এমবাপ্পের ওপর ক্ষোভ কেন, জিজ্ঞেস করেও জানতে পারছেন না চীনারা
- আপডেট সময় : ০১:৪২:০৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

কিলিয়ান এমবাপ্পে কী এমন বললেন, যাতে চীন এত ক্ষুব্ধ? প্রশ্নটা সহজ। কিন্তু চীনের ইন্টারনেটে এর উত্তর খুঁজতে গেলেই বিপত্তি। কেউ প্রশ্ন করছেন, কেউ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে উত্তর খুঁজছেন। আবার কেউ উত্তর দিতে গিয়ে এমন সব সাংকেতিক ভাষার আশ্রয় নিচ্ছেন, যেন ফুটবল নিয়ে নয়, কথা বলছেন কোনো গোপন রাষ্ট্রীয় অভিযানের বিষয়ে!
এরই মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদের ফরোয়ার্ডের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে একাধিক চীনা ব্র্যান্ড। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না মিডিয়া গ্রুপ স্থগিত করেছে লা লিগার সম্প্রচার। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, চীনা জনগণের অনুভূতিতে আঘাত করে এমন কথা ও কাজের বিরুদ্ধে সমাজের সব মহল একজোট হবে। কিন্তু এত কিছুর পরও চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে খুঁজে ফিরছেন একটি প্রশ্নের উত্তর, এমবাপ্পে আসলে কী বলেছিলেন?
.
সোমবার ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এমবাপ্পে। সেদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয় একটি মিম। এক সাক্ষাৎকারে নিজের সবচেয়ে মজার মিম সম্পর্কে বলতে গিয়ে এমবাপ্পে জানান, তাঁর ভালো লেগেছিল এমন একটি ভিডিও, যেখানে তাঁর মুখ বসানো হয়েছিল একজন ‘চীনা স্বৈরশাসকের’ শরীরে। কথাটি বলার সময় পর্দায় ভেসে ওঠে চীনের সাবেক নেতা মাও সে-তুংয়ের অবয়ব।
.
চীনে মাও সে–তুংকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁর শাসনামলে নেওয়া বিভিন্ন নীতির কারণে লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। তবে চীনে তাঁকে নিয়ে প্রকাশ্যে বিদ্রূপ করা প্রায় নিষিদ্ধ বিষয়।
এমবাপ্পের ভিডিওটি অবশ্য কয়েক মাস আগের। কিন্তু এবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তেই চীনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একে একে সরে যায় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো। বন্ধ হয়ে যায় লা লিগার সম্প্রচার। এমবাপ্পে ও তাঁর ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদকেও ক্ষমা চাইতে হয়।
.স্যান্ডউইচের গোল রুটি থেকে মাও সে–তুং, এমবাপ্পের ‘ডিক্টেটর’ মিমে চীন–স্পেন সম্পর্কে ঝড়.
কিন্তু চীনে থাকা অনেকেই এসব প্রতিক্রিয়ার কথা জানতে পারলেও ঠিক কোন কথায় এত কিছু ঘটে গেল, সেটি বুঝতে পারছেন না। বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ওয়েইবোতে অনেকে জানতে চাইছেন, এমবাপ্পে আসলে কী বলেছেন?
চীনের ইন্টারনেট জগতে বাইরের বিশ্বের তথ্যের প্রবেশাধিকার কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত। ফলে এমবাপ্পেকে নিয়ে তুমুল আলোচনা চললেও সেই আলোচনার সূত্রপাত কীভাবে, তা অনেকেরই অজানা।
আবার যাঁরা জানেন, তাঁরাও ঠিকঠাক উত্তর দিতে পারছেন না। আর তখনই শুরু হয়েছে সাংকেতিক ভাষার ব্যবহার। মাওয়ের নাম সরাসরি না বলে কেউ তাঁকে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছেন ‘১০০ ইউয়ানের নোটে থাকা ব্যক্তি’ হিসেবে। কেউ বলছেন, ‘শিক্ষক’। মাও নিজেও একসময় এই উপাধি ব্যবহার করতেন।
.
ছবি বা ভিডিও ভাগাভাগির ক্ষেত্রেও একই কৌশল। মিমের কিছু অংশ ঝাপসা করে দেওয়া হচ্ছে। কোথাও ঢেকে দেওয়া হচ্ছে এমবাপ্পের মুখ, কোথাও বাদ পড়ছে ‘স্বৈরশাসক’ শব্দটি। মূল বিষয়টি বোঝানোর চেষ্টা আছে, কিন্তু সেটি যেন পুরোপুরি দেখানো বা বলার উপায় নেই। ভাবটা এমন, ঘটনাটা কী, তা আপনাকে জানাতে চাই। কিন্তু ঠিক কী ঘটেছে, সেটি বলার সময় একটু সাবধানে থাকতে হবে!
কেউ কেউ আবার ঘটনার মূল কারণ জানতে দ্বারস্থ হয়েছেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার। কিন্তু সেখানেও খুব একটা লাভ হয়নি। চীনে ব্যবহৃত এআই চ্যাটবটগুলোও দেশটির ইন্টারনেটের মতোই নিয়ন্ত্রণের আওতায়। মজার বিষয় হলো, শুধু সাধারণ ব্যবহারকারীরাই নন, এমবাপ্পের মন্তব্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতেও কেউ মাওয়ের নাম উল্লেখ করেননি। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বক্তব্য কিংবা এমবাপ্পে, রিয়াল মাদ্রিদ ও লা লিগার ক্ষমা প্রার্থনা, কোনোটিতেই তাঁর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
এ যেন রাগটা ষোলো আনা, কিন্তু কারণটা বলার উপায় নেই।
.এমবাপ্পে ও রিয়াল মাদ্রিদের ক্ষমাপ্রার্থনায়ও মন গলছে না চীনের

























