ঢাকা ০৫:১৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বৃহত্তর জাতীয় সরকার গঠনের আহ্বান নেতানিয়াহুর, আজ বৈঠকে বসছেন বিরোধীরা আয়–উপার্জনে বরকত পেতে নবীজির শেখানো ৫ আমল ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল

আপোষনামার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ, নিজ সম্পত্তির দখল নিলেন ভুক্তভোগী

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, একাধিক মামলা এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে নিজ সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আবু হেনা। রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তিনি ওই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে দানপত্রের মাধ্যমে পাওয়া পারিবারিক জমিকে কেন্দ্র করে আবু হেনার বাবা মরহুম আবুল কাশেম মিয়ার সঙ্গে তার চাচা আবু সাঈদ চৌধুরী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অপরাধ, ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই বছরের ২০ আগস্ট গাইবান্ধার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে একটি এফিডেভিটভুক্ত আপোষনামা সম্পাদিত হয়।

আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়, ৬ শতক জমির ওপর নির্মিত আধাপাকা গোডাউন ঘরের মূল্য বাবদ মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্ত রাখা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দায়ের করা মামলাগুলোও নিজ খরচে প্রত্যাহার করবেন বলে আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি আপোষনামার অন্যান্য শর্তও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

তিনি দাবি করেন, আপোষনামার শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে রোববার বিকেলে তিনি নিজের সম্পত্তির দখল বুঝে নেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটাতে আপোষনামা করা হলেও শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই ভুক্তভোগী তার দাবি অনুযায়ী সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আবু হেনা বলেন, ‘আপোষনামার সব শর্ত আমি মেনে চলেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ নির্ধারিত সময়েও বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেননি এবং আপোষনামার অন্যান্য শর্তও বাস্তবায়ন করেননি। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে আমি আমার সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়েছি।’

তবে এ বিষয়ে আবু সাঈদ চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

আপোষনামার শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ, নিজ সম্পত্তির দখল নিলেন ভুক্তভোগী

আপডেট সময় : ০৩:৪১:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ মরুয়াদহ গ্রামে দীর্ঘদিনের জমি-সংক্রান্ত বিরোধ, একাধিক মামলা এবং নোটারি পাবলিকের মাধ্যমে সম্পাদিত আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগে নিজ সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. আবু হেনা। রোববার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে তিনি ওই সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন।

স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে দানপত্রের মাধ্যমে পাওয়া পারিবারিক জমিকে কেন্দ্র করে আবু হেনার বাবা মরহুম আবুল কাশেম মিয়ার সঙ্গে তার চাচা আবু সাঈদ চৌধুরী ও পরিবারের অন্য সদস্যদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে ভূমি অপরাধ, ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিক মামলা দায়ের হয়।

পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট আবুল কাশেমের মৃত্যুর পর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উদ্যোগে বিরোধ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সালিশ অনুষ্ঠিত হয়। সালিশের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী একই বছরের ২০ আগস্ট গাইবান্ধার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে একটি এফিডেভিটভুক্ত আপোষনামা সম্পাদিত হয়।

আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়, ৬ শতক জমির ওপর নির্মিত আধাপাকা গোডাউন ঘরের মূল্য বাবদ মোট ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করা হবে। এর মধ্যে ৫০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিক পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা ছয় মাসের মধ্যে পরিশোধের শর্ত রাখা হয়। একই সঙ্গে উভয় পক্ষ নিজ নিজ দায়ের করা মামলাগুলোও নিজ খরচে প্রত্যাহার করবেন বলে আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়।

ভুক্তভোগীর অভিযোগ, নির্ধারিত সময় অতিক্রম করলেও অবশিষ্ট ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। পাশাপাশি আপোষনামার অন্যান্য শর্তও বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার সমাধানের চেষ্টা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার মেলেনি।

তিনি দাবি করেন, আপোষনামার শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করে রোববার বিকেলে তিনি নিজের সম্পত্তির দখল বুঝে নেন।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিনের বিরোধের অবসান ঘটাতে আপোষনামা করা হলেও শর্ত বাস্তবায়ন না হওয়ায় নতুন করে জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। পরে স্থানীয়দের উপস্থিতিতেই ভুক্তভোগী তার দাবি অনুযায়ী সম্পত্তির দখল গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মো. আবু হেনা বলেন, ‘আপোষনামার সব শর্ত আমি মেনে চলেছি। কিন্তু প্রতিপক্ষ নির্ধারিত সময়েও বাকি ৬ লাখ টাকা পরিশোধ করেননি এবং আপোষনামার অন্যান্য শর্তও বাস্তবায়ন করেননি। তাই স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের পরামর্শে আমি আমার সম্পত্তির দখল বুঝে নিয়েছি।’

তবে এ বিষয়ে আবু সাঈদ চৌধুরীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।