পাটগ্রামে জিয়াউর রহমানের শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
- আপডেট সময় : ০৯:৩৯:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

লালমনিরহাটের পাটগ্রামে মহান স্বাধীনতার ঘোষক বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩০ মে) বিকেলে পাটগ্রাম পৌর ও উপজেলা বিএনপি এবং সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আয়োজনে উপজেলার আবু সাঈদ অডিটোরিয়ামে এ কর্মসূচীর আয়োজন করা হয়।
পাটগ্রাম উপজেলা পৌর বিএনপির সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল এর সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট-১(পাটগ্রাম -হাতীবান্ধা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান।
এসময় প্রধান অতিথি বক্তব্যে ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের উজ্জ্বল নক্ষত্র। ১৯৭১ সালে জাতি যখন দিশেহারা ছিলো তখন চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে একটি কন্ঠস্বর সারা বাঙ্গালী জাতিকে উদ্ধুদ্ধ করেছিলো এবং আমরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ পেয়েছি। সেই বীর উত্তম শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান পরবর্তীতে জাতির আরেকটি ক্রান্তিলগ্নে দেশের দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। তার উপর যখন দায়িত্ব অর্পিত হয় তখন বাংলাদেশের অর্থনীতি ভঙ্গুর অবস্থায় ছিলো।
১৯৭৪ সালে একটি দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের কিছু মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, সেই দুর্ভিক্ষ কবলিত বাংলাদেশের উন্নয়নের দায়িত্ব শহীদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে পড়ে।
তিনি বলেন, “আমরা লক্ষ করেছি যে তার কার্যক্রমের কারণে বাংলাদেশ কৃষিতে স্বনির্ভর অর্জন করে। তার সময়ে আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হয়। তিনি বুঝেছিলেন বাংলাদেশের উন্নয়ন সম্ভব যদি বাংলাদেশের কৃষিক্ষেত্রে উন্নয়ন সম্ভব হয়। কৃষকদের উন্নয়ন হলে বাংলাদেশের উন্নয়ন হবে তাই দৃষ্টি দিয়েছিলেন কৃষি ক্ষেত্রে। সেই সময়ে আমাদের দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা লাভ করে। “
তিনি আরো বলেন, ঠিক তেমনিভাবে তার সময়ে ১ম গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী যেখানে আজকে লক্ষ লক্ষ জনবল চাকরি করছে,আমাদের অর্থনীতিতে বিশেষ ভুমিকা রাখছে সেই গার্মেন্টস ফ্যাক্টরী তার সময়ে চালু হয়।
ব্যারিস্টার বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম আয়ের একটি উৎস হচ্ছে বিদেশি রেমিট্যান্স, যারা বিদেশে আছে তারা যে টাকা পাঠায় তা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিশেষ ভুমিকা রাখছে। তার সময়ে ১ম বিদেশে কর্মসংস্হানের সুযোগ তৈরী হয়। বাংলাদেশের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে তিনি হাত দেয় নি।
এমপি বলেন, আপনারা জানেন ,তৎকালীন সময়ে গণতন্ত্র অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলো, তার সময়ে তা উম্মুক্ত হয়েছে। বাংলাদেশের একটি মাত্র পত্রিকা ছিলো, তার সময়ে সকল পত্রিকা খোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
এমপি আরো বলেন, তার সময়ে বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র চালু করে, আজকে যে দলটি আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাড়িয়েছে, সেই দলেরও রাজনীতি করার অধিকার শহীদ রাষ্ট্রপতি দিয়েছিলেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা হবে কোয়ালিটি দিয়ে হবে, কে কতবেশী মানুষের কল্যাণে কাজ করে যেতে পারে। তাই তিনি রাজনীতি উম্মুক্ত করে দিয়েছিলেন, তিনি সেই রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের মৃতু বাষিকী আজ। আমরা তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করবো।
পৌর বিএনপি সভাপতি মোস্তফা সালাউজ্জামান ওপেল, পাটগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সফিকার রহমান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ওয়ালিউর রহমান সোহেল, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল হক প্রধান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শওকত হায়াত প্রধান বাবু, হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির আহবায়ক মোশাররফ হোসেন, হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আফজাল হোসেন মিয়া, হাতীবান্ধা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক রফিকুল ইসলাম এসময় বক্তব্য রাখেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা, শহীদ জিয়ার আদর্শ, দেশপ্রেম ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের কথা তুলে ধরেন। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। এতে উপজেলা বিএনপি ও পৌর এবং ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি এবং এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী অংশ নেন।

























