ঢাকা ০৭:৫৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
টেলিপ্যাথি ও ব্লাইন্ডসাইট তৈরি করছে ইলন মাস্কের নিউরালিংক, যে সুবিধা পাওয়া যাবে আলীবাবা থেকে বাংলাদেশি কোম্পানি স্টেপ ফুটওয়্যারের জুতা কিনতে পারবেন বিদেশি ব্যবসায়ীরা ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারে এবার দাম বাড়ল ২২৩ টাকা খুলনাকে পেলেই সেঞ্চুরি, আল আমিনের আবার ১০২ সুন্দরগঞ্জে ট্রাকের ধাক্কায় অটোভ্যানযাত্রী নিহত, আহত ২ সুন্দরগঞ্জে ২০টি অবৈধ জাল ধ্বংস, একজনকে জরিমানা জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫ শতাংশ এটি সালিসের চেয়ে নিচে নেমে গেছে এমপির ছেলে নূরুজ্জামান আবারও দুই দিনের রিমান্ডে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেল উদ্ধার মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন বহাল, মুক্তিতে বাধা নেই

মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

সুন্দরগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৭:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ ১৫৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বকশীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দুই শিক্ষার্থী আওলাদ হোসেন (৮) ও মাহিম মিয়াকে (৮) বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সানজু বকসীর (৫২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সানজু বকসীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া (তেলানিপাড়া) আঞ্চলিক সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযুক্ত সানজু বকসী ওই ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া এলাকার মৃত জয়নাল বকসীর ছেলে। তিনি মাঝে মধ্যে ওই মাদ্রাসার কালেকশনের কাজ করতেন। সানজু বকসী বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নেতা লুৎফর রহমান বকসির ভাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থী মাহিম মিয়া, শিক্ষার্থীর পিতা রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শামীম মিয়া, এনজিও কর্মী শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহাবুল ইসলাম, শিক্ষক রাসেল মিয়া ও পিয়াল হাসান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার পাশেই বাড়ি হওয়ায় ঐ দুই শিক্ষার্থীকে দেড় মাস আগে সানজু বকসী তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একবার বলাৎকার করে। পরে ঘটনার চলতি মাসের প্রথমের দিকে ওই মাদ্রাসায় রাত কাটিয়ে আরেক বার তাকে বলাৎকার করে। পরে সে চিল্লাচিল্লি করতে ধরলে প্রথমে তার মুখ চেপে ধরে এবং বিষয়টি কাউকে বললে তাকে মারার হুমকি প্রদান করে। এমনকি বিষয়টি তার পিতা-মাতাকে জানাতেও নিষেধ করে এবং বলে তোর পিতা মাতাকে জানালে তোর পিতা মাতাকে মেরে ফেলবো। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবো।

বক্তারা আরও বলেন, ভয়ে মাহিন বিষয়টি কাউকে বলেনি। অপর ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীও ১ মাস আগে বলাৎকারের শিকার হন। তাকেও একই ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করা হয়। পরে আবারও বলাৎকার করতে চাইলে মানসিক ভাবে চাপে থাকা মাহিন বাধ্য হয়ে তার মাকে বললে বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে এলকায় ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরে অভিযুক্ত সানজু বকসী বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোন সুরাহা হয়নি। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় সানজু বকসী। তার ভয়ে থানায় অভিযোগ না দিয়েই বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঐ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সানজু বকসী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে আমার ও আমার পরিবারের সামাজিক সম্মান নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি কখনো এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং আমি ন্যায়বিচার পাব বলে বিশ্বাস করি।’

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার পরিচালক নুর আলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলাম অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার সভাপতিসহ কমিটির সকলকে অবহিত করেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ‘

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার দেড় মাস পরে অভিযোগ দিতে আসেন ভুক্তভোগীরা। এই জন্য তাদেরকে চেয়ারম্যান মেম্বারদেরকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপর তারা পুলিশকে আর কিছু জানায়নি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগ, শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন-বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৭:০০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের বকশীপাড়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার দুই শিক্ষার্থী আওলাদ হোসেন (৮) ও মাহিম মিয়াকে (৮) বলৎকারের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় সানজু বকসীর (৫২) বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সানজু বকসীর শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী।

শনিবার (২৭ জুন) উপজেলার বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া (তেলানিপাড়া) আঞ্চলিক সড়কে ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

অভিযুক্ত সানজু বকসী ওই ইউনিয়নের রামধন বকসীপাড়া এলাকার মৃত জয়নাল বকসীর ছেলে। তিনি মাঝে মধ্যে ওই মাদ্রাসার কালেকশনের কাজ করতেন। সানজু বকসী বামনডাঙ্গা ইউনিয়ন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি নেতা লুৎফর রহমান বকসির ভাই।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বলাৎকারের শিকার শিক্ষার্থী মাহিম মিয়া, শিক্ষার্থীর পিতা রফিকুল ইসলাম, বিএনপি নেতা শামীম মিয়া, এনজিও কর্মী শাহাদাত হোসেন, সাংস্কৃতিক কর্মী শাহাবুল ইসলাম, শিক্ষক রাসেল মিয়া ও পিয়াল হাসান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার পাশেই বাড়ি হওয়ায় ঐ দুই শিক্ষার্থীকে দেড় মাস আগে সানজু বকসী তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একবার বলাৎকার করে। পরে ঘটনার চলতি মাসের প্রথমের দিকে ওই মাদ্রাসায় রাত কাটিয়ে আরেক বার তাকে বলাৎকার করে। পরে সে চিল্লাচিল্লি করতে ধরলে প্রথমে তার মুখ চেপে ধরে এবং বিষয়টি কাউকে বললে তাকে মারার হুমকি প্রদান করে। এমনকি বিষয়টি তার পিতা-মাতাকে জানাতেও নিষেধ করে এবং বলে তোর পিতা মাতাকে জানালে তোর পিতা মাতাকে মেরে ফেলবো। বাড়িতে আগুন লাগিয়ে দেবো।

বক্তারা আরও বলেন, ভয়ে মাহিন বিষয়টি কাউকে বলেনি। অপর ভুক্তভোগী আওলাদ হোসেন নামের এক শিক্ষার্থীও ১ মাস আগে বলাৎকারের শিকার হন। তাকেও একই ধরনের হুমকি ধামকি প্রদান করা হয়। পরে আবারও বলাৎকার করতে চাইলে মানসিক ভাবে চাপে থাকা মাহিন বাধ্য হয়ে তার মাকে বললে বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে এলকায় ছড়িয়ে পড়ে। উত্তেজিত জনতা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পরে অভিযুক্ত সানজু বকসী বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেও কোন সুরাহা হয়নি। এনিয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে সেখানেও বাধা দেয় সানজু বকসী। তার ভয়ে থানায় অভিযোগ না দিয়েই বাড়ি ফেরেন ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল ঐ এলাকার প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সানজু বকসী বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল ব্যক্তিগত প্রতিহিংসার কারণে আমার ও আমার পরিবারের সামাজিক সম্মান নষ্ট করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। আমি কখনো এমন কোনো ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে এবং আমি ন্যায়বিচার পাব বলে বিশ্বাস করি।’

এ ব্যাপারে মাদ্রাসার পরিচালক নুর আলাম বলেন, ‘ঘটনার সময় ছুটিতে ছিলাম অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে। বিষয়টি জানতে পেরে মাদ্রাসার সভাপতিসহ কমিটির সকলকে অবহিত করেছি। এ ঘটনায় অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। ‘

এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিন মোহাম্মদ আমানুল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার দেড় মাস পরে অভিযোগ দিতে আসেন ভুক্তভোগীরা। এই জন্য তাদেরকে চেয়ারম্যান মেম্বারদেরকে নিয়ে স্থানীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নিতে বলা হয়। এরপর তারা পুলিশকে আর কিছু জানায়নি।’