ঢাকা ০৮:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সৌদি আরবে আগুনে নিহত নওগাঁর পাঁচজনের লাশ বাড়িতে ফিরল তিন মাস পর ব্র্যাকে ডিপ্লোমা পাসে চাকরির সুযোগ, আছে পিতৃত্বকালীন ছুটি এবার আপনিও হতে পারেন ফ্যাশন হাউসের মডেল, পাবেন মাসিক বেতন জামায়াত–কওমির বিরোধ কেন, কোথা থেকে এর শুরু ২৮ বিশিষ্টজনের বিবৃতি: স্বাধীনতাবিরোধী জামায়াত ঠিক করে দিতে পারে না কে মুক্তিযোদ্ধা, কে নন যশোর বোর্ডে ৫৫ ভাগ শিক্ষার্থী পাস করেননি, কমেছে জিপিএ-৫ ‘বাঁধনহারা’র পাতায় মুক্তির খোঁজ: নজরুলের উপন্যাস নিয়ে পাঠচক্র এসএসসি ও এইচএসসিতে জিপিএ–৫, তাঁর নাটকের ভিউ সবচেয়ে বেশি… বেতন বৃদ্ধির দাবিতে তিন ঘণ্টা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ, পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের সংঘর্ষ খেলাপি ঋণের জালে আটকা ব্যাংকিং খাতের ভবিষ্যৎ কী

নিয়ম রক্ষার সস্তা হেলমেট

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৪:১৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ ৬১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাহনগুলোর একটি। আর এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে মানসম্মত হেলমেটের অভাব। আইন থাকলেও বাস্তবে অনেকেই শুধু নিয়ম মানার জন্য নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার করছেন, যা দুর্ঘটনায় কোনো কার্যকর সুরক্ষা দিচ্ছে না।

আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও বাজারে এখনও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে মানহীন ও সস্তা হেলমেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হেলমেট পরা হলেও তা মূলত ‘নামমাত্র সুরক্ষা’, বাস্তবে এটি জীবনরক্ষায় কার্যকর নয়।

বাংলাদেশে হেলমেটের মান নির্ধারণে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০২৪ সালে নতুন গেজেট প্রকাশ করে। এতে নির্ধারিত মান অনুসরণ ছাড়া হেলমেট বিক্রি ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনও দুর্বল।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বুয়েটের গবেষণা অনুযায়ী, হেলমেট না পরা বা মানহীন হেলমেট ব্যবহারের কারণে বড় অংশের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি ও নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি বদলায়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক চালক হেলমেট ব্যবহার করলেও বেশিরভাগই নিম্নমানের। ওপেন ফেস ও হাফ ফেস হেলমেটের ব্যবহার বেশি, যা মাথা ও মুখের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় এসব হেলমেট সহজেই ভেঙে যায় বা খুলে পড়ে যায়।

ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে রাজধানীতে বহু নিম্নমানের হেলমেট ধ্বংস করা হলেও বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ থেমে নেই। বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় ‘মামলা এড়ানোর হেলমেট’ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হেলমেট পরার উদ্দেশ্য জরিমানা এড়ানো নয়, বরং জীবন রক্ষা করা। কিন্তু সচেতনতার অভাব এবং মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট সড়ক মৃত্যুর বড় অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশেই দেখা গেছে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের অভাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা একসঙ্গে বাড়াতে হবে। নইলে ‘সস্তা হেলমেট’ই রয়ে যাবে নীরব মৃত্যুঝুঁকি হিসেবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

নিয়ম রক্ষার সস্তা হেলমেট

আপডেট সময় : ০৪:১৩:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬

সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল এখন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাহনগুলোর একটি। আর এসব দুর্ঘটনায় প্রাণহানির অন্যতম বড় কারণ হিসেবে উঠে আসছে মানসম্মত হেলমেটের অভাব। আইন থাকলেও বাস্তবে অনেকেই শুধু নিয়ম মানার জন্য নিম্নমানের হেলমেট ব্যবহার করছেন, যা দুর্ঘটনায় কোনো কার্যকর সুরক্ষা দিচ্ছে না।

আইন অনুযায়ী মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীর জন্য হেলমেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক হলেও বাজারে এখনও ব্যাপকভাবে বিক্রি হচ্ছে মানহীন ও সস্তা হেলমেট। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব হেলমেট পরা হলেও তা মূলত ‘নামমাত্র সুরক্ষা’, বাস্তবে এটি জীবনরক্ষায় কার্যকর নয়।

বাংলাদেশে হেলমেটের মান নির্ধারণে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) ২০২৪ সালে নতুন গেজেট প্রকাশ করে। এতে নির্ধারিত মান অনুসরণ ছাড়া হেলমেট বিক্রি ও আমদানি নিষিদ্ধ করা হলেও এর বাস্তব প্রয়োগ এখনও দুর্বল।

সড়ক নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি। বুয়েটের গবেষণা অনুযায়ী, হেলমেট না পরা বা মানহীন হেলমেট ব্যবহারের কারণে বড় অংশের প্রাণহানি ঘটে। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সচেতনতার ঘাটতি ও নজরদারির অভাবে পরিস্থিতি বদলায়নি।

গবেষণায় দেখা গেছে, অনেক চালক হেলমেট ব্যবহার করলেও বেশিরভাগই নিম্নমানের। ওপেন ফেস ও হাফ ফেস হেলমেটের ব্যবহার বেশি, যা মাথা ও মুখের সম্পূর্ণ সুরক্ষা দিতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনার সময় এসব হেলমেট সহজেই ভেঙে যায় বা খুলে পড়ে যায়।

ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে রাজধানীতে বহু নিম্নমানের হেলমেট ধ্বংস করা হলেও বাজারে এসব পণ্যের সরবরাহ থেমে নেই। বিভিন্ন এলাকায় এখনো ১০০ থেকে ৫০০ টাকায় ‘মামলা এড়ানোর হেলমেট’ বিক্রি হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হেলমেট পরার উদ্দেশ্য জরিমানা এড়ানো নয়, বরং জীবন রক্ষা করা। কিন্তু সচেতনতার অভাব এবং মান নিয়ন্ত্রণে দুর্বলতার কারণে উদ্দেশ্য পূরণ হচ্ছে না।

সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মোট সড়ক মৃত্যুর বড় অংশই মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ঘটছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশেই দেখা গেছে মানসম্মত হেলমেট ব্যবহারের অভাব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আইন থাকলেই নিরাপত্তা নিশ্চিত হয় না। মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার নিশ্চিত করতে হলে বাজার নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত অভিযান এবং জনসচেতনতা একসঙ্গে বাড়াতে হবে। নইলে ‘সস্তা হেলমেট’ই রয়ে যাবে নীরব মৃত্যুঝুঁকি হিসেবে।