ঢাকা ০৭:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জেলহত্যা দিবস আজ বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, আজ বৈঠকে বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার

মিটার চুরি করে সাঁটানো নম্বর, টাকা দিলেই ফেরতের ‘প্রতিশ্রুতি’

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরির পর মালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি চক্র। মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি মোবাইল নম্বর। সেই নম্বরে যোগাযোগ করলেই চুরি যাওয়া মিটার ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পাঠানোর পরই শুরু হচ্ছে নতুন করে টালবাহানা ও অতিরিক্ত টাকা দাবি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। ভুক্তভোগীরা সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন। মিটার চুরি ও পরে টাকা দাবির ঘটনায় রাইস মিল মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ ও শান্তিরাম ইউনিয়নের কয়েকটি রাইস মিল থেকে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরি হয়েছে। সকালে মিল খুলতে এসে মালিকরা দেখতে পান, মিটার নেই। তবে মিটারের জায়গায় পড়ে আছে সাদা কাগজের একটি স্লিপ। তাতে লেখা একটি মোবাইল নম্বর।

ওই নম্বরে ফোন করলেই জানানো হয়, চুরি যাওয়া মিটার তাদের কাছে রয়েছে। সেটি ফেরত পেতে বিকাশে টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর পর মিটার কোথায় রাখা হবে, তা জানানো হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর শুরু হয় নতুন অঙ্কের টাকা দাবি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, একই কায়দায় একাধিক রাইস মিল থেকে মিটার চুরি ও পরে টাকা দাবির ঘটনায় এটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী রাইস মিল মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মিটার চুরির পর সেখানে একটি মোবাইল নম্বরের স্লিপ পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশে টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর পরও আবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হলে বুঝতে পারি, এটি পরিকল্পিত প্রতারণা।’

আরেক ভুক্তভোগী মো. আবদুর রউফ মিয়া বলেন, ‘মিটার না থাকায় কয়েকদিন ধরে মিলের কার্যক্রম বন্ধ। নতুন মিটার নিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। ব্যবসায় লোকসানের পাশাপাশি প্রতারকদের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছি।’

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সুন্দরগঞ্জ) এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘এ ধরনের পাঁচটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো থানায় জানানো হয়েছে। মিটার চুরির পর যেসব মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

মিটার চুরি করে সাঁটানো নম্বর, টাকা দিলেই ফেরতের ‘প্রতিশ্রুতি’

আপডেট সময় : ০৪:০৫:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরির পর মালিকদের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিনব কৌশল নিয়েছে একটি চক্র। মিটার চুরির পর ঘটনাস্থলে সাঁটিয়ে দেওয়া হচ্ছে একটি মোবাইল নম্বর। সেই নম্বরে যোগাযোগ করলেই চুরি যাওয়া মিটার ফেরত দেওয়ার কথা বলে বিকাশে টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা পাঠানোর পরই শুরু হচ্ছে নতুন করে টালবাহানা ও অতিরিক্ত টাকা দাবি।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচটি অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছে রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১। ভুক্তভোগীরা সুন্দরগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগও করেছেন। মিটার চুরি ও পরে টাকা দাবির ঘটনায় রাইস মিল মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার তারাপুর, দহবন্দ ও শান্তিরাম ইউনিয়নের কয়েকটি রাইস মিল থেকে পোস্টপেইড ডিজিটাল বিদ্যুৎ মিটার চুরি হয়েছে। সকালে মিল খুলতে এসে মালিকরা দেখতে পান, মিটার নেই। তবে মিটারের জায়গায় পড়ে আছে সাদা কাগজের একটি স্লিপ। তাতে লেখা একটি মোবাইল নম্বর।

ওই নম্বরে ফোন করলেই জানানো হয়, চুরি যাওয়া মিটার তাদের কাছে রয়েছে। সেটি ফেরত পেতে বিকাশে টাকা পাঠাতে হবে। টাকা পাঠানোর পর মিটার কোথায় রাখা হবে, তা জানানো হবে বলেও প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। কিন্তু টাকা পাওয়ার পর শুরু হয় নতুন অঙ্কের টাকা দাবি।

ভুক্তভোগীদের দাবি, একই কায়দায় একাধিক রাইস মিল থেকে মিটার চুরি ও পরে টাকা দাবির ঘটনায় এটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত কর্মকাণ্ড বলে ধারণা করা হচ্ছে। দ্রুত জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

ভুক্তভোগী রাইস মিল মালিক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘মিটার চুরির পর সেখানে একটি মোবাইল নম্বরের স্লিপ পাওয়া যায়। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে বিকাশে টাকা দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর পরও আবার অতিরিক্ত টাকা চাওয়া হলে বুঝতে পারি, এটি পরিকল্পিত প্রতারণা।’

আরেক ভুক্তভোগী মো. আবদুর রউফ মিয়া বলেন, ‘মিটার না থাকায় কয়েকদিন ধরে মিলের কার্যক্রম বন্ধ। নতুন মিটার নিতে বাড়তি খরচ হচ্ছে। ব্যবসায় লোকসানের পাশাপাশি প্রতারকদের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছি।’

রংপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ (সুন্দরগঞ্জ) এর ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘এ ধরনের পাঁচটি অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়গুলো থানায় জানানো হয়েছে। মিটার চুরির পর যেসব মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, সেগুলোও পুলিশকে সরবরাহ করা হয়েছে।’

সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’