ঢাকা ০২:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টানা বৃষ্টিতে হাকালুকি হাওরে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হাওরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোমরসমান পানি, আবার কোথাও হাঁটুসমান পানির মধ্যেই কৃষকরা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক কৃষক নৌকায় বসে ধান কাটছেন, আবার কেউ কেউ কাটা ধান নৌকায় তুলে তীরে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ ধান কেটে তীরে জমা করে আবার নৌকায় ফিরে গিয়ে অবশিষ্ট ধান কাটার কাজে লেগে পড়ছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন তারা।

হাওরের অনেক স্থানে পানির উচ্চতা হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে ধান কাটছেন, যাতে অন্তত কিছু ফসল ঘরে তুলতে পারেন।

এদিকে হাওরের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু জমির ধান ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে আরও বিপুল পরিমাণ ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বছরের এই সময়টাতেই বোরো ধান কাটার মৌসুম থাকে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেতেই জমিতে পানি জমে গেছে। এতে ধান কাটার সময়ও পাচ্ছেন না অনেকেই। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেলে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।

হাওর এলাকার এই পরিস্থিতি কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, অকাল বন্যা হলে বছরের একমাত্র বোরো ফসলই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। ফলে তাদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

টানা বৃষ্টিতে হাকালুকি হাওরে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা

আপডেট সময় : ১০:৪৯:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজারের হাকালুকি হাওর এলাকায় টানা বৃষ্টিপাতের কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে হাওরের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল ইতোমধ্যে পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে। এমন পরিস্থিতিতে চরম উদ্বেগ ও দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কোথাও কোমরসমান পানি, আবার কোথাও হাঁটুসমান পানির মধ্যেই কৃষকরা ধান কাটতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক কৃষক নৌকায় বসে ধান কাটছেন, আবার কেউ কেউ কাটা ধান নৌকায় তুলে তীরে নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ ধান কেটে তীরে জমা করে আবার নৌকায় ফিরে গিয়ে অবশিষ্ট ধান কাটার কাজে লেগে পড়ছেন। সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দ্রুত ফসল ঘরে তোলার চেষ্টা করছেন তারা।

হাওরের অনেক স্থানে পানির উচ্চতা হঠাৎ করেই বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, কয়েকদিন ধরেই টানা বৃষ্টি হওয়ায় হাওরের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এতে করে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে তড়িঘড়ি করে ধান কাটছেন, যাতে অন্তত কিছু ফসল ঘরে তুলতে পারেন।

এদিকে হাওরের নিম্নাঞ্চলের বেশ কিছু জমির ধান ইতোমধ্যেই পানির নিচে তলিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা। আকস্মিক বন্যা দেখা দিলে আরও বিপুল পরিমাণ ফসল পানির নিচে তলিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয় কৃষকরা জানান, বছরের এই সময়টাতেই বোরো ধান কাটার মৌসুম থাকে। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেতেই জমিতে পানি জমে গেছে। এতে ধান কাটার সময়ও পাচ্ছেন না অনেকেই। দ্রুত পানি বৃদ্ধি পেলে পাকা ধান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা জানান।

হাওর এলাকার এই পরিস্থিতি কৃষকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। তারা বলছেন, অকাল বন্যা হলে বছরের একমাত্র বোরো ফসলই বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে। ফলে তাদের জীবিকা ও অর্থনৈতিক অবস্থার ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।

স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। তবে আবহাওয়া পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকলে হাওর এলাকায় আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।