ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
হাসপাতাল পরিদর্শনে গিয়ে পাননি পাঁচ চিকিৎসককে, ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প সুন্দরগঞ্জে ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার গাজায় নিজের সেনাসন্তান নিহত হওয়াতেই কি রাজনীতিতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন আইজেনকট বাংলাদেশের শিক্ষক থেকে যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থী, আমার অভিজ্ঞতা পাখি তো আকাশেই সুন্দর রংপুরে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকের পেছনে বাসের ধাক্কা, তিনজন নিহত মালয়েশিয়া যেতে ইচ্ছুক কর্মীদের মেডিক্যাল পরীক্ষা ৩১ অক্টোবর থেকে শুরু অফিস থেকে হেঁটে বাসায় যাচ্ছিলেন যুবক, ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে নিহত গুলশান-বনানীর পাঠকদের হাতের নাগালে বইয়ের সম্ভার

মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

একই অঙ্গরাজ্যে পরপর দুই দিনে দুই প্রেসিডেন্ট। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে গত শনিবার প্রচারে নামেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পরদিন এই অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হুরনে রিপাবলিকানদের জন্য ভোট চাইলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁদের এই উপস্থিতিই বলে দেয়, রাজ্যটির লড়াই দুই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেমোক্রেটিক পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা ওবামা এসেছিলেন সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জোসলিন বেনসনের পক্ষে প্রচারে। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও দলের অন্য প্রার্থীদের জন্য সমর্থন আদায়। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্রাম্প ও ওবামা পরস্পরকে পছন্দ করেন না—এ কথা তাঁরা কেউই গোপন রাখেননি। গত শনি ও রোববারের প্রচারেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ওবামাকে ব্যর্থ ও অযোগ্য বলে আক্রমণ করলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি এল-সাইয়েদকে চিত্রিত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক এক ব্যক্তি হিসেবে। অন্যদিকে ওবামা বললেন, নাম ও ধর্মকে অস্ত্র করে কাউকে কম দেশপ্রেমিক বা কম আমেরিকান হিসেবে দেখানোর এই কৌশল পুরোনো।

.জরিপের ফলে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে, জরিপে কি ভুল হতে পারে.

নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে ওবামা বললেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমিও তাতে অভিনয় করেছি।’ তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ স্পষ্ট: একসময় তাঁর জন্মপরিচয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল; এখন আল-সাইয়েদের নাম ও মুসলিম পরিচয়কে একইভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পোর্ট হুরনের সভায় ট্রাম্প সরাসরি আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয়কে আক্রমণের লক্ষ্য করেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে জিহাদি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হিসেবে অভিহিত করেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মিশিগানেই জন্ম নেওয়া এই প্রার্থীর তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ভয়ের আরেকটি উপাদান ছিল ক্রিসমাস। তিনি দাবি করেন, আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদিদের ঢল নামবে এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ফলে পরিস্থিতি এমন হবে যে মানুষ ক্রিসমাসও উদ্‌যাপন করতে পারবে না। তাঁর কথায় ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী আতঙ্কে পরিণত করার চেষ্টা কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ পেয়েছে।

.রিপাবলিকানরা কি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, কেন ট্রাম্পের এত ভয়.

অন্যদিকে ডেট্রয়েটে ওবামা সামনে আনলেন ভিন্ন এক ছবি। মিশিগানের বর্তমান সিনেটর এলিসা স্লটকিন ইহুদি। তাঁর পাশে আল-সাইয়েদের মতো একজন মুসলিম সিনেটর থাকলে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বে একটি শক্তিশালী জুটি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একজন মুসলিম পুরুষ ও একজন ইহুদি নারী একই অঙ্গরাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন—বিভক্তির রাজনীতির বিপরীতে এই সম্ভাবনাই তুলে ধরলেন ওবামা।

অর্থনীতি নিয়েও দুই নেতার বক্তব্য বিপরীতমুখী। ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতি ও প্রশাসনের সাফল্যের পক্ষে সাফাই গাইলেন। ওবামা সামনে আনলেন কীভাবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনকালকে তিনি বর্ণনা করেন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির সময় হিসেবে। তাঁর আহ্বান, এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি জানাতে হবে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের মিশিগানের আসনটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের এই প্রতিযোগিতায় দুই দলই সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

.ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মানবেন.

তবে ওবামার সমর্থন পেলেই আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় না। ম্যারিস্টের ১৫-১৮ অক্টোবরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ৫০ শতাংশ, রজার্সের ৪৮ শতাংশ। ২ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার বা মার্জিন অব এররসের মধ্যে। অর্থাৎ লড়াই এখনো অনিশ্চিত; শেষ পর্যন্ত কার সমর্থকেরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে আসেন, সেটিই বড় প্রশ্ন।

এই লড়াইয়ের আরেকটি বড় উপাদান অর্থ। আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানপন্থী বাইরের সংগঠনগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকও আল-সাইয়েদের বিপক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বাছাই পর্বে তাঁকে ঠেকাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ডলার। তবে এই অর্থের লড়াইকে শুধু ‘ইহুদি লবি’র তৎপরতা বলা যথাযথ হবে না। ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের অনেক বড় খেলোয়াড়ই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হাত খুলে অর্থ খরচ করছেন। এক ইলন মাস্কের পকেট থেকেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার আসছে বলে নানা সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটা বড় অংশ ব্যয় হবে মিশিগান ও টেক্সাসে।

.যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বামমুখী হাওয়া.

আল-সাইয়েদের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রগতিশীল নেতারাও। কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেস তাঁর সমর্থনে একটি যৌথ তহবিলে ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও নিজের নির্বাচনী তহবিল থেকে তাঁর সমর্থনে ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছেন। এটি সভায় হাতে তুলে দেওয়া নগদ উপহার নয়; নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য তহবিলের অর্থ। আল-সাইয়েদ নিজেও তাঁর সমর্থকদের মাত্র এক ডলার করে চাঁদা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

মিশিগানে ওবামার উপস্থিতির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুফল অবশ্য অর্থ নয়, ভোটারদের উৎসাহ। দলের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি অনাগ্রহী সমর্থকদের, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটকেন্দ্রে টানতে এবং দলের ভেতরের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু জনসভার উচ্ছ্বাস আর ব্যালট বাক্সের ভোট এক নয়। ওবামা মঞ্চে আলো ফেলেছেন; সেই আলো কত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়, উত্তর মিলবে ৩ নভেম্বর।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

মিশিগানে আগের দিন ওবামা, পরদিন ট্রাম্প

আপডেট সময় : ০২:৪৮:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

একই অঙ্গরাজ্যে পরপর দুই দিনে দুই প্রেসিডেন্ট। মিশিগান অঙ্গরাজ্যের ডেট্রয়েটে ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে গত শনিবার প্রচারে নামেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। পরদিন এই অঙ্গরাজ্যের পোর্ট হুরনে রিপাবলিকানদের জন্য ভোট চাইলেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্বাচনের শেষ মুহূর্তে তাঁদের এই উপস্থিতিই বলে দেয়, রাজ্যটির লড়াই দুই দলের জন্য কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

ডেমোক্রেটিক পার্টির সবচেয়ে জনপ্রিয় তারকা ওবামা এসেছিলেন সিনেট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ ও গভর্নর প্রার্থী জোসলিন বেনসনের পক্ষে প্রচারে। ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী মাইক রজার্স ও দলের অন্য প্রার্থীদের জন্য সমর্থন আদায়। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে, তা নির্ধারণে মিশিগান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

ট্রাম্প ও ওবামা পরস্পরকে পছন্দ করেন না—এ কথা তাঁরা কেউই গোপন রাখেননি। গত শনি ও রোববারের প্রচারেও তার ব্যতিক্রম হলো না। ওবামাকে ব্যর্থ ও অযোগ্য বলে আক্রমণ করলেন ট্রাম্প। পাশাপাশি এল-সাইয়েদকে চিত্রিত করলেন যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক এক ব্যক্তি হিসেবে। অন্যদিকে ওবামা বললেন, নাম ও ধর্মকে অস্ত্র করে কাউকে কম দেশপ্রেমিক বা কম আমেরিকান হিসেবে দেখানোর এই কৌশল পুরোনো।

.জরিপের ফলে ডেমোক্র্যাটরা এগিয়ে, জরিপে কি ভুল হতে পারে.

নিজের অভিজ্ঞতার দিকে ইঙ্গিত করে ওবামা বললেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। আমিও তাতে অভিনয় করেছি।’ তাঁর বক্তব্যের মর্মার্থ স্পষ্ট: একসময় তাঁর জন্মপরিচয় নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল; এখন আল-সাইয়েদের নাম ও মুসলিম পরিচয়কে একইভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পোর্ট হুরনের সভায় ট্রাম্প সরাসরি আল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয়কে আক্রমণের লক্ষ্য করেন। কোনো প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে জিহাদি ও মুসলিম ব্রাদারহুডের সদস্য হিসেবে অভিহিত করেন। আল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। মিশিগানেই জন্ম নেওয়া এই প্রার্থীর তাঁর দেশপ্রেম নিয়ে প্রশ্ন তোলারও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

ট্রাম্পের বক্তব্যে ভয়ের আরেকটি উপাদান ছিল ক্রিসমাস। তিনি দাবি করেন, আল-সাইয়েদ ও ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রে জিহাদিদের ঢল নামবে এবং সহিংসতা ও সন্ত্রাসের ফলে পরিস্থিতি এমন হবে যে মানুষ ক্রিসমাসও উদ্‌যাপন করতে পারবে না। তাঁর কথায় ধর্মীয় পরিচয়কে নির্বাচনী আতঙ্কে পরিণত করার চেষ্টা কোনো রাখঢাক ছাড়াই প্রকাশ পেয়েছে।

.রিপাবলিকানরা কি কংগ্রেসে নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে, কেন ট্রাম্পের এত ভয়.

অন্যদিকে ডেট্রয়েটে ওবামা সামনে আনলেন ভিন্ন এক ছবি। মিশিগানের বর্তমান সিনেটর এলিসা স্লটকিন ইহুদি। তাঁর পাশে আল-সাইয়েদের মতো একজন মুসলিম সিনেটর থাকলে অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বে একটি শক্তিশালী জুটি তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি। একজন মুসলিম পুরুষ ও একজন ইহুদি নারী একই অঙ্গরাজ্যের মানুষের স্বার্থে কাজ করবেন—বিভক্তির রাজনীতির বিপরীতে এই সম্ভাবনাই তুলে ধরলেন ওবামা।

অর্থনীতি নিয়েও দুই নেতার বক্তব্য বিপরীতমুখী। ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতি ও প্রশাসনের সাফল্যের পক্ষে সাফাই গাইলেন। ওবামা সামনে আনলেন কীভাবে জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়, জ্বালানির দাম এবং আমদানি শুল্কের কারণে সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। ট্রাম্পের শাসনকালকে তিনি বর্ণনা করেন বিশৃঙ্খলা, নিষ্ঠুরতা ও দুর্নীতির সময় হিসেবে। তাঁর আহ্বান, এই নির্বাচনে ভোট দিয়ে সেই পরিস্থিতির পরিবর্তনের দাবি জানাতে হবে।

সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে হলে ডেমোক্র্যাটদের মিশিগানের আসনটি ধরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমান ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না। ফলে তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনের এই প্রতিযোগিতায় দুই দলই সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে।

.ট্রাম্প কি মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল মানবেন.

তবে ওবামার সমর্থন পেলেই আল-সাইয়েদের জয় নিশ্চিত হয়ে যায় না। ম্যারিস্টের ১৫-১৮ অক্টোবরের জরিপে সম্ভাব্য ভোটারদের মধ্যে তাঁর সমর্থন ৫০ শতাংশ, রজার্সের ৪৮ শতাংশ। ২ শতাংশ পয়েন্টের এই ব্যবধান জরিপের ত্রুটিসীমার বা মার্জিন অব এররসের মধ্যে। অর্থাৎ লড়াই এখনো অনিশ্চিত; শেষ পর্যন্ত কার সমর্থকেরা বেশি সংখ্যায় ভোট দিতে আসেন, সেটিই বড় প্রশ্ন।

এই লড়াইয়ের আরেকটি বড় উপাদান অর্থ। আল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে রিপাবলিকানপন্থী বাইরের সংগঠনগুলো বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। ইসরায়েলপন্থী লবিং সংগঠন আমেরিকান ইসরায়েল পাবলিক অ্যাফেয়ার্স কমিটি বা আইপ্যাকও আল-সাইয়েদের বিপক্ষে বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে। এর আগে বাছাই পর্বে তাঁকে ঠেকাতে ব্যয় হয়েছিল প্রায় ৭ কোটি ডলার। তবে এই অর্থের লড়াইকে শুধু ‘ইহুদি লবি’র তৎপরতা বলা যথাযথ হবে না। ট্রাম্পের ‘মাগা’ আন্দোলনের অনেক বড় খেলোয়াড়ই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে হাত খুলে অর্থ খরচ করছেন। এক ইলন মাস্কের পকেট থেকেই প্রায় ৪০ কোটি ডলার আসছে বলে নানা সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, যার একটা বড় অংশ ব্যয় হবে মিশিগান ও টেক্সাসে।

.যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচনে বামমুখী হাওয়া.

আল-সাইয়েদের পাশে আর্থিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়িয়েছেন প্রগতিশীল নেতারাও। কংগ্রেস সদস্য আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্তেস তাঁর সমর্থনে একটি যৌথ তহবিলে ১০ লাখ ডলার দিয়েছেন। সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্সও নিজের নির্বাচনী তহবিল থেকে তাঁর সমর্থনে ১০ লাখ ডলার সহায়তা দিয়েছেন। এটি সভায় হাতে তুলে দেওয়া নগদ উপহার নয়; নির্বাচনী লড়াইয়ে সহায়তার জন্য তহবিলের অর্থ। আল-সাইয়েদ নিজেও তাঁর সমর্থকদের মাত্র এক ডলার করে চাঁদা দেওয়ার অনুরোধ করেছেন।

মিশিগানে ওবামার উপস্থিতির সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য সুফল অবশ্য অর্থ নয়, ভোটারদের উৎসাহ। দলের পরিচিত মুখ হিসেবে তিনি অনাগ্রহী সমর্থকদের, বিশেষত আফ্রিকান-আমেরিকানদের ভোটকেন্দ্রে টানতে এবং দলের ভেতরের দূরত্ব কমাতে সাহায্য করতে পারেন। কিন্তু জনসভার উচ্ছ্বাস আর ব্যালট বাক্সের ভোট এক নয়। ওবামা মঞ্চে আলো ফেলেছেন; সেই আলো কত মানুষকে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছে দেয়, উত্তর মিলবে ৩ নভেম্বর।