোবিন্দগঞ্জে বিদ্যালয়ে দুর্বৃত্তের হামলা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ আহত ১৫ গাইবান্ধায় শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার দুই সুন্দরগঞ্জে অ্যানথ্রাক্সের প্রাদুর্ভাব রোধে সচেতনতামূলক মতবিনিময় সভা ডেঙ্গু প্রতিরোধে সুন্দরগঞ্জ ডিডব্লিউ সরকারি কলেজে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চার মিনিটে তিন ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মামলা, আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেফতার শিয়ালের কামড়ে আহতদের পাশে উপজেলা প্রশাসন, নগদ অর্থ সহায়তা গাইবান্ধায় ২ হাজার ইয়াবাসহ কারবারি গ্রেফতার

গাইবান্ধায় শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার দুই

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় আল ইমরান মাদরাসার শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম সাইমকে (১১) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুপুরে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চর হতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে সজল মিয়া (২৬) ও একই এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে সুলাইমান মিয়া (২৩)।

অপরদিকে, অপরহণ হওয়া শিশু সাইমুন ইসলাম সাইম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙাসী ইউনিয়নের আগগয়হাটা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে এবং সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া এলাকার আল ইমরান মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিশু সাইম মাদরাসা থেকে বাহিরে বের হলে আসামি সোলাইমান তাকে পুলবন্দি বাজারে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নেয়া সজল ও রবিউলসহ সাইমকে চেতনানাশক খাওয়াইয়ে অটোতে করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আসামি সজল ও রবিউলসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৭ জন মিলে শিশু সাইমকে অমানুষিক নির্যাতন করে। একই সাথে সাইমের মা সুমি বেগম ও তার শাশুড়ি আছমা বেগমের কাছে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে সাইমকে অপহরণের করা হয়েছে বলে জানায় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় শিশু সাইমকে মেরে ফেলা হবে জানিয়ে হুমকি দেয় আসামিরা।

এজাহারে আরোও বলা হয়, ঘটনাটি সাইমের মা তাৎক্ষনিক মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানালে তিনি সহ অন্যান্যদের সহায়তায় ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের ভাড়া বাসার একটি অন্ধকার রুম থেকে অপহরণ করা সাইমকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে অসুস্থ্য অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় অপহৃত শিশু সাইমুন ইসলাম সাইমের মা সুমি বেগম বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সদরের কামারজানি কুন্দেরপাড়ার চর এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা আসামি সজল ও সুলাইমানকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই পিযুস চন্দ্র সরকার।

অপহরণ হওয়া সাইমের মা সুমি বেগম বলেন, সুমি বেগমের ভাই আপনের শশুর বাড়ি গাইবান্ধার ফলিয়াতে। ফলিয়ার আল ইমরান মাদরাসায় তার ভাইয়ের ছেলে নূর মোহাম্মদ পড়েন। সেকারণে সাইমকেও ৩ বছর আগে তারা এই মাদরাসায় ভর্তি করে দেন।

তিনি বলেন, আসামিরা পরিচিত। তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে এবং আমাদের থেকে টাকা দাবি করেছে। নাহলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলো ওরা। আমি সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘শিশু অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির মাসলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় সাইমকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গাইবান্ধায় শিশু অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি, গ্রেফতার দুই

আপডেট সময় : ১১:১৩:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধার সদর উপজেলায় আল ইমরান মাদরাসার শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম সাইমকে (১১) অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির মামলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পরে তাদেরকে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে দুপুরে সদর উপজেলার কামারজানি ইউনিয়নের কুন্দেরপাড়া চর হতে তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন গাইবান্ধা সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া গ্রামের আব্দুস সামাদের ছেলে সজল মিয়া (২৬) ও একই এলাকার সাইদুল ইসলামের ছেলে সুলাইমান মিয়া (২৩)।

অপরদিকে, অপরহণ হওয়া শিশু সাইমুন ইসলাম সাইম সিরাজগঞ্জ জেলার উল্লাপাড়া উপজেলার বড়পাঙাসী ইউনিয়নের আগগয়হাটা গ্রামের মনিরুল ইসলামের ছেলে এবং সদর উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়নের ফলিয়া এলাকার আল ইমরান মাদরাসার হেফজ বিভাগের শিক্ষার্থী।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ সেপ্টেম্বর দুপুরে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে শিশু সাইম মাদরাসা থেকে বাহিরে বের হলে আসামি সোলাইমান তাকে পুলবন্দি বাজারে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে পূর্ব থেকে প্রস্তুতি নেয়া সজল ও রবিউলসহ সাইমকে চেতনানাশক খাওয়াইয়ে অটোতে করে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের এক আত্মীয়ের বাসায় নিয়ে যায়। সেখানে আসামি সজল ও রবিউলসহ অজ্ঞাত ৫ থেকে ৭ জন মিলে শিশু সাইমকে অমানুষিক নির্যাতন করে। একই সাথে সাইমের মা সুমি বেগম ও তার শাশুড়ি আছমা বেগমের কাছে মোবাইলে একাধিকবার ফোন করে সাইমকে অপহরণের করা হয়েছে বলে জানায় এবং ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। অন্যথায় শিশু সাইমকে মেরে ফেলা হবে জানিয়ে হুমকি দেয় আসামিরা।

এজাহারে আরোও বলা হয়, ঘটনাটি সাইমের মা তাৎক্ষনিক মাদ্রাসার পরিচালক শাহ জালাল হোসেন রোস্তমকে জানালে তিনি সহ অন্যান্যদের সহায়তায় ধোপাডাঙ্গা গ্রামের রবিউল ইসলামের ভাড়া বাসার একটি অন্ধকার রুম থেকে অপহরণ করা সাইমকে হাত-পা বাঁধা ও গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাকে অসুস্থ্য অবস্থায় গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

পরবর্তীতে ১৬ সেপ্টেম্বর এ ঘটনায় অপহৃত শিশু সাইমুন ইসলাম সাইমের মা সুমি বেগম বাদি হয়ে তিনজনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা ৫-৭ জনের বিরুদ্ধে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। মামলার পর তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সদরের কামারজানি কুন্দেরপাড়ার চর এলাকা থেকে আত্মগোপনে থাকা আসামি সজল ও সুলাইমানকে গ্রেফতার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সদর থানার এসআই পিযুস চন্দ্র সরকার।

অপহরণ হওয়া সাইমের মা সুমি বেগম বলেন, সুমি বেগমের ভাই আপনের শশুর বাড়ি গাইবান্ধার ফলিয়াতে। ফলিয়ার আল ইমরান মাদরাসায় তার ভাইয়ের ছেলে নূর মোহাম্মদ পড়েন। সেকারণে সাইমকেও ৩ বছর আগে তারা এই মাদরাসায় ভর্তি করে দেন।

তিনি বলেন, আসামিরা পরিচিত। তারা পরিকল্পিতভাবে আমাদের ছেলেকে অপহরণ করে নির্যাতন করেছে এবং আমাদের থেকে টাকা দাবি করেছে। নাহলে ছেলেকে হত্যার হুমকিও দিয়েছিলো ওরা। আমি সকল আসামিকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘শিশু অপহরণ করে নির্যাতন ও মুক্তিপণ দাবির মাসলায় দুই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আসামিরা পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে ও আদালতে ১৬৪ ধারায় সাইমকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পরে আদালত তাদেরকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। মামলায় জড়িত অন্যদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’