ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ক্ষমতাসীনেরা মধ্যবর্তী নির্বাচনে জেতে না, তবে আমরা জোর চেষ্টা চালাচ্ছি: ট্রাম্প তাহসিফ সাউরির মৃত্যু: রিমান্ডে থাকা দীপ ও তরুণীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ লক্কড়ঝক্কড় বাসে শুধু ‘স্টিকার’ বদল, বাকি সব আগের মতো বিদেশি ঋণের খোঁজে ডলার নাকি পান্ডা বন্ড, কোন পথে সরকার দলীয় নেতার সমর্থন হারানোর দিনই আল–সাইয়েদের তহবিলে রেকর্ড অর্থ চুম্বন, প্রেম থেকে ঝগড়া, ‘বিগ বস’–এ আলোচিত কে এই নন্দিনী জামায়াতের কেন্দ্রীয় কমিটিতে নারী নেই, টিআইবির এ তথ্য অসত্য: মিয়া গোলাম পরওয়ার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত অভিযোগে প্রাক্তন ছাত্রকে মারধর করে পুলিশে দিল ছাত্রদল বিক্ষোভ-ভাঙচুর, ৩য় দিনে ৪ শতাধিক কারখানায় ছুটি মধ্যবর্তী নির্বাচন : হেরে গেলে বাকি দুবছর কীভাবে সামাল দেবেন ট্রাম্প

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে

চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ : ২৪ ঘণ্টায় ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬ ৫১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এক রাতের রেকর্ড বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরায় আবহাওয়া অফিসের সব পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ। রাতভর এই রেকর্ড ভাঙা টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা সাতক্ষীরা। পৌরসভাসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

টানা বৃষ্টিতে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, জেলা হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের আঙিনায় এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি।

সবচেয়েবেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাঝখোলা এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে রান্নাঘর, টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, পানির কারণে কলেজে যাওয়া যাচ্ছে না। নোংরা পানি পার হতে গিয়ে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বছরের পর বছর ধরে এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

মাঝখোলা গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম তাঁর দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, ১০ বছর ধরে এই অবস্থা দেখছি। রান্নাঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল ভেসে গেছে, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। ঘরে সাপ-পোকার আতঙ্কে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় রাত কাটাতে হচ্ছে।

হঠাৎ এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা। টানা বৃষ্টির কারণে দু-দিন ধরে বাইরে বের হতে পারছেন না তারা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব দ্রুতই বৃষ্টির এই প্রভাব কমে আসবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত। তিনি বলেন, “নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী পুনঃখনন করা হচ্ছে। শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হবে। একই সাথে শহরের প্রাণসায়ের খালে পানি নিষ্কাশনের জন্য সকল ড্রেন সচল করে খালের সাথে যুক্ত করার কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত যদি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্মাঞ্চল তলিয়ে গেছে

চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ : ২৪ ঘণ্টায় ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড

আপডেট সময় : ০৭:২৩:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে সাতক্ষীরার নিম্মাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এক রাতের রেকর্ড বৃষ্টিতে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে সাতক্ষীরায়। পৌরসভাসহ বিভিন্ন উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি দপ্তর, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম। সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ ও শিক্ষার্থীরা।

সাতক্ষীরায় আবহাওয়া অফিসের সব পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে গত ২৪ ঘণ্টায় ২১৭ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার ইতিহাসে একদিনে সর্বোচ্চ। রাতভর এই রেকর্ড ভাঙা টানা বর্ষণে তীব্র জলাবদ্ধতায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গোটা সাতক্ষীরা। পৌরসভাসহ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা এখন পানির নিচে। সরকারি অফিস, হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক কার্যক্রম।

টানা বৃষ্টিতে পৌর সদরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো এখন পানিতে থইথই করছে। সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ, কলেজ মাঠ, জেলা হাসপাতাল চত্বর, সাব-রেজিস্ট্রি অফিসসহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের আঙিনায় এখন হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি।

সবচেয়েবেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ রোড থেকে শুরু করে মাঝখোলা এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় ঘরের ভেতর পানি ঢুকে পড়েছে। নষ্ট হচ্ছে রান্নাঘর, টয়লেট ও স্যানিটেশন ব্যবস্থা।

সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী অমিত হাসান বলেন, পানির কারণে কলেজে যাওয়া যাচ্ছে না। নোংরা পানি পার হতে গিয়ে পোশাক নষ্ট হয়ে যায়। টিউবওয়েলগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় খাবার পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। এখন পানি কিনে ব্যবহার করতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ অপরিকল্পিত নগরায়ন, পর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব এবং ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না করায় বছরের পর বছর ধরে এই কৃত্রিম বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে।

মাঝখোলা গ্রামের গৃহবধূ রহিমা বেগম তাঁর দুর্ভোগের কথা জানিয়ে বলেন, ১০ বছর ধরে এই অবস্থা দেখছি। রান্নাঘরে পানি ঢুকে হাঁড়ি-পাতিল ভেসে গেছে, খাওয়া-দাওয়া বন্ধ। ঘরে সাপ-পোকার আতঙ্কে সন্তানদের নিয়ে নিরাপদ জায়গায় রাত কাটাতে হচ্ছে।

হঠাৎ এই দুর্যোগে সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছেন দিনমজুর ও ভ্যানচালকেরা। টানা বৃষ্টির কারণে দু-দিন ধরে বাইরে বের হতে পারছেন না তারা।

সাতক্ষীরা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুলফিকার আলী রিপন জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় সাতক্ষীরায় ২১৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি মৌসুমে একদিনে এটিই সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে এই রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। তবে তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, খুব দ্রুতই বৃষ্টির এই প্রভাব কমে আসবে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সাতক্ষীরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অর্নব দত্ত। তিনি বলেন, “নতুন সরকারের নেতৃত্বে জেলার বিভিন্ন খাল ও নদী পুনঃখনন করা হচ্ছে। শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে দ্রুত স্লুইস গেটগুলো খুলে দেওয়া হবে। একই সাথে শহরের প্রাণসায়ের খালে পানি নিষ্কাশনের জন্য সকল ড্রেন সচল করে খালের সাথে যুক্ত করার কাজ চলছে। আশা করছি দ্রুতই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।

তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, বৃষ্টিপাত যদি আরও কয়েকদিন অব্যাহত থাকে এবং দ্রুত পানি নিষ্কাশনের কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তবে এই জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করবে।