ঢাকা ১২:১০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের পানির পাম্পে ককটেল বিস্ফোরণ পিএসজি-রিয়ালের চেয়ে পিছিয়ে নেই বার্সেলোনা, দাবি গর্ডনের জরুরি পরিস্থিতির জন্য খাবার-পানি মজুত করতে বলছে বিভিন্ন দেশ, কীসের আশঙ্কা শ্রমিক আন্দোলনে বহিরাগত ইন্ধন নিয়ে সতর্ক সরকার বাংলাদেশে সিমেন্স ইডিএর অনুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটর হলো পেন্টা গ্লোবাল পাখিদের নিরাপদ আবাস গড়তে রাজশাহী বন্ধুসভার উদ্যোগ দুই নাজমুলের নেতৃত্বে এনসিপির স্পোর্টস অ্যালায়েন্সের কমিটি, নাহিদ বললেন—সম্পর্কটা ‘আদর্শিক’ আইসিইউতে বরেণ্য ক্রীড়া সংগঠক হারুনুর রশীদ পক্ষ ছাড়ায় কর্মীকে খুনের অভিযোগ, চট্টগ্রামের সেই যুবদল নেতা গ্রেপ্তার ‘মেয়েকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করেছি, উল্টো আমার ওপরই হামলা করেছে’

পেপারলেস বন্দরের পথে আরও একধাপ এগোল চট্টগ্রাম বন্দর, চালু শতভাগ স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও কাগজবিহীন বন্দর পরিচালনার লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা (টিওএস) উন্নত করে পণ্য খালাসের ডেলিভারি সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজনির্ভর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ডেলিভারি আদেশের আবেদন থেকে শুরু করে পণ্য বা কনটেইনার বন্দর ত্যাগের চূড়ান্ত অনুমতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১১ সাল থেকে জাহাজ চলাচল এবং বন্দরের ভেতরে কনটেইনার স্থানান্তরের কার্যক্রম টিওএসের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ডেলিভারি-সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ এতদিন হাতে-কলমে সম্পন্ন হতো। আগে শুধু ইলেকট্রনিক ডেলিভারি আদেশের আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে করা গেলেও বাকি কার্যক্রম ছিল কাগজনির্ভর। নতুন ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়াই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত ক্রম অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট একটি ধাপ শেষ না করে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না। একটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে।

নিরাপত্তা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে বন্দরের টিওএসকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থার সঙ্গে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো কনটেইনার বা পণ্য আটকে দিলে সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের ব্যবস্থায় পৌঁছে যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট নথির পরবর্তী সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি স্থগিত থাকবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর ফলে দাপ্তরিক কাজে কাগজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে মুদ্রণ ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় ডেলিভারি-সংক্রান্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। এতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং বন্দরের সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে যাচাই হওয়ায় জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় নিজস্ব হিসাবের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাদের নথি বা আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পেপারলেস বন্দরের পথে আরও একধাপ এগোল চট্টগ্রাম বন্দর, চালু শতভাগ স্বয়ংক্রিয় টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ১০:১৭:২৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও কাগজবিহীন বন্দর পরিচালনার লক্ষ্যে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। বন্দরের টার্মিনাল পরিচালনা ব্যবস্থা (টিওএস) উন্নত করে পণ্য খালাসের ডেলিভারি সংক্রান্ত সব ধরনের কাগজনির্ভর কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এখন থেকে ডেলিভারি আদেশের আবেদন থেকে শুরু করে পণ্য বা কনটেইনার বন্দর ত্যাগের চূড়ান্ত অনুমতি পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ অনলাইনে সম্পন্ন হবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১১ সাল থেকে জাহাজ চলাচল এবং বন্দরের ভেতরে কনটেইনার স্থানান্তরের কার্যক্রম টিওএসের মাধ্যমে পরিচালিত হলেও ডেলিভারি-সংক্রান্ত অধিকাংশ কাজ এতদিন হাতে-কলমে সম্পন্ন হতো। আগে শুধু ইলেকট্রনিক ডেলিভারি আদেশের আবেদন ও অনুমোদন অনলাইনে করা গেলেও বাকি কার্যক্রম ছিল কাগজনির্ভর। নতুন ব্যবস্থায় পুরো প্রক্রিয়াই এখন ডিজিটাল পদ্ধতিতে সম্পন্ন হবে।

নতুন ব্যবস্থার অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো, প্রতিটি ধাপ নির্ধারিত ক্রম অনুসারে সম্পন্ন করতে হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট একটি ধাপ শেষ না করে পরবর্তী ধাপে যেতে পারবেন না। একটি ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হওয়ার পরই পরবর্তী ধাপ স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালু হবে।

নিরাপত্তা ও আইনগত বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে বন্দরের টিওএসকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড ব্যবস্থার সঙ্গে তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে যুক্ত করা হয়েছে। ফলে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কোনো কনটেইনার বা পণ্য আটকে দিলে সেই তথ্য সঙ্গে সঙ্গে বন্দরের ব্যবস্থায় পৌঁছে যাবে। এরপর সংশ্লিষ্ট নথির পরবর্তী সব কার্যক্রম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ছাড়পত্র না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি স্থগিত থাকবে।

বন্দর কর্তৃপক্ষের মতে, নতুন এই ব্যবস্থা চালুর ফলে দাপ্তরিক কাজে কাগজের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। এতে মুদ্রণ ব্যয় কমার পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে ঘুরে নথি জমা দেওয়ার প্রয়োজন না থাকায় ডেলিভারি-সংক্রান্ত কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে। এতে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং বন্দরের সংশ্লিষ্ট সবার সময় ও শ্রম সাশ্রয় হবে।

এ ছাড়া প্রতিটি ধাপ ডিজিটালভাবে যাচাই হওয়ায় জালিয়াতি, ভুয়া কাগজপত্রের ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম প্রতিরোধ করা সহজ হবে। ব্যবহারকারীরা যেকোনো সময় নিজস্ব হিসাবের মাধ্যমে প্রবেশ করে তাদের নথি বা আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন।

বন্দর কর্তৃপক্ষ মনে করছে, এই ডিজিটাল রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের স্বচ্ছতা, দক্ষতা ও সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এর অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।