সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাকে আধুনিক ও যানজটমুক্ত শহর গড়তে চান কাজী এম সাখাওয়াত হোসেন
- আপডেট সময় : ০১:৩৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬ ৬০ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ পৌরসভাকে একটি আধুনিক, নিরাপদ ও যানজটমুক্ত শহরে রূপান্তর করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক কাজী এম সাখাওয়াত হোসেন। তিনি আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কাজী এম সাখাওয়াত হোসেন সুন্দরগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের (বামনজল) বাসিন্দা। তিনি মৃত মকবুল হোসেন মুন্সির ছেলে। পেশাগতভাবে তিনি একজন নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) হিসেবে পরিচিত।
কাজী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ২০০৩ সালে সুন্দরগঞ্জ পৌরসভা গঠিত হলেও গত ২২-২৩ বছরে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি। পরিকল্পিত অবকাঠামো উন্নয়ন, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা কিংবা টেকসই সড়ক উন্নয়নের মতো মৌলিক বিষয়গুলো এখনো সন্তোষজনকভাবে বাস্তবায়িত হয়নি। দীর্ঘদিনের সমন্বিত পরিকল্পনার অভাবে পৌরবাসী প্রত্যাশিত নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছেন।
তিনি আরও বলেন, শহরের মানুষ প্রতিদিন জলাবদ্ধতা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট, ভাঙাচোরা রাস্তা ও স্ট্রিট লাইটের অভাবসহ নানা সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। এসব বাস্তবতা দেখেই কেবল আশ্বাস নয়, কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি নির্বাচনে অংশ নিতে চান।
তিনি বলেন, ‘আমি শুধু প্রতিশ্রুতি দিতে চাই না, সুপরিকল্পিত কাজের মাধ্যমে পরিবর্তন আনতে চাই। নাগরিকদের কষ্ট বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা। আমার লক্ষ্য হলো পৌরসভার সেবা সহজ ও দ্রুত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া, সব কাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং নাগরিক সমস্যাকে অগ্রাধিকার দেওয়া।’
নির্বাচিত হলে তিনি ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, কার্যকর বর্জ্য অপসারণ, রাস্তা সংস্কার এবং নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেন। পাশাপাশি বাজেট ও উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা বজায় রাখার কথাও জানান। তরুণ ও নারীদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নিরাপদ সামাজিক পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়েও গুরুত্ব দেবেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত রয়েছেন। ২০১১ সালে তিনি ভুরারঘাট এম ইউ বহুমুখী ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসায় উপাধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে আজেপাড়া দাখিল মাদ্রাসায় সুপার পদে দায়িত্ব পালন করেন। শিক্ষা বিস্তারের লক্ষ্যে ক্যাডেট পদ্ধতিতে ‘কে এস আখলাকুল আদব মডেল মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠা করেন, যা বর্তমানে সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া তিনি জেলা কাজী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও উপজেলা সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
শিক্ষা ও সমাজসেবায় অবদানের জন্য তিনি একাধিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। শিক্ষাগত যোগ্যতায় তিনি কামিলসহ বি এ ও এম এ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। ব্যক্তিজীবনে তিনি বিবাহিত এবং দুই ছেলে ও দুই কন্যা সন্তানের জনক।
তিনি বলেন, পৌরসভাকে প্রকৃত অর্থে জনগণের প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যেখানে থাকবে খোলা দরজা, নাগরিকদের কথা শোনার আন্তরিকতা এবং দ্রুত সমস্যার সমাধানের কার্যকর ব্যবস্থা।

















