ঢাকা ০৫:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, আজ বৈঠকে বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ক্যাশিয়ার-পিয়নের বিরুদ্ধে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৪০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার সাধারণ গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাখাটির ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুব ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে তুলনামূলক কম সচেতন গ্রাহকদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

ঘটনাটি উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার। এ শাখাটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির রংপুরের পীরগঞ্জ শাখার অধীন পরিচালিত হয়।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিদুল ইসলাম।

ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ও গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, রোববার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় কয়েকজন গ্রাহক তাদের হিসাবে জমাকৃত মোটা অঙ্কের অর্থ না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। নিজের টাকার হদিস না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে আরও অনেক গ্রাহক ব্যাংকে এসে একই ধরনের তথ্য পান। এতে ব্যাংকটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টা পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বিষয়টি থানায় গড়ায়।

পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এজেন্ট শাখার ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুব ইসলাম পরস্পরের যোগসাজশে ৫২ জন গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সূত্র জানায়, তারা তুলনামূলক কম সচেতন গ্রাহকদের টার্গেট করতেন। কোনো গ্রাহক টাকা জমা দিলেও বা জমার রসিদ নিলেও সেই অর্থ হিসাব নম্বরে জমা করতেন না। আবার কেউ টাকা তুলতে এলে চাহিদার চেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করে অতিরিক্ত অংশ আত্মসাৎ করতেন। অনেক সময় গ্রাহকের মোবাইল ফোন নিয়ে লেনদেনের এসএমএস মুছে ফেলতেন। এমনকি ফিক্সড ডিপোজিটের মুনাফা নিয়মিত দিলেও মূল আমানতের অর্থ হিসাবে জমা না করে আত্মসাৎ করতেন।

আরও জানা যায়, এসব গ্রাহক ব্যাংকে এলেই তাদের দ্রুত কাজ শেষ করে কৌশলে বিদায় করে দেওয়া হতো। ফলে অন্য কেউ বিষয়টি বুঝতে পারতেন না। এমনকি ঘটনার আগ পর্যন্ত কোনো গ্রাহকও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন এজেন্ট অলিউর রহমান এবং পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, তারা নিয়মিত কষ্টের টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছেন। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়া রসিদের সঙ্গে হিসাবের কোনো মিল নেই। ব্যাংকেও যদি তাদের টাকার নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে তারা কোথায় যাবেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পীরগঞ্জ মূল শাখার কোনো দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার এজেন্ট অলিউর রহমান বলেন, ‘আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুব ইসলাম বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। তারা পরস্পরের যোগসাজশে সুকৌশলে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে স্বীকার করেছে। এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করেছে। ফলে আপাতত গ্রাহকদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা অত্যন্ত কৌশলে এসব করেছে। আমি বিষয়টি বুঝতেই পারিনি। গ্রাহকরাও এর আগে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।’

পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শাখার এজেন্টের ক্যাশিয়ার সবুজ দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছে, যা ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। গতকাল রাতে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের উপস্থিতিতে সে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অভিযুক্ত সবুজ আমাদের স্টাফ নয়, তিনি এজেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও এজেন্ট অলিউর রহমানকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছি। এর আগেও দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিলে এজেন্টের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ক্যাশিয়ার-পিয়নের বিরুদ্ধে

আপডেট সময় : ১১:৪৯:৩৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে ইসলামী ব্যাংকের একটি এজেন্ট শাখার সাধারণ গ্রাহকদের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে শাখাটির ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুব ইসলামের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, তারা পরস্পরের যোগসাজশে তুলনামূলক কম সচেতন গ্রাহকদের টার্গেট করে দীর্ঘদিন ধরে কৌশলে এসব অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

ঘটনাটি উপজেলার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার। এ শাখাটি ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির রংপুরের পীরগঞ্জ শাখার অধীন পরিচালিত হয়।

সোমবার (২৮ জুলাই) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিদুল ইসলাম।

ইসলামী ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট শাখা ও গ্রাহক সূত্রে জানা যায়, রোববার ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখায় কয়েকজন গ্রাহক তাদের হিসাবে জমাকৃত মোটা অঙ্কের অর্থ না থাকার বিষয়টি জানতে পারেন। নিজের টাকার হদিস না পেয়ে তারা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়লে মুহূর্তেই খবরটি ছড়িয়ে পড়ে। পরে আরও অনেক গ্রাহক ব্যাংকে এসে একই ধরনের তথ্য পান। এতে ব্যাংকটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে রাত ১০টা পর্যন্ত এজেন্ট ব্যাংকের কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে বিষয়টি থানায় গড়ায়।

পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এজেন্ট শাখার ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুব ইসলাম পরস্পরের যোগসাজশে ৫২ জন গ্রাহকের প্রায় দুই কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।

সূত্র জানায়, তারা তুলনামূলক কম সচেতন গ্রাহকদের টার্গেট করতেন। কোনো গ্রাহক টাকা জমা দিলেও বা জমার রসিদ নিলেও সেই অর্থ হিসাব নম্বরে জমা করতেন না। আবার কেউ টাকা তুলতে এলে চাহিদার চেয়ে বেশি অর্থ উত্তোলন করে অতিরিক্ত অংশ আত্মসাৎ করতেন। অনেক সময় গ্রাহকের মোবাইল ফোন নিয়ে লেনদেনের এসএমএস মুছে ফেলতেন। এমনকি ফিক্সড ডিপোজিটের মুনাফা নিয়মিত দিলেও মূল আমানতের অর্থ হিসাবে জমা না করে আত্মসাৎ করতেন।

আরও জানা যায়, এসব গ্রাহক ব্যাংকে এলেই তাদের দ্রুত কাজ শেষ করে কৌশলে বিদায় করে দেওয়া হতো। ফলে অন্য কেউ বিষয়টি বুঝতে পারতেন না। এমনকি ঘটনার আগ পর্যন্ত কোনো গ্রাহকও আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ করেননি বলে দাবি করেন এজেন্ট অলিউর রহমান এবং পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংকের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিদুল ইসলাম।

ভুক্তভোগী গ্রাহকরা জানান, তারা নিয়মিত কষ্টের টাকা আমানত হিসেবে জমা রেখেছেন। কিন্তু ব্যাংকে জমা দেওয়া রসিদের সঙ্গে হিসাবের কোনো মিল নেই। ব্যাংকেও যদি তাদের টাকার নিরাপত্তা না থাকে, তাহলে তারা কোথায় যাবেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে পীরগঞ্জ মূল শাখার কোনো দায়িত্বে অবহেলা থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এ বিষয়ে ধাপেরহাট ইসলামী ব্যাংক এজেন্ট শাখার এজেন্ট অলিউর রহমান বলেন, ‘আমার দায়িত্বপ্রাপ্ত ক্যাশিয়ার সবুজ মিয়া ও পিয়ন মাহাবুব ইসলাম বিশাল অঙ্কের অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত। তারা পরস্পরের যোগসাজশে সুকৌশলে গ্রাহকদের অর্থ আত্মসাৎ করেছে বলে স্বীকার করেছে। এছাড়া আগামী এক মাসের মধ্যে টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতিতে নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও করেছে। ফলে আপাতত গ্রাহকদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা অত্যন্ত কৌশলে এসব করেছে। আমি বিষয়টি বুঝতেই পারিনি। গ্রাহকরাও এর আগে কারও বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ করেননি।’

পীরগঞ্জ ইসলামী ব্যাংক শাখার অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট কাজী মো. হাদিদুল ইসলাম বলেন, ‘ওই শাখার এজেন্টের ক্যাশিয়ার সবুজ দীর্ঘদিন ধরে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করেছে, যা ইতোমধ্যে প্রমাণ হয়েছে। গতকাল রাতে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের উপস্থিতিতে সে দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। অভিযুক্ত সবুজ আমাদের স্টাফ নয়, তিনি এজেন্টের নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরাও এজেন্ট অলিউর রহমানকে সতর্ক করে চিঠি দিয়েছি। এর আগেও দেওয়া হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরত না দিলে এজেন্টের বিরুদ্ধেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’