দাবি আদায় নাহলে ঘরে ফিরবোনা: শফিকুর রহমান
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩৪ বার পড়া হয়েছে

জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ১১ দলীয় ঐক্যের এই লংমার্চ কোনো দলের নয়, দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি আদায়ের এই লংমার্চ। যদি গণভোটের গণরায় বাস্তাবায়ন করা হতো তাহলে এই লংমার্চ করার প্রয়োজন হতোনা।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে ১১ দলীয় ঐক্য জোটের আটদফা দাবিতে ঢাকা টু রংপুর লংমার্চের গাইবান্ধার ঢাকা-রংপুর মহাসড়কের পলাশবাড়ির চৌমাথার পথসভায় প্রধান অতিথির সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াতে আমীর বলেন, যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করা হতো তাহলে লংমার্চ করতাম না, যদি চাঁদাবাজি বন্ধ হতো তাহলে লংমার্চ করতাম না, দেশে যদি দুর্নীতি করা বন্ধ হতো তাহলে লংমার্চ করতাম না, মানুষ যদি বিদ্যুৎ পেতো লংমার্চ করতাম না, ন্যায্য মূল্যে পর্যাপ্ত সার পেত লংমার্চ করতাম না, যদি ঘরে ঘরে মানুষ নিরাপত্তা পেত তাহলে লংমার্চ করতাম না।
এসময় কুমিল্লার কলেজ শিক্ষকের সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শিক্ষকের সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া সন্তান উধাও। দুইদিন পর তার লাশ উদ্ধার হয়েছে। এভাবে আর কত মায়ের বুক খালি হবে? নিরবে বসে বসে দেখবো! বিবেকের কাছে আমরা পরাজিত, এই জুলুম-অন্যায় আর আমরা আর সহ্য করতে পারছিনা। সেজন্যই আমাদের এই লংমার্চ।
শফিকুর রহমান বলেন, প্রিয় দেশবাসী আমাদের এসব দাবি যদি সরকার মেনে নেয় আল্লাহর কসম লংমার্চের প্রয়োজন হতোনা। এই দাবিগুলো আমাদের দলের একটাও দাবি নয়, প্রত্যেকটা দাবি এ দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি।

সরকার যদি এইসব দাবি মেনে না নেয় তাহলে আজ ৮ দফা, কাল ৯ দফা, পরে ১০ দফা, পরে হবে ১ দফা।
শফিকুর রহমান প্রয়োজনে একদফা দাবি আদায়ে সবাইকে প্রস্তুত থাকার জিজ্ঞাসায় বলেন, আমরা সরকারকে সময় দিচ্ছি, শুভ বুদ্ধির উদয় হোক। অন্যায় যে করে, আর অন্যায় যে সহে দুইয়ে সমান অপরাধী। দাবি আদায় নাহলে ঢাকায় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে-আপনার রাজি আছেন? আপনার প্রস্তুত থাকবেন। আপনারাতো যাবেনই। সারাদেশের মুক্তিকামী মানুষদের নিয়ে নারী-পুরুষ সকলে ঢাকায় আসবেন। এই দাবি না আদায় হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবোনা ইনশাআল্লাহ।

গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা নজরুল ইসলাম লেবুর সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য রাখে ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, জাগপাস মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, এনসিপির মূখ্য সংগঠক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, মূখ্য সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রসংসদের ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিবির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল সহ অন্যরা।

একইদিন সকালে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, গ্যাস, বিদ্যুৎ, তেলের সংকট দূর করা, দলীয়করণ, দখলদারিত্ব, দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি বন্ধ ও তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবিতে ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে ঢাকা টু রংপুরের এই লং মার্চ শুরু হয়। এরপর গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস রোডে প্রথম পথসভা করা হয়। পরে টাঙ্গাইল নগর জালফৈ বাইপাস রোডে দ্বিতীয়, সিরাজগঞ্জ হাটিকমরুল মোড়ে তৃতীয়, বগুড়া মাটিডালি বিমান মোড়ে চতুর্থ ও গাইবান্ধার পলাশবাড়িতে পঞ্চম পথ সভায় বক্তব্য রাখেন জামায়াতে আমীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ চলছে।
























