কক্সবাজারে উন্নয়নের নতুন রূপরেখা দিলেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১১:৫৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

কক্সবাজারবাসীর বহুদিনের প্রত্যাশিত চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে লবণ চাষিদের স্বার্থ সংরক্ষণে প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম মূল্য ১৫ টাকা নির্ধারণ, দেশের সব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, লাখ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড প্রদান এবং কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালুসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন পরিকল্পনার ঘোষণা দেন তিনি।
শনিবার (১৩ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর বাসটার্মিনাল এলাকায় উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব ঘোষণা দেন। জনসভাকে ঘিরে সকাল থেকেই চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে হাজার হাজার নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ মানুষের ঢল নামে। সড়ক ও জনসভাস্থলজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
জনসমাগমে পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। ব্যানার, ফেস্টুন ও জাতীয় পতাকা হাতে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের উপস্থিতিতে চকরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে যান চলাচলও সাময়িকভাবে ব্যাহত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে কক্সবাজারে যে সড়ক ব্যবস্থা তিনি দেখেছিলেন, আজও তার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। কক্সবাজার দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন অঞ্চল এবং মহেশখালী গভীর সমুদ্রবন্দরকে কেন্দ্র করে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক গুরুত্ব দিন দিন বাড়ছে। তাই চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে দ্রুত ৬ লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম শুরু করা হবে।
তিনি আরও বলেন, লবণ শিল্প বাংলাদেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক খাত। এই খাতকে টিকিয়ে রাখতে এবং লবণ চাষিদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নেবে। যাতে চাষিরা প্রতি কেজি লবণের ন্যূনতম ১৫ টাকা মূল্য পান, সেই ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা হবে।
জাতীয় বাজেট প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন বাজেট দেশের অর্থনীতিকে আরও গতিশীল করবে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি দাবি করেন, যারা এই বাজেটের বিরোধিতা করছে, তারা মূলত দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থানের বিরোধিতা করছে। পাশাপাশি সিগারেট ও মাদকদ্রব্যের ওপর কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তকে জনস্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তিনি ঘোষণা দেন, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পর্যায়ক্রমে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া আগামী এক বছরের মধ্যে ৪২ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড এবং ৪০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষি কার্ড তুলে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান। এসব উদ্যোগ তার আই হ্যাভ এ প্ল্যান” কর্মপরিকল্পনার অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এর আগে সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালী এলাকায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্প স্থানীয় কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং পরিবেশ উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। উদ্বোধন শেষে তিনি সরাসরি চকরিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা দেন এবং পরবর্তী জনসভায় যোগ দেন।
সফরের অংশ হিসেবে তিনি কক্সবাজার জেলার নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলা ও থানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পাশাপাশি নবঘোষিত পেকুয়া উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রমের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন এবং পেকুয়াকে পৌরসভায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন।
সফরকালে তিনি দুলহাজারা সাফারি পার্ক পরিদর্শন করেন, বালুমঘাট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন এবং এছাড়া বাংলাদেশের দ্বিতীয় শহীদ ওয়াসিম আকরামের কবর জিয়ারত করেন এবং তার পরিবারের হাতে ২০ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
চকরিয়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়ককে ৬ লেনে উন্নীত করা বিএনপির অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল এবং প্রধানমন্ত্রী সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছেন।
সভায় আরও বক্তব্য দেন কক্সবাজার জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্য, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে কক্সবাজার জেলাজুড়ে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যায়। স্থানীয়দের মতে, ঘোষিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো বাস্তবায়িত হলে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার অঞ্চলের যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, কৃষি, লবণ শিল্প ও পর্যটন খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত























