টুথপেস্ট আবিষ্কারের আগে মানুষ যেসব বিচিত্র জিনিস দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করত
- আপডেট সময় : ০৭:২৮:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

তুমি কি কখনো লবণ, গোলমরিচ, নিমের ডাল বা পোড়া ছাই দিয়ে দাঁত মেজেছ? টিউবের টুথপেস্ট ব্যবহার করতে অভ্যস্ত হলে এই কথাগুলো শুনলে অদ্ভুত বা অস্বস্তিকর মনে হতে পারে। তবে শত শত বছর ধরে মানুষ মুখ পরিষ্কার রাখতে এ ধরনের পদ্ধতিই ব্যবহার করে এসেছে। আর সেগুলোর কাজ আজকের দোকান থেকে কিনে আনা টুথপেস্টের চেয়ে খুব একটা আলাদা ছিল না।
পুরোনো দিনের টুথপেস্টে লবণ বা ছাইয়ের মতো খসখসে বা ঘর্ষণকারী উপাদান থাকত, যা ঘষে দাঁতের ময়লা দূর করতে সাহায্য করত। বর্তমানের বাজারে পাওয়া টুথপেস্টেও এমন উপাদান থাকে। তবে আধুনিক টুথপেস্টে ডিমের খোসা গুঁড়া বা পিউমিস পাথরের মতো ক্ষতিকর উপাদানের বদলে হাইড্রেটেড সিলিকার মতো উপাদান ব্যবহার করা হয়, যা দাঁতের জন্য অনেক বেশি নিরাপদ। তবে টুথব্রাশের ইতিহাস জানার আগে জানা দরকার টুথপেস্ট কীভাবে কাজ করে।
.চিনি যদি দাঁতের জন্য খারাপ হয়, তাহলে টুথপেস্ট মিষ্টি কেন.
টুথপেস্ট কীভাবে কাজ করে?
টুথপেস্ট মুখ সতেজ ও পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করে। দিনে দুবার ব্রাশ করলে এটি দাঁতে গর্ত বা ক্যাভিটি হওয়া রোধ করতেও দারুণ ভূমিকা রাখে।
আমরা যখন টুথপেস্ট দিয়ে দাঁত মাজি, তখন এর উপাদানগুলো লালার সঙ্গে মিশে সাবানের মতো ফেনা তৈরি করে। এই ফেনা মুখের ভেতরের পিচ্ছিল ভাব বাড়ায়, যা পরে থুতুর সঙ্গে আমরা ফেলে দিই।
টুথপেস্টে কিছুটা খসখসে ভাব থাকে, যা দাঁতের দাগ দূর করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া দাঁতে জমে থাকা আঠালো ও নরম সাদা আস্তরণ যাকে ‘প্ল্যাক’ বলা হয়, তা পরিষ্কার করতেও এটি সাহায্য করে।
প্ল্যাক এবং ব্যাকটেরিয়ার খেলা
খাবারের আঠালো কণা ও জীবাণু বা ব্যাকটেরিয়া মিলে প্ল্যাক তৈরি হয়। মুখের ভেতর বাস করা কিছু ব্যাকটেরিয়া মিষ্টি খাবার খেতে খুব পছন্দ করে। আবার কিছু ব্যাকটেরিয়া পচা ডিমের মতো গন্ধযুক্ত গ্যাস তৈরি করে, যা মুখের দুর্গন্ধের জন্য দায়ী।
শুধু তা–ই নয়, এই ব্যাকটেরিয়াগুলো এক ধরনের অ্যাসিডযুক্ত বর্জ্য পদার্থ ছড়ায়, যা দাঁত ক্ষয় করে গর্ত তৈরি করে। এই কারণেই ব্যাকটেরিয়া ও ক্ষতিকর বর্জ্য দূর করতে দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করা দরকার।
.চুল দিয়ে তৈরি হলো টুথপেস্ট, দাঁত আর ক্ষয় হবে না.
দাঁত পরিষ্কারের প্রাচীন ইতিহাস
দাঁতের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ইতিহাস কয়েক হাজার বছরের পুরোনো। এখনকার দিনে আমরা নিয়মিত দিনে দুবার দাঁত ব্রাশ করলেও প্রাচীনকালের মানুষদের জন্য দাঁতের যত্ন নেওয়া বেশ কঠিন ছিল। দুঃখের বিষয় হলো, সেকালের অনেক পদ্ধতিই কার্যকর ছিল না। ফলে প্রাচীন কঙ্কালগুলোতে দাঁতের ক্ষয় ও মাড়ির রোগের লক্ষণ বেশি দেখা যায়। তবে এত কিছুর পরও প্রমাণ মিলেছে তাঁরা অন্তত দাঁত পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতেন।
দাঁতের যত্নের সবচেয়ে পুরোনো নিদর্শন পাওয়া যায় ক্রোয়েশিয়ার একটি গুহায়। সেখানে ১ লাখ ৩০ হাজার বছর পুরোনো দাঁতে বারবার টুথপিক ব্যবহারের দাগ পাওয়া গেছে। যদিও সে সময় কোনো টুথপিক বা কাঠি পাওয়া যায়নি, তবে গবেষকদের ধারণা, তাঁরা দাঁতের ফাঁকা থেকে খাবার বের করতে হাড় বা শক্ত ঘাসের টুকরা ব্যবহার করতেন।
.
সময়টা প্রায় ১৪ হাজার বছর আগের। ইতালির একটি পাথরের গুহায় খোঁজ মেলে ইতিহাসের প্রথম জানা ডেন্টাল রোগীর। নষ্ট হয়ে যাওয়া একটি দাঁত বা দাঁতের ভেতরের অংশ পরিষ্কার করতে সে সময় ধারালো পাথরের কোনো অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল বলে প্রমাণ পাওয়া যায়।
এর প্রায় ৫০০০ খ্রিষ্টপূর্বের দিকে প্রাচীন মিসরীয়রা বিশ্বের সবচেয়ে পুরোনো টুথপেস্ট তৈরি করে। দাঁতের পাউডারের মতো সেই মিশ্রণে পোড়া গরুর খুর, ডিমের খোসা, গন্ধরস এবং পিউমিস পাথরের ছাইয়ের মতো উপাদান থাকত। এগুলো দাঁতের জন্য বেশ খসখসে হলেও ময়লা দূর করতে সাহায্য করত।
এরপর পারস্যের মানুষেরা এর সঙ্গে পোড়া শামুক ও ঝিনুকের খোসা, নানা রকম ভেষজ এবং মধু মিশিয়ে নেয়। আর রোমানরা মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে এর সঙ্গে কাঠকয়লা ও গাছের ছাল ব্যবহার শুরু করে।
.চুল দিয়ে তৈরি হলো টুথপেস্ট, দাঁত আর ক্ষয় হবে না.
প্রাচীন টুথব্রাশের ইতিহাস
প্রাচীন মিসর ও ব্যাবিলনের সমাধিগুলোতে সবচেয়ে পুরোনো টুথব্রাশের নিদর্শন পাওয়া গেছে, যেগুলোর সময়কাল প্রায় খ্রিষ্টপূর্ব ৩৫০০ অব্দ। তবে এগুলো আজকের আধুনিক টুথব্রাশের মতো ছিল না। এগুলো ছিল গাছের ছোট ডাল, যা চিবানোর ফলে আঁশগুলো আলাদা হয়ে ব্রাশের রূপ নিত এবং তা দিয়ে দাঁত পরিষ্কার করা হতো।
বিষয়টি আদিম মনে হতে পারে, তবে ডালগুলো সংগ্রহ করা হতো নিমগাছের মতো বিশেষ কিছু গাছ থেকে। এই গাছগুলোর প্রাকৃতিক জীবাণুনাশক গুণ রয়েছে, যা দাঁতের ক্ষতি ও মাড়ির রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়া দূর করতে সাহায্য করে। এ কারণে এশিয়ার অনেক দেশ ও মধ্যপ্রাচ্যে আজও মুখের যত্ন নিতে এসব গাছের ডাল ব্যবহার করা হয়।
অন্যদিকে, বর্তমানের টুথব্রাশের কাছাকাছি ধারণার প্রথম টুথব্রাশ তৈরি হয়েছিল চীনে, ট্যাং রাজবংশের শাসনামলে সপ্তম থেকে দশম শতাব্দীর মধ্যে। বাঁশ বা হাড়ের তৈরি হাতলের মাথায় প্রাণীর লোম লাগিয়ে সেই ব্রাশ তৈরি করা হয়েছিল। তবে আধুনিক টুথব্রাশের মতো এগুলো খুব একটা কাজের ছিল না। তা ছাড়া প্রাণীর লোম দিয়ে দাঁত মাজার বিষয়টি অনেকের কাছেই বেশ অপছন্দের হওয়ায় এগুলো খুব একটা জনপ্রিয়তা পায়নি।
সূত্র: ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক, সিএনএন, আইএফএল সায়েন্স, দ্য কনভার্সেশন
.ব্রাশ করার পর কমলার জুস বিস্বাদ লাগে কেন

























