‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যকে সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনার অনুরোধ বিপিএসএর
- আপডেট সময় : ০৮:১৪:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের দেওয়া বক্তব্যের পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ)। বিবৃতিতে আইজিপির বক্তব্যকে পুলিশের সক্ষমতা সুদৃঢ় করতে একটি সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করার অনুরোধ জানানো হয়।
বিবৃতিতে বিপিএসএ বলেছে, আইজিপির বক্তব্যকে প্রচলিত আইন ও বিধিবিধানের আলোকে বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁর বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো আইনের সীমার মধ্যে থেকে পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুলিশ সদস্যদের পেশাগত আত্মবিশ্বাস ও দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিশ্চিত করা।
.
বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন স্বাক্ষরিত এই বিবৃতি আজ গণমাধ্যমে পাঠানো হয়।
গতকাল সোমবার এক অনুষ্ঠানে আইজিপি বলেন, ‘যেখানে ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে, আমরা সেটাই করব।’ একই অনুষ্ঠানে তিনি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অর্থ না পেয়ে পুলিশের সমালোচনা করার অভিযোগও তোলেন। এই বক্তব্যের পর তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন আইজিপি। আজকে এক অনুষ্ঠানে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকিরের বক্তব্যকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘সরকার তো ক্রসফায়ার চায় না; বরং সরকার ক্রসফায়ারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স।’
.
এমন পরিস্থিতিতে বিপিএসএর দেওয়া বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সম্প্রতি দেশের পরিবর্তিত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব কালচার এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট-পরবর্তী প্রেক্ষাপটে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের আইন প্রয়োগে নানা প্রতিকূলতার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। পুলিশের আইনানুগ কঠোরতাকে একদিকে নেতিবাচকভাবে দেখা এবং অপর দিকে অপরাধ দমনে নিষ্ক্রিয়তাকে দুর্বলতা হিসেবে বিবেচনা করার প্রবণতা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করতে পারে।
দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের ওপর হামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে দায়িত্ব পালনকালে পুলিশ সদস্যদের ওপর ১৭৬টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় ৪ জন সদস্য নিহত এবং ৩৭০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। এ বাস্তবতা পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা ও তাঁদের জন্য উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরে। তাই পুলিশ সদস্যদের এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি, যেখানে তাঁরা আইন ও বিধিবিধান অনুসরণ করে নির্ভয়ে, নিরপেক্ষভাবে এবং পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
.ক্রসফায়ার যদি প্রয়োজন হয়, সরকার যদি অ্যালাউ করে আমরা সেটাই করব: আইজিপি.
পুলিশ দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুসরণ করে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সর্বদা অবিচল ও অঙ্গীকারবদ্ধ বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, অপরাধ দমনে পুলিশ যদি তার আইনগত ক্ষমতা প্রয়োগে অযথা দ্বিধাগ্রস্ত হয়, তবে অপরাধীরা উৎসাহিত হতে পারে। এতে দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও রাষ্ট্রব্যবস্থার কার্যকারিতা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আইজিপির বক্তব্যকে তাই জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় করার একটি সময়োপযোগী আহ্বান হিসেবে বিবেচনা করা যেতে পারে।
.‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর.
এদিকে আইজিপির বক্তব্যকে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের পক্ষে বিপজ্জনক বার্তা হিসেবে দেখছে মানবাধিকার ও নাগরিক সংগঠনগুলো। বক্তব্য প্রত্যাহার, সরকারের ব্যাখ্যা এবং আইজিপির জবাবদিহি দাবি করেছে তারা। নিন্দা জানিয়েছে কয়েকটি রাজনৈতিক দলও। সাংবাদিকদের সম্পর্কে বলা বক্তব্যের প্রতিবাদও জানিয়েছে সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
সমালোচনার মুখে গতকাল রাতে আইজিপির বক্তব্যের ব্যাখ্যা দেয় পুলিশ সদর দপ্তর। ব্যাখ্যায় বলা হয়, আইজিপি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে শাস্তি দেওয়ার অর্থে ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি ব্যবহার করেননি। আইন প্রয়োগের কঠোরতা বোঝাতে গিয়ে তিনি ক্রসফায়ার শব্দটি আক্ষরিক অর্থে উল্লেখ করেছেন। পরে আবার এই ব্যাখ্যা সংশোধন করে ‘আক্ষরিক’ শব্দের পরিবর্তে ‘রূপক’ অর্থে ব্যবহার করার কথা বলা হয়। সাংবাদিকদের সম্পর্কে করা মন্তব্যের বিষয়ে বলা হয়, ‘তিনি সাংবাদিকদের সম্পর্কে ঢালাও কোনো মন্তব্য করতে চাননি, এটি অসাবধানতাবশত হয়েছে।’
.‘ক্রসফায়ারের’ ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স, আইজিপির বক্তব্য ঠিক হয়নি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী





















