ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, আজ বৈঠকে বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

সুদের টাকার দাবিতে বিধবার গাভীন গাভী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০২:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬ ৪৪ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সুদের টাকার দাবিতে এক অসহায় বিধবার প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের গাভীন গাভী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দাদন ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঋণের মূল ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পাশাপাশি সুদ বাবদ আরও ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করে গাভী নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত মীর আলী সরকারের ছেলে আবু হোসেন সরকার (৫৫) ও তার স্ত্রী সপ্না বেগম রুবিনা (৪৫)। ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া একই গ্রামের মৃত রজ্জব আলী শেখের স্ত্রী।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রোকেয়া বেওয়ার মেয়ে আজেদা বেগম আবু হোসেন সরকারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাদন নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর ১২ হাজার টাকা সুদ দিতে হতো। পরবর্তী আড়াই বছরে পরিবারটি সুদ বাবদ মোট ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। পরে একটি গাভী বিক্রি করে মূল ৫০ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়। সে সময় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শেষ কিস্তির ১২ হাজার টাকা সুদ মওকুফের আবেদন করলে অভিযুক্তরা তা মেনে নেন বলে দাবি পরিবারের।

তবে কিছুদিন পর আবার ওই ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীরা টাকা দিতে অপারগতার কথা জানালে অভিযুক্তরা উল্টো ৭০ হাজার টাকা দাবি করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে আবু হোসেন সরকার ও তার স্ত্রী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে গোয়ালঘর থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ছয় মাসের একটি গাভীন গাভী জোরপূর্বক নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে গাভী উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন রোকেয়া বেওয়া। এরপর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাভী ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে অভিযুক্ত সপ্না বেগমকে বলতে শোনা যায়, ‘গরু নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আয়।’ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া বলেন, ‘৫০ হাজার টাকার বিপরীতে সুদ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে মূল ৫০ হাজার টাকাও পরিশোধ করেছি। তারপরও তারা আবার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় জোর করে আমার গাভীন গাভী নিয়ে গেছে। কয়েকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে গরু ফেরত চাইছি, কিন্তু দেয়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সুদের টাকার দাবিতে বিধবার গাভীন গাভী নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ

আপডেট সময় : ০২:২৫:৪০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে সুদের টাকার দাবিতে এক অসহায় বিধবার প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের গাভীন গাভী জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক দাদন ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ঋণের মূল ৫০ হাজার টাকা পরিশোধের পাশাপাশি সুদ বাবদ আরও ৬০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এরপরও অতিরিক্ত টাকা দাবি করে গাভী নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় সন্ধ্যায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার গুমানীগঞ্জ ইউনিয়নের শ্রীপুর গ্রামের মৃত মীর আলী সরকারের ছেলে আবু হোসেন সরকার (৫৫) ও তার স্ত্রী সপ্না বেগম রুবিনা (৪৫)। ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া একই গ্রামের মৃত রজ্জব আলী শেখের স্ত্রী।

লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, প্রায় তিন বছর আগে রোকেয়া বেওয়ার মেয়ে আজেদা বেগম আবু হোসেন সরকারের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা দাদন নেন। চুক্তি অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস অন্তর ১২ হাজার টাকা সুদ দিতে হতো। পরবর্তী আড়াই বছরে পরিবারটি সুদ বাবদ মোট ৬০ হাজার টাকা পরিশোধ করে। পরে একটি গাভী বিক্রি করে মূল ৫০ হাজার টাকাও পরিশোধ করা হয়। সে সময় আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে শেষ কিস্তির ১২ হাজার টাকা সুদ মওকুফের আবেদন করলে অভিযুক্তরা তা মেনে নেন বলে দাবি পরিবারের।

তবে কিছুদিন পর আবার ওই ১২ হাজার টাকা দাবি করা হয়। ভুক্তভোগীরা টাকা দিতে অপারগতার কথা জানালে অভিযুক্তরা উল্টো ৭০ হাজার টাকা দাবি করে এবং বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিতে থাকেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে আবু হোসেন সরকার ও তার স্ত্রী কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে রোকেয়া বেওয়ার বাড়িতে গিয়ে গোয়ালঘর থেকে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের ছয় মাসের একটি গাভীন গাভী জোরপূর্বক নিয়ে যান। পরে স্থানীয়ভাবে গাভী উদ্ধারের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন রোকেয়া বেওয়া। এরপর তিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, গাভী ফেরত চাইতে গেলে ভুক্তভোগীকে বাধা দেওয়া হচ্ছে। ভিডিওতে অভিযুক্ত সপ্না বেগমকে বলতে শোনা যায়, ‘গরু নিতে হলে ৫০ হাজার টাকা নিয়ে আয়।’ ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী রোকেয়া বেওয়া বলেন, ‘৫০ হাজার টাকার বিপরীতে সুদ বাবদ ৬০ হাজার টাকা দিয়েছি। পরে মূল ৫০ হাজার টাকাও পরিশোধ করেছি। তারপরও তারা আবার টাকা দাবি করে। টাকা দিতে না পারায় জোর করে আমার গাভীন গাভী নিয়ে গেছে। কয়েকবার তাদের বাড়িতে গিয়ে গরু ফেরত চাইছি, কিন্তু দেয়নি। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’