সমর্থকদেরই শাস্তি দিল বার্সেলোনা, বন্ধ থাকবে গ্যালারি
- আপডেট সময় : ০৯:৩৪:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ফুটবল মাঠে সমর্থকেরাই দলের দ্বাদশ খেলোয়াড়। গ্যালারি থেকে তাঁদের গর্জন কখনো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে, কখনো নিজেদের খেলোয়াড়দের বাড়তি শক্তি জোগায়। কিন্তু সেই সমর্থকেরাই যখন সীমা ছাড়িয়ে যান, তখন বিপদে পড়ে তাঁদের প্রিয় ক্লাব।
বার্সেলোনার ক্ষেত্রে এখন সেটাই হয়েছে। এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছে হারের ক্ষত এখনো শুকায়নি। এর মধ্যেই নিজেদের সমর্থকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হলো কাতালান ক্লাবটিকে।
গত রোববার রিয়াল মাদ্রিদের বিপক্ষে ম্যাচে সমর্থকদের অসদাচরণের জেরে ‘গোল ১৯৫৭’ নামের সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠীগুলোকে সাময়িক নিষিদ্ধ করেছে বার্সেলোনা। আগামী রোববার লা লিগায় আলাভেসের বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচে ক্যাম্প ন্যুর ‘গ্রাদা দ’আনিমাসিওন’ নামের সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত গ্যালারি বন্ধ থাকবে।
.
কেন এমন কঠোর সিদ্ধান্ত? রোববারের এল ক্লাসিকোয় বার্সেলোনা সমর্থকদের বিরুদ্ধে ১০টি শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে লা লিগা। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগটি রিয়াল মাদ্রিদের মিডফিল্ডার এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গাকে ঘিরে। রিয়ালের জয়সূচক গোলের পর গ্যালারির ওই অংশে থাকা এক সমর্থক পতাকা দিয়ে কামাভিঙ্গাকে আঘাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। শুধু তা-ই নয়, রিয়ালের কোচ জোসে মরিনিও এবং দলটির বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডার মার্ক কুকুরেয়াকে উদ্দেশ করে অপমানজনক মন্তব্যও করেছেন বার্সেলোনার সমর্থকেরা। কুকুরেয়া একসময় বার্সেলোনার যুবদলে খেলেছেন।
.
এসব ঘটনা লা লিগার শৃঙ্খলা কমিটির কাছে জানানো হয়েছে। বার্সেলোনা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ‘খেলাধুলার মূল্যবোধের পরিপন্থী আচরণের কারণে ক্লাব ও এর কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে একাধিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের আচরণের কারণে ক্লাবকে আর্থিক জরিমানা দিতে হতে পারে। এমনকি স্টেডিয়াম বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকিও রয়েছে। পাশাপাশি এতে ক্লাবের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
.আলভারেজ–কাণ্ডে ৮৩ হাজার টাকা জরিমানা বার্সেলোনার, তবু আপিল করবে ক্লাবটি.
তবে সমর্থকদের জন্য দরজা একেবারে বন্ধ করে দিচ্ছে না বার্সেলোনা। ক্লাব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমস্যা সমাধানে ‘গোল ১৯৫৭’–এর প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। উদ্দেশ্য, আগামী ৩ নভেম্বর চ্যাম্পিয়নস লিগে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ঘরের মাঠের ম্যাচেই যেন তাঁরা গ্যালারিতে ফিরতে পারেন।
‘গোল ১৯৫৭’ নামটির সঙ্গে জড়িয়ে আছে বার্সেলোনার ইতিহাস। ১৯৫৭ সালে প্রথম উদ্বোধন করা হয়েছিল ক্যাম্প ন্যু। সেই বছরটিকে স্মরণ করেই সমর্থকদের এই অংশের নামকরণ। স্টেডিয়ামের দক্ষিণ গ্যালারির নিচের অংশটি সংগঠিত সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর জন্য নির্ধারিত। চলতি বছরের মার্চে প্রথম এই ব্যবস্থা চালু হয়। শুরুতে সেখানে ৮০০ সমর্থকের জায়গা রাখা হয়েছিল।
.
সমর্থকদের আচরণের কারণে গ্যালারি বন্ধের ঘটনা বার্সেলোনায় নতুন নয়। ২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্যাম্প ন্যুর সংস্কারকাজ চলছিল। তখন বার্সেলোনার ঘরের মাঠ ছিল এস্তাদি অলিম্পিক লুইস কোম্পানিস। সমর্থকদের অসদাচরণের কারণে জরিমানার ঘটনায় সেখানকার ‘এসপাই দ’আনিমাসিও’ নামের সমর্থকদের জন্য নির্ধারিত অংশ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল ক্লাবটি।
সেবার বার্সেলোনা জানিয়েছিল, ক্লাবের সঙ্গে সমর্থকগোষ্ঠীগুলোর চুক্তির শর্ত পূরণ না করায় ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এবারের ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন মাঠের পারফরম্যান্স নিয়েও চাপে আছে বার্সেলোনা। চ্যাম্পিয়নস লিগে পিএসজির কাছে হারের পর এল ক্লাসিকোয় রিয়াল মাদ্রিদের কাছেও হেরেছে হান্সি ফ্লিকের দল। লা লিগায় অবশ্য এখনো শীর্ষে আছে।
.এল ক্লাসিকোয় হার: পেদ্রি বললেন বোকামির মাশুল, ফ্লিকের চোখে ক্লান্তি























