বন্যার ত্রাণেও থামেনি কারচুপি, ২০ কেজির ওজনে ১৫ কেজি চাল
- আপডেট সময় : ০৮:২৬:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬ ৩৩ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে বন্যাদুর্গতদের মাঝে ত্রাণের চাল বিতরণে ইউপি চেয়ারম্যান ও ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতেই ওজনে কম চাল দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন সুবিধাভোগীরা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, উপজেলার কাপাসিয়া ইউনিয়নে ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয় এ চাল বিতরণ করেন। এতে বরাদ্দ ছিলো ৭ মেট্রিকটন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫০ জন সুবিধাভোগীর প্রত্যেকে ২০ কেজি করে চাল পাওয়ার কথা ছিলো।
তবে চাল হাতে পাওয়ার পর কয়েকজন সুবিধাভোগী স্থানীয় দোকানে ওজন করে দেখেন, নির্ধারিত ২০ কেজির পরিবর্তে ১৫ থেকে ১৬ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তারা তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিবাদও জানান। তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুবিধাভোগী লালচামার গ্রামে বাসিন্দা আবদুল মজিদ মিয়ার স্ত্রী মোছাঃ রিনা বেগম বলেন, গরীব মানুষ হামরা। ভ্যান ভাড়া করি চাউল নিতে গেইছিলাম। চাউল পাওয়ার পরে বাজারের এক দোকানে মাপি দেখি ১৫ কেজি চাউল। পরে চেয়ারম্যানকে বলি। তাই মোর কথা শোনে নাই। পরে বাড়ি আসি। চাউল আনতে ভ্যান ভাড়া গেলো মোর ৬০ টাকা। দিনটেও মোর মাটি। চাউলও ৫ কেজি কম। কি লাভ হলো মোর?।
কথা হয় আরেক সুবিধাভোগী মো. মোজা মিয়ার (৩২) সাথে। তিনি বলেন, ‘আমাকে চাল দেয়ার পরে আমার মনে হয়েছে চাল কম হবে। সে কারণে পরে স্থানীয় এক তরকারির দোকানে মাপ দিয়ে দেখি ১৬ কেজি চাল। ৪ কেজি চাল কম দেয়া হয়েছে আমাকে। পরে আমি আবারও যাই এবং বাকি চাউল চাই। শেষে এক থেকে দেড় কেজি চাউল আমাকে দিয়েছে। শুধু আমাকে নয়, প্রায় মানুষকেই চাল কম দেয়া হয়েছে। এর বিচার করা হোক।’
সুবিধাভোগীদের অভিযোগ, সরকার যে সহায়তা দিয়েছে, সেটিও যদি সঠিকভাবে না পৌঁছায়, তাহলে দুর্গত মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়। তারা ঘটনার তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিতরণের দায়িত্বে নিয়োজিত ট্যাগ অফিসার ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মুকুল চন্দ্র বর্মন বলেন, ‘প্রথমের দিকে কয়েকজন সুবিধাভোগী চাল কম পেয়েছিলেন। তারা এসে অভিযোগ দিলে তাদের চাল মেপে দেখি এবং সত্যতা পাওয়া যায়। এরপর থেকে আর কাউকে চাল ওজনে কম দেয়া হয়নি। যে কয়েকজন চাল ওজনে কম পেয়েছিলেন তাদেরকে আবারও নতুন করে চাল দেয়া হয়েছে বলেও জানান এ ট্যাগ অফিসার।’
অভিযোগ অস্বীকার করে কাপাসিয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মনজু মিয়া বলেন, ‘চাল বিতরণে আমি নিজেই উপস্থিত ছিলাম। কাউকে কম দেয়া হয়নি।’
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অফিসে গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘বিষয়টি আপনার মাধ্যমে জানলাম। খোঁজ নিয়ে দেখছি। প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’





















