কালবৈশাখীর তাণ্ডবে বিপর্যস্ত সুন্দরগঞ্জ: ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি-ফসল, বিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ
- আপডেট সময় : ১১:৩২:৩৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ ৩৬ বার পড়া হয়েছে

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় ভয়াবহ কালবৈশাখী ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে স্কুল, দোকানপাট ও বসতবাড়ি। ভেঙে গেছে একাধিক বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুৎ লাইন। ফলে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
সোমবার (১৮ মে) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে শুরু হওয়া কালবৈশাখী ঝড় ভোর ৪টা পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় তাণ্ডব চালায়।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এ ঝড়ে পৌরশহরসহ বিভিন্ন এলাকায় বড় বড় গাছ উপড়ে পড়ে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পৌরশহরের মীরগঞ্জ বাজারে একটি বিশাল বটগাছ হেলে পড়ে অন্তত ১০ থেকে ১২টি দোকানঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাব-রেজিস্টার অফিস চত্বরে একটি বড় বটগাছ ভেঙে পড়ে দলিল লেখক সমিতির অবকাঠামোর ক্ষতি হয়েছে। এছাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি পুরোনো বটগাছ ভেঙে পড়ে সুন্দরগঞ্জ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষসহ চারটি শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ঝড়ের সঙ্গে অতি ভারী বর্ষণে কৃষকদের অবশিষ্ট ভুট্টা, পাকা ধান ও বিভিন্ন পাটক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এছাড়া মরিচ, বেগুন, পটলসহ বিভিন্ন সবজিরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এতে স্থানীয় কৃষকরা চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি, দক্ষিণ ধুমাইটারি, ঝিনিয়া ও গোপালচরণ এবং ছাপড়হাটি ইউনিয়নের খামারসহ বিভিন্ন এলাকায় গাছপালা উপড়ে পড়ে শতাধিক ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কাঁচা-পাকা বাড়িঘর, দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনারও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে সরকারিভাবে এখনো ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানানো হয়নি।
দহবন্দ ইউনিয়নের উত্তর ধুমাইটারি গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হালিম বলেন, ‘রাতের ঝড়ে হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। বাইরে বের হয়ে দেখি বাড়ির পাশের বড় গাছটি ঘরের ওপর পড়ে গেছে। টিনের চালা ভেঙে গেছে, ঘরের আসবাবপত্রও নষ্ট হয়েছে। এখন পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি।’
দক্ষিণ ধুমাইটারি গ্রামের গৃহবধূ রোকেয়া বেগম বলেন, ‘ঝড়ের সময় বাচ্চাদের নিয়ে অনেক ভয় পেয়েছিলাম। ঘরের চাল উড়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানি সব ভেতরে ঢুকে গেছে। কাপড়চোপড়, চাল-ডাল সব নষ্ট হয়ে গেছে।’
অন্যদিকে, সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিক হিসাবে ১২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে গেছে এবং আরও ৬টি খুঁটি হেলে পড়েছে। প্রায় ৩০টি স্থানে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে গেছে। এছাড়া শতাধিক স্থানে গাছ পড়ে লাইনের ক্ষতি হয়েছে এবং ৬টি ট্রান্সফরমার বিকল হয়েছে। ফলে পুরো উপজেলা বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরুদ্ধারে ২১টি টিম কাজ করছে। জোনাল ম্যানেজারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত টেকনিক্যাল টিমও যুক্ত হয়েছে। সদর দপ্তর থেকে নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি আনা হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মশিউর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঈফফাত জাহান তুলি বলেন, ‘ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পেতে ইউপি চেয়ারম্যানদের তথ্য সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। তাঁদের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

























