ঢাকা ০৪:০০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোর্তোয়া কেন নেই, দেখে নিন এল ক্লাসিকোয় দুই দলের একাদশ সুরের টানে জমজমাট সিডনি অপেরা হাউস ব্যবসায়ীকে আটকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, গ্রেপ্তার ৬ অসংক্রামক রোগের বড় কারণ খাবারে ভেজাল চার দিনের সরকারি সফরে জাপানের উদ্দেশে যাত্রা করলেন প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় ৫ নভেম্বর এআই বিজনেস সামিট, অংশ নেবে শতাধিক স্টার্টআপ বন্ধুর বাড়ির বিরোধ মীমাংসা করতে গিয়ে মারধরে স্কুলশিক্ষক নিহত ফিটনেস টেস্টও বাধা হতে পারে লিটনের জন্য পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তার পুলিশ কর্মকর্তার বাড়ি থেকে ৮৫ জনকে গ্রেপ্তার ও দণ্ড, ‘মোরাল পুলিশিং’ নিয়ে উদ্বেগ

পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভিষেক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে তাদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের ভাবাদর্শের প্রচার এবং সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারে ধারাবাহিক ও বহুমুখী বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিগত ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সংঘের মাত্র ৫৮০টি শাখা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে শাখার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার। এই বিস্তারকে আরও বেগবান করতে ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর (পুজোর মহালয়া) পর্যন্ত একটি বিশেষ ১০ দিনের জনসংযোগ অভিযান চালানো হয়। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্যজুড়ে চালু করা সম্ভব হয়েছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি নতুন শাখা। এর ফলে পুরো পশ্চিমবঙ্গে সংঘের শাখার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১০ হাজারে বলে আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রচারপ্রধান বিপ্লব রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

.

মাত্র কয়েক বছর আগেও রাজ্যের যেসব অঞ্চলে সংঘের কোনো অস্তিত্ব বা সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল না, বর্তমানে সেসব এলাকাতেও নতুন শাখা গড়ে উঠেছে। প্রতিটি জেলায় বর্তমানে গড়ে ২০০টির মতো শাখা ক্রিয়াশীল রয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি সংগঠনটিকে তৃণমূল স্তরে মজবুত করার পাশাপাশি তার স্থায়িত্ব বজায় রাখতে নতুন শাখাগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

.

রোববার থেকে লক্ষ্মীপূজার পর নতুন সদস্য সংযোজনের উদ্দেশ্যে শাখাগুলোর কার্যক্রম আরও মনোগ্রাহী করে তুলতে সাত দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে শারীরিক ব্যায়াম ও সূর্য নমস্কারের পাশাপাশি কাবাডি খেলা ও লাঠি খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ক্রীড়া চর্চা। মনে করা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে।

সংঘের পরিধি বাড়ার কারণে সাংগঠনিক অবকাঠামো সংস্কারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তর কলকাতায় সংঘের ঐতিহ্যবাহী প্রধান দপ্তর কেশব ভবনে স্থানসংকট দেখা দেওয়ায় নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি নামে একটি নতুন পাঁচতলা কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এই নতুন ভবন আগামী দিনে সংঘের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। এভাবেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশপ্রেম ও সমাজসেবার বার্তা নিয়ে নিজেদের ভিত্তি ক্রমশ সুদৃঢ় করছে আরএসএস।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পশ্চিমবঙ্গে দ্রুত বাড়ছে হিন্দুত্ববাদী সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের বিস্তার

আপডেট সময় : ০১:২৬:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমবঙ্গের শাসনক্ষমতায় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) অভিষেক হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যে তাদের প্রভাব বিস্তারে সক্রিয় হয়েছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)। কট্টর হিন্দুত্ববাদী এই সংগঠনের ভাবাদর্শের প্রচার এবং সাংগঠনিক প্রভাব বিস্তারে ধারাবাহিক ও বহুমুখী বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

বিগত ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গে সংঘের মাত্র ৫৮০টি শাখা ছিল। তবে সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে তা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। ২০২৪ সালের মে মাসের মধ্যে শাখার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৫ হাজার। এই বিস্তারকে আরও বেগবান করতে ১ অক্টোবর থেকে ১০ অক্টোবর (পুজোর মহালয়া) পর্যন্ত একটি বিশেষ ১০ দিনের জনসংযোগ অভিযান চালানো হয়। এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে রাজ্যজুড়ে চালু করা সম্ভব হয়েছে আরও পাঁচ হাজারের বেশি নতুন শাখা। এর ফলে পুরো পশ্চিমবঙ্গে সংঘের শাখার সংখ্যা পৌঁছেছে প্রায় ১০ হাজারে বলে আরএসএসের দক্ষিণবঙ্গের প্রচারপ্রধান বিপ্লব রায় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

.

মাত্র কয়েক বছর আগেও রাজ্যের যেসব অঞ্চলে সংঘের কোনো অস্তিত্ব বা সাংগঠনিক ভিত্তি ছিল না, বর্তমানে সেসব এলাকাতেও নতুন শাখা গড়ে উঠেছে। প্রতিটি জেলায় বর্তমানে গড়ে ২০০টির মতো শাখা ক্রিয়াশীল রয়েছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। পাশাপাশি সংগঠনটিকে তৃণমূল স্তরে মজবুত করার পাশাপাশি তার স্থায়িত্ব বজায় রাখতে নতুন শাখাগুলোর ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।

.

রোববার থেকে লক্ষ্মীপূজার পর নতুন সদস্য সংযোজনের উদ্দেশ্যে শাখাগুলোর কার্যক্রম আরও মনোগ্রাহী করে তুলতে সাত দিনের বিশেষ প্রশিক্ষণ শিবিরের আয়োজন করা হয়েছে। এ ছাড়া দৈনন্দিন কর্মসূচিতে রাখা হয়েছে শারীরিক ব্যায়াম ও সূর্য নমস্কারের পাশাপাশি কাবাডি খেলা ও লাঠি খেলার মতো ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ক্রীড়া চর্চা। মনে করা হচ্ছে, এতে সাধারণ মানুষ ও তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ বাড়বে।

সংঘের পরিধি বাড়ার কারণে সাংগঠনিক অবকাঠামো সংস্কারের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উত্তর কলকাতায় সংঘের ঐতিহ্যবাহী প্রধান দপ্তর কেশব ভবনে স্থানসংকট দেখা দেওয়ায় নিউ টাউনে কেশব স্মৃতি নামে একটি নতুন পাঁচতলা কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। এই নতুন ভবন আগামী দিনে সংঘের মূল কেন্দ্র হিসেবে পরিচালিত হবে। এভাবেই পশ্চিমবঙ্গে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরিপ্রেক্ষিতে দেশপ্রেম ও সমাজসেবার বার্তা নিয়ে নিজেদের ভিত্তি ক্রমশ সুদৃঢ় করছে আরএসএস।