ঢাকা ১১:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কীসের আশঙ্কা শ্রমিক আন্দোলনে বহিরাগত ইন্ধন নিয়ে সতর্ক সরকার বাংলাদেশে সিমেন্স ইডিএর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হলো পেন্টা গ্লোবাল পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়তে রাজশাহী বন্ধুসভার উদ্যোগ দুই নাজমুলের নেতৃত্বে এনসিপির স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের কমিটি, নাহিদ বললেন—সম্পর্কটা ‘আদর্শিক’ আইসিইউতে বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ পক্ষ ছাড়ায় কর্মীকে খুনের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সেই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার ‘মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছি, উল্টো আমার ওপরই হামলা করেছে’ টিএমজিবির সভাপতি মাসুদ রুমী, সাধারণ সম্পাদক কুমার বিশ্বজিত রায় ৫৫ বছরেও কনসার্টের জন্য স্থায়ী ভেন্যু নেই, এটা লজ্জার: হামিন আহমেদ

পক্ষ ছাড়ায় কর্মীকে খুনের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সেই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম নগরে যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যা মামলায় নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওরফে জুয়েল এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল রোববার রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকা থেকে জিল্লুর এবং কুমিল্লা থেকে তাঁর সহযোগী মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় গত ২৭ অক্টোবর রাতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আবু ইউসুফ। হামলায় তাঁর ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা পা কেটে ফেললেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরদিন ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি একটি আইসক্রিম কারখানায় কাজ করতেন।

.

এ ঘটনায় আবু ইউসুফের বাবা গোলাম নবী বাদী হয়ে জিল্লুরসহ ১৫ জনকে আসামি করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা করেন।

এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত আবু ইউসুফ জিল্লুরের অনুসারী ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে জিল্লুর ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আহত অবস্থায় আবু ইউসুফের ধারণ করা একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তিনি জিল্লুর, ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার অভিযোগ করেন।

.

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু ইউসুফ গত দুই বছর নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুরের অনুসারী হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান ওরফে শিমুলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর জিল্লুরের ভাগনে মেহেদী ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আবু ইউসুফের বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

.

অভিযোগের বিষয়ে ঘটনার পর প্রথম আলোর কাছে জিল্লুর রহমান দাবি করেছিলেন, আবু ইউসুফ যুবদলের কেউ ছিলেন না। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মোবারক আলীর সঙ্গে থাকতেন। তবে আবু ইউসুফ তাঁর ভাগনের বন্ধু ছিলেন বলে তাঁকে সহায়তা করতেন। জিল্লুর বলেন, ‘তবে তাঁকে আমি মারিনি। নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

পক্ষ ছাড়ায় কর্মীকে খুনের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সেই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় : ১০:০৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রাম নগরে যুবদল কর্মী আবু ইউসুফ ওরফে জীবন (২৭) হত্যা মামলায় নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওরফে জুয়েল এবং তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। গতকাল রোববার রাতে পৃথক অভিযানে ঢাকা থেকে জিল্লুর এবং কুমিল্লা থেকে তাঁর সহযোগী মো. আরমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুঞ্জছায়া আবাসিক এলাকায় গত ২৭ অক্টোবর রাতে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন আবু ইউসুফ। হামলায় তাঁর ডান পা হাঁটুর নিচ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। চিকিৎসকেরা পা কেটে ফেললেও তাঁকে বাঁচানো যায়নি। পরদিন ২৮ অক্টোবর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি একটি আইসক্রিম কারখানায় কাজ করতেন।

.

এ ঘটনায় আবু ইউসুফের বাবা গোলাম নবী বাদী হয়ে জিল্লুরসহ ১৫ জনকে আসামি করে বায়েজিদ বোস্তামী থানায় হত্যা মামলা করেন।

এসআরবি-৭ চট্টগ্রামের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোস্তাফিজুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহত আবু ইউসুফ জিল্লুরের অনুসারী ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা ও কুমিল্লা থেকে জিল্লুর ও তাঁর এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

আহত অবস্থায় আবু ইউসুফের ধারণ করা একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে তিনি জিল্লুর, ইকরাম বাবু ও আরমানের নাম উল্লেখ করে তাঁদের বিরুদ্ধে ছুরিকাঘাত ও গুলি করার অভিযোগ করেন।

.

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু ইউসুফ গত দুই বছর নগর যুবদলের প্রচার সম্পাদক জিল্লুরের অনুসারী হিসেবে দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি তিনি যুবদলের রাজনীতি ছেড়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য নুরুজ্জামান ওরফে শিমুলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। এরপর জিল্লুরের ভাগনে মেহেদী ও তাঁর অনুসারীদের সঙ্গে আবু ইউসুফের বিরোধ তৈরি হয়। এ বিরোধের জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।

.

অভিযোগের বিষয়ে ঘটনার পর প্রথম আলোর কাছে জিল্লুর রহমান দাবি করেছিলেন, আবু ইউসুফ যুবদলের কেউ ছিলেন না। তিনি কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মোবারক আলীর সঙ্গে থাকতেন। তবে আবু ইউসুফ তাঁর ভাগনের বন্ধু ছিলেন বলে তাঁকে সহায়তা করতেন। জিল্লুর বলেন, ‘তবে তাঁকে আমি মারিনি। নিজেরা নিজেরা মারামারি করেছে।’