ঢাকা ০১:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী লাঠি মিছিল ডোমারে মাদক সম্রাজ্ঞী আটক, ৩০টির বেশি মামলা মেয়েকে জড়িয়ে মাদরাসা প্রতিষ্ঠাতার বিরুদ্ধে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগ তুলে প্রতিষ্ঠানে মবের চেষ্টা পিরোজপুরে জিয়া মঞ্চের কর্মী সভা স্থগিতের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন হাতিয়ায় মৃত কৃষকের পরিবার পেল দেড় লাখ টাকার বিমার চেক গাইবান্ধায় ২ কেজি গাঁজাসহ নারী গ্রেফতার   ক্যাশমেমো ছাড়া সার বিক্রি, দুই বিসিআইসি ডিলারকে ৪২ হাজার টাকা জরিমানা সুন্দরগঞ্জে মাদকবিরোধী মশাল মিছিল গাইবান্ধায় হেরোইন-ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার ভূমি গবেষক সেলিমের ‘ডিজিটাল ভূমি কার্ড’ উদ্ভাবন, অবসান হবে ‘জোর যার মুলুক তার’ নীতি

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দ প্রকাশ, প্রশংসায় ভাসছেন ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম

খবর প্রতিদিন
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬ ১৮০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ ও কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জবাবদিহিতা। ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ নিম্নে দেওয়া হলো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা নিজেরা কাজ বুঝে নেবেন, ধন্যবাদ।’

চেয়ারম্যানের এই খোলামেলা পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অতীতে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষ প্রায়শই অজানা থাকতো। এবার তারা সহজেই জানতে পারছেন কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে, কোন প্রকল্প কোথায় বাস্তবায়িত হবে এবং কখন কার্যক্রম শুরু হবে। এতে জনগণের অংশগ্রহণ বেড়ে যাবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের উদ্যোগ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ ও জনপ্রতিনিধির জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত। এমন স্বচ্ছতা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে।

এদিকে, এই পদক্ষেপ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. লুৎফর বকসি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যদি টিআর-কাবিখার বরাদ্দ তালিকা ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে প্রকাশ করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য ইউনিয়নের বরাদ্দের তথ্য জনগণ জানতে পারছে না কেন?’

তাঁর এই মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সমর্থন জানিয়ে সব ইউনিয়নে একই ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, এই ধরনের স্বচ্ছ উদ্যোগ শুধু তথ্যপ্রাপ্তির সুবিধা দেয় না, বরং জনগণকে প্রকল্পের কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি করে। স্বচ্ছতা থাকলে উন্নয়নের সুফল সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কিনা সহজেই যাচাই করা যায়। এমন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সুন্দরগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি কমানোতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এবিষয়ে সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন কাজের হিসাব জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকা উচিত। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের তালিকা ও বরাদ্দ প্রকাশ করেছি। এতে মানুষ সহজেই জানতে পারবে কোথায় কী কাজ হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা নিজেই তা তদারকি করতে পারবে। আমি চাই, আমার ইউনিয়নে কোনো কাজ গোপনে নয়— সবকিছু হোক সবার সামনে।’

বিষয়টিকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধিরা যদি এভাবে উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন উদ্যোগ স্থানীয় সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের বরাদ্দ প্রকাশ, প্রশংসায় ভাসছেন ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৬:৪৬:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পের বরাদ্দ তালিকা প্রকাশ করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছেন। তাঁর এই উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বুধবার (৮ এপ্রিল) দুপুরে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে ইউপি চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইউনিয়নের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের নাম, বরাদ্দের পরিমাণ ও কার্যক্রমের বিবরণ তুলে ধরেন।

তিনি লেখেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, জবাবদিহিতা। ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের টিআর, কাবিখা ও কাবিটা প্রকল্পগুলোর নাম ও বরাদ্দের পরিমাণ নিম্নে দেওয়া হলো। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে প্রকল্পগুলোর কাজ শুরু হবে ইনশাআল্লাহ। আপনারা নিজেরা কাজ বুঝে নেবেন, ধন্যবাদ।’

চেয়ারম্যানের এই খোলামেলা পদক্ষেপ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া তৈরি করেছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, অতীতে উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তথ্য সাধারণ মানুষ প্রায়শই অজানা থাকতো। এবার তারা সহজেই জানতে পারছেন কোন খাতে কত টাকা বরাদ্দ এসেছে, কোন প্রকল্প কোথায় বাস্তবায়িত হবে এবং কখন কার্যক্রম শুরু হবে। এতে জনগণের অংশগ্রহণ বেড়ে যাবে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

স্থানীয়রা বলছেন, চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলামের উদ্যোগ অন্যান্য ইউনিয়ন পরিষদ ও জনপ্রতিনিধির জন্য অনুসরণযোগ্য দৃষ্টান্ত। এমন স্বচ্ছতা প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ অনেকাংশে কমিয়ে দেয় এবং সাধারণ মানুষের আস্থা বৃদ্ধি করে।

এদিকে, এই পদক্ষেপ ঘিরে আলোচনা-সমালোচনাও তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. লুৎফর বকসি নিজের ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ‘সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ৬নং সর্বানন্দ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান যদি টিআর-কাবিখার বরাদ্দ তালিকা ফেসবুক ও ইন্টারনেটের মাধ্যমে সর্বসাধারণের মাঝে প্রকাশ করতে পারেন, তাহলে অন্যান্য ইউনিয়নের বরাদ্দের তথ্য জনগণ জানতে পারছে না কেন?’

তাঁর এই মন্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই সমর্থন জানিয়ে সব ইউনিয়নে একই ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

সাধারণ নাগরিকরা মনে করছেন, এই ধরনের স্বচ্ছ উদ্যোগ শুধু তথ্যপ্রাপ্তির সুবিধা দেয় না, বরং জনগণকে প্রকল্পের কার্যক্রমে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগও তৈরি করে। স্বচ্ছতা থাকলে উন্নয়নের সুফল সঠিকভাবে বিতরণ হচ্ছে কিনা সহজেই যাচাই করা যায়। এমন উদ্ভাবনী পদক্ষেপ অব্যাহত থাকলে সুন্দরগঞ্জে সুশাসন প্রতিষ্ঠা ও দুর্নীতি কমানোতে এটি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

এবিষয়ে সর্বানন্দ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘জনগণের টাকায় পরিচালিত উন্নয়ন কাজের হিসাব জনগণের কাছে স্পষ্ট থাকা উচিত। তাই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে আমি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকল্পের তালিকা ও বরাদ্দ প্রকাশ করেছি। এতে মানুষ সহজেই জানতে পারবে কোথায় কী কাজ হচ্ছে এবং প্রয়োজনে তারা নিজেই তা তদারকি করতে পারবে। আমি চাই, আমার ইউনিয়নে কোনো কাজ গোপনে নয়— সবকিছু হোক সবার সামনে।’

বিষয়টিকে ইতিবাচক আখ্যা দিয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘উন্নয়ন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনপ্রতিনিধিরা যদি এভাবে উদ্যোগ নিয়ে প্রকল্পের তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেন, তাহলে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়বে এবং অনিয়ম-দুর্নীতির সুযোগ অনেকটাই কমে আসবে। বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে। এমন উদ্যোগ স্থানীয় সুশাসন ও উন্নয়ন কার্যক্রমকে শক্তিশালী করবে এবং জনগণের আস্থা আরও দৃঢ় করবে।’