ফটিকছড়িতে ছাত্র-যুব সমাবেশে বক্তারা
আগামী নির্বাচন হবে ব্যালটের, বুলেটের নয়
- আপডেট সময় : ০২:৪২:০৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ ডিসেম্বর ২০২৫ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম অফিস:
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ছাত্র-যুব সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, আগামী নির্বাচন আর অতীতের মতো ‘বুলেটের নির্বাচন’ হবে না; জনগণের ভোটেই ব্যালটের মাধ্যমে হবে শান্তিপূর্ণ নির্বাচন। বিরোধী দলের অতীত কর্মকাণ্ড, দমন–পীড়ন ও রাষ্ট্রীয় অস্থিরতার নানা দিক তুলে ধরে তারা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন যে এই দেশে আর সহিংস, রক্তঝরা নির্বাচন দেখতে চায় না তরুণ সমাজ।
বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) বিকেলে ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত চট্টগ্রাম–২ (ফটিকছড়ি) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের সমর্থনে অনুষ্ঠিত সমাবেশে ছাত্র–যুবক, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও কেন্দ্রীয় অতিথিদের উপস্থিতিতে জনসমুদ্রে রূপ নেয়।
সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম–২ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ নুরুল আমিন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রশিবিরের সভাপতি মোহাম্মদ আলী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বিপরীতে যারা আছে তারা কাজের চেয়ে মাদককে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। দুর্নীতি, দুঃশাসন ও দলীয় সন্ত্রাসের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করা হয়েছে। আমরা তরুণরা মাদকমুক্ত ও শান্তিপূর্ণ সমাজ চাই।’
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি ইব্রাহিম হোসেন রনি বলেন, ‘আমাদের দমিয়ে রাখা যাবে না। দাঁড়িপাল্লার বিজয় না হওয়া পর্যন্ত আমাদের অগ্রযাত্রা থামবে না। স্বৈরাচারী সরকারের অত্যাচার ভুলে যায়নি দেশের মানুষ। আন্দোলনের প্রতিটি ধাপে রক্ত দিতে হয়েছে—এবার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে রায় দেবে।’
চট্টগ্রাম মহানগর (উত্তর) ছাত্রশিবিরের সভাপতি তানভীর হোসেন জুয়েল বলেন, ‘যারা বড় দলের পরিচয়ে নিজেদের দ্বন্দ্বে দুই শত মানুষ হত্যা করেছে, সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে—তারা জনগণের মন জিততে ব্যর্থ। দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ কাউকে আর জনগণ ক্ষমতায় দেখতে চায় না।’
চট্টগ্রাম মহানগর (দক্ষিণ) সভাপতি মাইমুল ইসলাম মামুন বলেন, ‘দেড় দশক ধরে বিরোধী দল কর্তৃক পরিচালিত দমন–পীড়ন, গুম–খুন, জেল–জুলুম দেশের গণতন্ত্রকে অকার্যকর করেছে। এখন নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে বহু প্রতীক্ষিত নির্বাচন সামনে এসেছে। যারা আবারও সেই পতিত হাসিনার মতো নির্বাচন চায়—তাদের আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, বুলেটের নির্বাচনের দিন শেষ। এবার হবে ব্যালটের নির্বাচন।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ নির্বাচন শহীদদের ন্যায়বিচারের নির্বাচন। আমিরে জামায়াত মতিউর রহমান নিজামীসহ অসংখ্য নেতাকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলানো হয়েছে। শহীদের রক্ত বৃথা যাবে না।’
অতিথির বক্তব্যে অধ্যক্ষ নুরুল আমিন উন্নয়ন পরিকল্পনার নানা দিক তুলে ধরেন। তিনি ফটিকছড়ি–ভূজপুরে প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণ, আধুনিক হাসপাতাল, স্টেডিয়াম, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন, সড়ক উন্নয়ন, কোল্ড স্টোরেজ, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নার্সিং কলেজ ও গ্যাস–বিদ্যুতের গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন।

এ ছাড়া তিনি ঘোষণা দেন—অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ‘পরামর্শ পরিষদ’ গঠন করা হবে।
সাবেক অতিরিক্ত সচিব গোলামুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সমাবেশটি হাজারো তরুণ–যুবকের উপস্থিতিতে প্রাণচাঞ্চল্যে মুখর হয়ে ওঠে। স্লোগান, করতালি ও উচ্ছ্বাসে মাঠজুড়ে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। সমাবেশ পরিচালনা করেন উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা ইউছুপ বিন সিরাজ ও নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট ইসমাঈল গণি।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন ফটিকছড়ি সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা নুর মোহাম্মদ আল–কাদেরী, থানা জামায়াতের আমির অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম এবং উপজেলা জামায়াতের আমির নাজিম উদ্দীন ইমু। ছাত্র–যুবকদের ঢল, স্লোগানের গর্জন ও উচ্ছ্বাসে পুরো মাঠ যেন মিলনায়তনে নয়—মিলনমেলায় পরিণত হয়।























