ঢাকা ০৭:৩২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সিলেটে তৌসিফ, সাফা ও টয়ার ঘোরাঘুরির গল্প যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় ট্রাম্পের অবকাশযাপন কেন্দ্রের কাছে উড়োজাহাজ বিধ্বস্ত হয়ে নিহত ৯ লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত শিক্ষক সাধন চক্রবর্তীকে বাঁচাতে সহায়তা দরকার মস্কোর পার্কে হামলার পরিকল্পনা, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর কিশোরকে আটক করল রাশিয়া কেমব্রিজের কুয়াশায় ক্রিস্টোফার রাউন্ডের ছায়া: প্রেম, ঈর্ষা ও এক অশান্ত আত্মার গল্প অজু ছাড়া মোবাইল ফোনে কোরআন পড়া যাবে কি হরমুজ প্রণালিতে মাইনের আঘাতে দুই তেলবাহী জাহাজে বিস্ফোরণ কীভাবে ১৩ হাজার কোটি টাকার সাম্রাজ্য গড়লেন শাহরুখ ইউক্রেনের রুশ নিয়ন্ত্রিত ওলেশকিতে শেষ হলো যুদ্ধবিরতি নগদের অবরুদ্ধ ৭৮৬ কোটি টাকার শেয়ার ছাড়াতে আবেদন, বিরোধিতা করবে দুদক

মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৩:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জকে দ্রুত উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত মহিমাগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রেলওয়ে স্টেশন চত্বর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে মহিমাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন শুরু হয়। আধাঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত শত শত মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। ‘মহিমাগঞ্জকে উপজেলা বাস্তবায়ন করতেই হবে’, ‘জনদুর্ভোগ লাঘব চাই’, ‘অবহেলা আর নয়’ এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ প্রশাসনিক কাজকর্ম, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নিকটবর্তী উপজেলা সদরে যেতে সময় ও অর্থ দুইই বেশি ব্যয় হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বক্তারা আরও বলেন, মহিমাগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক, জনবহুল ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। রেল যোগাযোগ ও সড়ক নেটওয়ার্কের কারণে এটি একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হলেও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহিমাগঞ্জের সাবেক ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খাজা, মহিমাগঞ্জ রাজনৈতিক থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মৃধা, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাসান জাহিদ হিরন, গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ্ মুশফিকুর রহমান মিলন, শালমারা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোনারুল ইসলাম, জাসাসের আহ্বায়ক সুজনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় একাধিক বক্তা বলেন, মহিমাগঞ্জ এলাকায় জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়লেও প্রশাসনিক কাঠামো সেই অনুযায়ী সম্প্রসারিত হয়নি। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়ভাবে সরকারি সেবা পৌঁছানো সহজ হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে মহিমাগঞ্জকে উপজেলা করার দাবি জানানো হলেও তা কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দাবিতে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। তারা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

পরে অংশগ্রহণকারীরা মহিমাগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর ও সচেতনতার আবহ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণার দাবিতে গাইবান্ধায় মানববন্ধন

আপডেট সময় : ০৩:১৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার মহিমাগঞ্জকে দ্রুত উপজেলা হিসেবে বাস্তবায়নের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ঘোষিত মহিমাগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে রেলওয়ে স্টেশন চত্বর পরিণত হয় জনসমুদ্রে।

শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে মহিমাগঞ্জ রেলওয়ে স্টেশন চত্বরে এ মানববন্ধন শুরু হয়। আধাঘণ্টাব্যাপী চলা এই কর্মসূচিতে ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আগত শত শত মানুষ ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে অংশ নেন। ‘মহিমাগঞ্জকে উপজেলা বাস্তবায়ন করতেই হবে’, ‘জনদুর্ভোগ লাঘব চাই’, ‘অবহেলা আর নয়’ এমন নানা স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণার দাবি জানানো হলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ প্রশাসনিক কাজকর্ম, স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ, শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও যোগাযোগে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। নিকটবর্তী উপজেলা সদরে যেতে সময় ও অর্থ দুইই বেশি ব্যয় হয়, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে আরও কঠিন করে তুলছে।

বক্তারা আরও বলেন, মহিমাগঞ্জ একটি ঐতিহাসিক, জনবহুল ও বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। রেল যোগাযোগ ও সড়ক নেটওয়ার্কের কারণে এটি একটি সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হলেও প্রশাসনিক কাঠামোর দুর্বলতার কারণে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দ্রুত মহিমাগঞ্জকে উপজেলা ঘোষণা করা হলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা ও অবকাঠামো উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মহিমাগঞ্জের সাবেক ইউপি সদস্য রবিউল ইসলাম খাজা, মহিমাগঞ্জ রাজনৈতিক থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোফাজ্জল হোসেন মৃধা, মহিমাগঞ্জ ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আবু হাসান জাহিদ হিরন, গোবিন্দগঞ্জ মহিলা কলেজের সহকারী অধ্যাপক শাহ্ মুশফিকুর রহমান মিলন, শালমারা ইউনিয়ন যুবদলের আহ্বায়ক মোনারুল ইসলাম, জাসাসের আহ্বায়ক সুজনসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা।

স্থানীয় একাধিক বক্তা বলেন, মহিমাগঞ্জ এলাকায় জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দিন দিন বাড়লেও প্রশাসনিক কাঠামো সেই অনুযায়ী সম্প্রসারিত হয়নি। এতে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের হয়রানি ও ভোগান্তির মুখে পড়তে হচ্ছে। একটি পূর্ণাঙ্গ উপজেলা বাস্তবায়ন হলে স্থানীয়ভাবে সরকারি সেবা পৌঁছানো সহজ হবে এবং উন্নয়ন কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে।

মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, বহু বছর ধরে মহিমাগঞ্জকে উপজেলা করার দাবি জানানো হলেও তা কেবল আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারা দ্রুত সময়ের মধ্যে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেন।

মানববন্ধন শেষে আয়োজকরা বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, বরং সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের দাবিতে একটি ঐক্যবদ্ধ অবস্থান। তারা জানান, দাবি বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।

পরে অংশগ্রহণকারীরা মহিমাগঞ্জ উপজেলা বাস্তবায়নের দাবিতে একাত্মতা প্রকাশ করে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি শেষ করেন। পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে এলাকায় ছিল উৎসবমুখর ও সচেতনতার আবহ।