ঢাকা ০৮:৫৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
যুবদল নেতা হত্যা ও ডাকাতির মামলায় মাগুরা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক গ্রেপ্তার মোটরসাইকেলের ট্যাংকে ছিদ্র হচ্ছে, কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা পাঁচ অতিরিক্ত আইজিপিসহ পুলিশের গুরুত্বপূর্ণ পদে রদবদল শ্রমিক আন্দোলনে যদি ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটে, এর দায়ভার সরকারের: নাহিদ ইসলাম তাজউদ্দীন আহমদের ডায়েরি: ঐতিহাসিকতা ও রাজনৈতিকতা বিজেপি নেতাদের আপত্তিতে সরানো হলো দিয়া মির্জার ভিডিওটি, আদালতের অসন্তোষ ‘ওর বাবা ডিন হলে আমাদের বাবা কি রিকশাওয়ালা’ রামানুজনের একটি সূত্র থেকে মিলল অসীমসংখ্যক নতুন সূত্রের সন্ধান রাকিবুলের জিপিএ-৫ পাওয়ার খবরে শোক বাড়ল পরিবারে বাংলালিংকের অ্যাপের নতুন রূপ মুক্ত

বাসে পাশে একজন বসতেই অচেতন হন রিদয়ন, নয় দিন পর ফেলে যাওয়া হয় মির্জাপুরে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বড় বোনের বাসা থেকে ফেরার পথে বাসে উঠেছিলেন। উত্তরার আজমপুরে বাসটি পৌঁছাতেই পাশে এসে বসেন মাস্ক পরা এক ব্যক্তি। এর পরপরই অচেতন হয়ে পড়েন রিদয়ন আনসারী (২৫)। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে খুঁজে পান এক অন্ধকার ঘরে, হাত ও চোখ বাঁধা। এভাবেই কেটেছে টানা নয় দিন। আজ মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তাঁকে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মৃত আবদুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে রিদয়ন। পরিবারের সঙ্গে থাকেন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে। সেখানে একটি কলেজে বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করেন তিনি।

পরিবার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন রিদয়ন। ঢাকায় নেমে আবদুল্লাহপুর থেকে ‘প্রভাতী বনশ্রী’ বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি উত্তরার আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি তাঁর পাশে এসে বসেন। এর পরপরই জ্ঞান হারান তিনি। পরে অপহরণকারীরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

.

পরদিন ২৫ অক্টোবর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীকে কল করে ভাইকে জীবিত ফেরত দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দিশাহারা স্বজনেরা অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পেয়েও রিদয়নকে ছাড়েনি চক্রটি, বরং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

.

আজ মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেট কার থেকে সড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় তিনি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছান। পরে নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

.

ওই দিনই রিদয়নের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এসআরবি–৩–এর (খিলগাঁও ক্যাম্প) কোম্পানি কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। গত রোববার রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে রিদয়নকে উদ্ধারের দাবিতে ঘিওরের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন তাঁর স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

.

পরিবার জানায়, আজ ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেট কার থেকে সড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় তিনি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছান। পরে নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

.

রিদয়নকে সারা দিনে একবারই খাবার দেওয়া হতো। সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। তাঁর মুঠোফোন, ই–মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড নিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

শাহরিয়ার আনসারী, রিদয়নের বড় ভাই

.

অপহরণকারীরা রিদয়নকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল বলে দাবি করেন ভাই শাহরিয়ার আনসারী। তিনি বলেন, রিদয়নকে সারা দিনে একবারই খাবার দেওয়া হতো। সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। এ ছাড়া তাঁর মুঠোফোন, ই–মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড নিয়ে নিয়েছে চক্রটি। টানা নয় দিন বন্দী থাকায় রিদয়ন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।

অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক। অপহরণ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

বাসে পাশে একজন বসতেই অচেতন হন রিদয়ন, নয় দিন পর ফেলে যাওয়া হয় মির্জাপুরে

আপডেট সময় : ০৫:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বড় বোনের বাসা থেকে ফেরার পথে বাসে উঠেছিলেন। উত্তরার আজমপুরে বাসটি পৌঁছাতেই পাশে এসে বসেন মাস্ক পরা এক ব্যক্তি। এর পরপরই অচেতন হয়ে পড়েন রিদয়ন আনসারী (২৫)। জ্ঞান ফেরার পর নিজেকে খুঁজে পান এক অন্ধকার ঘরে, হাত ও চোখ বাঁধা। এভাবেই কেটেছে টানা নয় দিন। আজ মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে তাঁকে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা।

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার মৃত আবদুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে রিদয়ন। পরিবারের সঙ্গে থাকেন রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে। সেখানে একটি কলেজে বিবিএ পড়ার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে অস্থায়ী ভিত্তিতে চাকরি করেন তিনি।

পরিবার ও গাজীপুরের কালিয়াকৈর থানার পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে কালিয়াকৈরের সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা দেন রিদয়ন। ঢাকায় নেমে আবদুল্লাহপুর থেকে ‘প্রভাতী বনশ্রী’ বাসে ওঠেন তিনি। বাসটি উত্তরার আজমপুর এলাকায় পৌঁছালে মাস্ক পরা এক ব্যক্তি তাঁর পাশে এসে বসেন। এর পরপরই জ্ঞান হারান তিনি। পরে অপহরণকারীরা তাঁকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়।

.

পরদিন ২৫ অক্টোবর একটি অপরিচিত নম্বর থেকে রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারীকে কল করে ভাইকে জীবিত ফেরত দিতে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। দিশাহারা স্বজনেরা অপহরণকারীদের দেওয়া মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে ৪০ হাজার টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পেয়েও রিদয়নকে ছাড়েনি চক্রটি, বরং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়।

.

আজ মঙ্গলবার ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেট কার থেকে সড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় তিনি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছান। পরে নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

.

ওই দিনই রিদয়নের খালাতো ভাই ফয়সল মাহমুদ কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে এসআরবি–৩–এর (খিলগাঁও ক্যাম্প) কোম্পানি কমান্ডারের কাছে লিখিত অভিযোগও দেওয়া হয়। গত রোববার রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী কালিয়াকৈর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে অপহরণ মামলা করেন।

গতকাল সোমবার দুপুরে রিদয়নকে উদ্ধারের দাবিতে ঘিওরের বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেন তাঁর স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।

.

পরিবার জানায়, আজ ভোরে টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে একটি প্রাইভেট কার থেকে সড়কের পাশে চোখ বাঁধা অবস্থায় রিদয়নকে ফেলে দিয়ে যায় অপহরণকারীরা। সেখান থেকে এক ট্রাকচালকের সহায়তায় তিনি সাভারের নবীনগর এলাকায় পৌঁছান। পরে নবীনগরে জাতীয় স্মৃতিসৌধের সামনে থেকে স্বজনেরা তাঁকে উদ্ধার করেন।

.

রিদয়নকে সারা দিনে একবারই খাবার দেওয়া হতো। সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। তাঁর মুঠোফোন, ই–মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড নিয়ে নিয়েছে চক্রটি।

শাহরিয়ার আনসারী, রিদয়নের বড় ভাই

.

অপহরণকারীরা রিদয়নকে একটি অন্ধকার ঘরে আটকে রেখেছিল বলে দাবি করেন ভাই শাহরিয়ার আনসারী। তিনি বলেন, রিদয়নকে সারা দিনে একবারই খাবার দেওয়া হতো। সারাক্ষণ তাঁর হাত ও চোখ বাঁধা থাকত। এ ছাড়া তাঁর মুঠোফোন, ই–মেইল, মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের সব পাসওয়ার্ড নিয়ে নিয়েছে চক্রটি। টানা নয় দিন বন্দী থাকায় রিদয়ন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তাঁকে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হবে।

অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে বলে জানান কালিয়াকৈর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক। অপহরণ চক্রের সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।