গাইবান্ধায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় সংঘর্ষে আহত ৬, খেলা স্থগিত
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে উপজেলা পর্যায়ের গ্রীষ্মকালীন জাতীয় স্কুল, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। পরে প্রতিযোগিতাটি সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন ইদিলপুর লক্ষ্মীপুর রহিমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী হাবিব, গোলাম রব্বানী, সানজিদ হাসান, মোজাহিদ, নাহিদ ও রিফাত। তাদের সাদুল্লাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুই দিনব্যাপী এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতা বুধবার শুরু হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে কাবাডি খেলা শেষে ইদিলপুর ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর রহিমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠের পূর্ব পাশে পুকুরের ধারে বসে ছিল।
এ সময় সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী সেখানে গিয়ে তাদের সরে যেতে বলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে মারামারির ঘটনা ঘটে।
পরে বিষয়টি নিয়ে দুই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের মধ্যেও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এর মধ্যে সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা লাঠি ও রড নিয়ে লক্ষ্মীপুর রহিমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ধাওয়া করে সোনালী ব্যাংক এলাকায় নিয়ে যায় এবং সেখানে মারধর করে। পরে স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর রহিমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের ছয় শিক্ষার্থী আহত হয়।
লক্ষ্মীপুর রহিমা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহারুল হুদা অভিযোগ করে বলেন, ‘দ্বিতীয় দফায় সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে আবারও মারপিট করা হয়। আমরা ঘটনার তদন্ত করে সুষ্ঠু বিচার ও দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।’
অভিযোগের বিষয়ে সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আব্দুল খালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সাদুল্লাপুর বহুমুখী মডেল পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এনশাদ আলী বলেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে ঘটনাটি ঘটেছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।’
উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো. হারুন আর রশিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘এ ঘটনায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। উপজেলা কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে পরবর্তী সময়ে বাকি ইভেন্টগুলোর আয়োজন করবে।’
সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রওজাতুন জান্নাতের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
















