ঢাকা ০৮:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::

বিজেপি নেতাদের আপত্তিতে সরানো হলো দিয়া মির্জার ভিডিওটি, আদালতের অসন্তোষ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদ্‌যাপনের প্রচারণামূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ঘটনা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী এবং অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি জি এস কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোকালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তিকে উৎসব উদ্‌যাপন বা পরিবেশ সুরক্ষার সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়াও উচিত নয়।
মুম্বাইয়ের বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) পরিবেশবান্ধব দীপাবলি প্রচারণার অংশ হিসেবে ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন দিয়া মির্জা। কিন্তু বিজেপি নেতাদের আপত্তির পর গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেয় বিএমসি।

.

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, দিয়া মির্জার ভিডিওতে সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা ছিল। দূষণ কমানো ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত। এক-দুজনের আপত্তির কারণে এমন একটি ভিডিও সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি।

আদালত আরও বলেন, ‘আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বাস করি না? একজন মানুষ সচেতনতা তৈরির প্রচারে অংশ নিলে তাঁকে কেন আলাদা করে নিশানা করা হবে?’ একই সঙ্গে বিএমসির কমিশনারকে ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান বেঞ্চ।

এর আগে মুম্বাইয়ের বিজেপি প্রধান অশ্বিনী ভিডে মন্তব্য করেছিলেন, দীপাবলি কীভাবে উদ্‌যাপন করতে হবে, সে বিষয়ে দিয়া মির্জার কাছ থেকে তাঁদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে অভিনেত্রীকে ‘হিন্দুবিরোধী’ আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, দিয়া সব সময় বিভাজন সৃষ্টিকারীদের পক্ষ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

.

এদিকে ভিডিও সরানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে বিএমসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মুম্বাই কংগ্রেসের সভাপতি বর্ষা গায়কোয়াড়ের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে দাবি করেছেন, পরিবেশ সুরক্ষার নামে শুধু হিন্দু উৎসবকে নিশানা করা হচ্ছে।
বিতর্কের মধ্য দিয়া মির্জা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বিএমসির এই প্রচারণার ভিডিও তৈরির জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি। ভালো কাজের কদর করার সময়ই যেন আর নেই।’

.সাহসী দৃশ্যে বিতর্ক থেকে প্রেমের জন্য ঘরছাড়া, সিনেমার মতোই তাঁর জীবন.

পরে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেত্রী বলেন, বম্বে হাইকোর্ট ও বিএমসির জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনি ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন। বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই দূষণ কমানোর সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত।

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আতশবাজি পোড়ানোর বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার পরই বিএমসি নাগরিকদের পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদ্‌যাপনে উৎসাহিত করতে প্রচার শুরু করে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

বিজেপি নেতাদের আপত্তিতে সরানো হলো দিয়া মির্জার ভিডিওটি, আদালতের অসন্তোষ

আপডেট সময় : ০৭:২০:০৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬

বলিউড অভিনেত্রী দিয়া মির্জার পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদ্‌যাপনের প্রচারণামূলক ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, এ ঘটনা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ চেতনার পরিপন্থী এবং অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।

আজ মঙ্গলবার বিচারপতি জি এস কুলকার্নি ও বিচারপতি নীলা গোকালের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের একটি বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন। আদালত বলেন, কোনো ব্যক্তিকে উৎসব উদ্‌যাপন বা পরিবেশ সুরক্ষার সচেতনতামূলক প্রচারে অংশ নেওয়া থেকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। পরিবেশ রক্ষার উদ্যোগকে সাম্প্রদায়িক রং দেওয়াও উচিত নয়।
মুম্বাইয়ের বৃহন্মুম্বাই মিউনিসিপ্যাল করপোরেশনের (বিএমসি) পরিবেশবান্ধব দীপাবলি প্রচারণার অংশ হিসেবে ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন দিয়া মির্জা। কিন্তু বিজেপি নেতাদের আপত্তির পর গত রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে ভিডিওটি সরিয়ে নেয় বিএমসি।

.

এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে আদালত বলেন, দিয়া মির্জার ভিডিওতে সমাজের জন্য ইতিবাচক বার্তা ছিল। দূষণ কমানো ও জনস্বাস্থ্য রক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সচেতনতা তৈরির প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত। এক-দুজনের আপত্তির কারণে এমন একটি ভিডিও সরিয়ে নেওয়া ঠিক হয়নি।

আদালত আরও বলেন, ‘আমরা কি ধর্মনিরপেক্ষ দেশে বাস করি না? একজন মানুষ সচেতনতা তৈরির প্রচারে অংশ নিলে তাঁকে কেন আলাদা করে নিশানা করা হবে?’ একই সঙ্গে বিএমসির কমিশনারকে ভিডিওটি আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের নির্দেশনা দেওয়ার কথাও জানান বেঞ্চ।

এর আগে মুম্বাইয়ের বিজেপি প্রধান অশ্বিনী ভিডে মন্তব্য করেছিলেন, দীপাবলি কীভাবে উদ্‌যাপন করতে হবে, সে বিষয়ে দিয়া মির্জার কাছ থেকে তাঁদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই। পরে মুম্বাইয়ের মেয়র ঋতু তাওড়ে অভিনেত্রীকে ‘হিন্দুবিরোধী’ আখ্যা দেন। তাঁর অভিযোগ, দিয়া সব সময় বিভাজন সৃষ্টিকারীদের পক্ষ নেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে নিয়েও সমালোচনা করেছেন।

.

এদিকে ভিডিও সরানোর ঘটনায় রাজনৈতিক মহলেও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিরোধী শিবসেনা (ইউবিটি) নেতা আদিত্য ঠাকরে বিএমসির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। মুম্বাই কংগ্রেসের সভাপতি বর্ষা গায়কোয়াড়ের অভিযোগ, বিজেপি ইচ্ছাকৃতভাবে ধর্মীয় উত্তেজনা তৈরির চেষ্টা করছে। অন্যদিকে বিজেপি নেতা ও মন্ত্রী নীতেশ রানে দাবি করেছেন, পরিবেশ সুরক্ষার নামে শুধু হিন্দু উৎসবকে নিশানা করা হচ্ছে।
বিতর্কের মধ্য দিয়া মির্জা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, বিএমসির এই প্রচারণার ভিডিও তৈরির জন্য তিনি কোনো পারিশ্রমিক নেননি। তাঁর ভাষায়, ‘আমি কোনো টাকা নিইনি। ভালো কাজের কদর করার সময়ই যেন আর নেই।’

.সাহসী দৃশ্যে বিতর্ক থেকে প্রেমের জন্য ঘরছাড়া, সিনেমার মতোই তাঁর জীবন.

পরে সংবাদ সংস্থা এএনআইকে দেওয়া বক্তব্যে অভিনেত্রী বলেন, বম্বে হাইকোর্ট ও বিএমসির জনস্বার্থমূলক উদ্যোগের অংশ হিসেবেই তিনি ভিডিওটি তৈরি করেছিলেন। বায়ুদূষণ জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। তাই দূষণ কমানোর সব প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানানো উচিত।

উল্লেখ্য, মহারাষ্ট্রে বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে আতশবাজি পোড়ানোর বিষয়ে বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন বম্বে হাইকোর্ট। সেই নির্দেশনার পরই বিএমসি নাগরিকদের পরিবেশবান্ধব দীপাবলি উদ্‌যাপনে উৎসাহিত করতে প্রচার শুরু করে।

হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে