বধ্যভূমিতে জুতা পায়ে উঠে টিকটক, স্থানীয়দের ক্ষোভ
- আপডেট সময় : ০৬:০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক বধ্যভূমিতে জুতা পায়ে উঠে টিকটক ও বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ধারণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এ স্থানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের জন্য ভিডিও নির্মাণের প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, দুই যুবক ও নারী সেজে থাকা এক যুবক সুন্দরগঞ্জ উপজেলা বধ্যভূমির মূল স্মৃতিস্তম্ভের ওপর জুতা পায়ে উঠে নাচ-গান ও বিভিন্ন বিনোদনমূলক ভিডিও ধারণ করছেন। ভিডিওটি প্রকাশের পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।
বিষয়টি সামনে আসার পর স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা, সচেতন নাগরিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত এমন পবিত্র স্থানে এ ধরনের কর্মকাণ্ড মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অসম্মান।
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের এদেশীয় দোসরদের হাতে এ এলাকায় অসংখ্য নিরীহ মানুষ, মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামী নাগরিক নির্মমভাবে শহীদ হন। স্বাধীনতার পর স্থানটি বধ্যভূমি হিসেবে স্বীকৃতি পায়। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার অন্যতম স্মারক হিসেবে এটি দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বীর মুক্তিযোদ্ধা বলেন, ‘যে স্থানে আমাদের সহযোদ্ধারা জীবন দিয়েছেন, সেই স্থানে দাঁড়িয়ে বিনোদনের জন্য ভিডিও বানানো অত্যন্ত দুঃখজনক। নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইতিহাস ও শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে তুলতে হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই বধ্যভূমিতে অনিয়ন্ত্রিতভাবে ভিডিও ধারণ, টিকটক নির্মাণসহ বিভিন্ন অনভিপ্রেত কর্মকাণ্ড চললেও তা প্রতিরোধে দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। উপজেলা প্রশাসনের নজরদারির অভাব এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনার ঘাটতির কারণেই এমন ঘটনা বারবার ঘটছে বলে মনে করছেন তারা।
শিক্ষক, সমাজকর্মী ও সাহিত্যিক মো. হাবিবুল্লাহ সরকার বলেন, ‘বধ্যভূমি শুধু একটি স্থাপনা নয়, এটি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও আত্মত্যাগের স্মারক। যে স্থানে অসংখ্য মানুষ দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন, সেই স্থানে জুতা পায়ে উঠে বিনোদনমূলক ভিডিও ধারণ করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত। নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা ও স্মৃতির মর্যাদা সম্পর্কে সচেতন করতে হবে। একই সঙ্গে এসব গুরুত্বপূর্ণ স্থানের পবিত্রতা রক্ষায় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।’
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। বধ্যভূমির মতো শহীদদের স্মৃতিবিজড়িত স্থানে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য বধ্যভূমিতে নজরদারি বাড়ানোসহ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’





















