ইবি শিক্ষার্থী সাজিদ হত্যায় শিবিরকে দায়ী করে ছাত্রদল নেত্রীর পোস্ট, ‘গুজব’ বলছে সিআইডি
- আপডেট সময় : ০২:৪৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৯ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহ হত্যা মামলায় শাখা ছাত্রশিবিরকে দায়ী করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম–সাধারণ সম্পাদক মানসুরা আলম।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডি থেকে তিনি লিখেন, ‘ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে শিবির মারলো সাজিদ নামের ছেলেটিকে। তার বন্ধুরা প্রতিবাদ করতে গেলেও বাধার সম্মুখীন হয়েছে। কিন্তু এই নিয়ে আপনি রাজনৈতিকভাবে কিছু করলেন না।’
তবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে তার আইডি আর খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।
একই পোস্টে ডাকসুকে ইঙ্গিত করে তিনি লেখেন, ‘গতকাল বহিরাগতদের হামলায় তেজগাঁও কলেজে ছাত্রদলেরই কর্মী মারা গেলো। এর মধ্যে মোনাফেকদের সংগঠন ও মোনাফেক ডাকসু উল্টো আপনার বিরুদ্ধে হাউকাউ করে দিলো। অভিনন্দন! দুপুর আড়াইটায় আপনার হুঁশ ফিরেছে একটি প্রেস রিলিজ দিয়ে জাতিকে উদ্ধার করতে।’
তার এই পোস্টের পর এক বিবৃতিতে তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইবি ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সভাপতি মু. মাহমুদুল হাসান এবং সেক্রেটারি ইউসুফ আলী বলেন, ‘ছাত্রদল নেত্রীর অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, সুস্পষ্ট মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তেজগাঁও কলেজে ছাত্রদলের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষে যে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, সেটি আড়াল করতেই সাজিদের হত্যার দায় শিবিরের ওপর চাপানোর অপচেষ্টা করা হচ্ছে।’
নেতৃবৃন্দ বলেন, ‘গত ১৭ জুলাই সাজিদ হত্যার পর থেকে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে ছাত্রশিবির শুরু থেকেই সক্রিয়। কিন্তু তদন্ত চলাকালীন সময়ে কিছু ব্যক্তি ও মহল রাজনৈতিক স্বার্থে শিবিরকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।’
বিবৃতিতে তারা আরও অভিযোগ করেন, ‘প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ছাত্রদল সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, মাদকাসক্তি ও ক্ষমতা দখলের রাজনীতির মাধ্যমে ক্যাম্পাসে অস্থিরতা সৃষ্টি করে আসছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্য হত্যা থেকে কুয়েটের হামলার ঘটনাতেও তারা শিবিরকে দায়ী করার অপচেষ্টা চালিয়েছে। এবারও একই ধারাবাহিকতা।’
অন্যদিকে ছাত্রদল নেত্রী মানসুরা আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘সাজিদের বন্ধুদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তাদের কাছে প্রমাণ আছে। আমার কাছেও প্রমাণ আছে, তবে আমি তা দিতে বাধ্য নই।’
কুষ্টিয়া ইউনিট সিআইডির কর্মকর্তা ও সাজিদ হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার মতো পর্যায়ে তদন্ত পৌঁছায়নি। কারও পোস্ট বা বক্তব্য ব্যক্তিগত মতামত কিংবা গুজব হতে পারে।’
এদিকে বাংলাদেশ নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব মাহিন সরকার বুধবার ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে সাজিদের হত্যাকারীদের ‘গুপ্ত আলবদর’ বলে উল্লেখ করেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি জানান, এটি তথ্যভিত্তিক নয়, ‘রূপকভাবে’ বলেছেন।
উল্লেখ্য, গত ১৭ জুলাই শাহ আজিজুর রহমান হলসংলগ্ন পুকুরে আল কুরআন অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী সাজিদ আব্দুল্লাহর লাশ পাওয়া যায়। ভিসেরা রিপোর্টে জানা যায়, তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। মামলাটি বর্তমানে সিআইডির তদন্তাধীন।























