ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সরকারি কাজে নতুনদের সুযোগ, বদলাচ্ছে ঠিকাদার বাছাই আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীসহ আটক-গ্রেপ্তার ৪৯ জন পায়রা বন্দরে বিদেশি জাহাজ আসা কমছে ভারতের মধ্যে প্রথম কলকাতায় প্রতিষ্ঠিত হবে ম্যাজিক ইনস্টিটিউট উড়োজাহাজ কেনার চুক্তির আগে সম্ভাব্যতা যাচাই হয়েছে কি না, সংসদীয় কমিটিতে প্রশ্ন ‘ট্রাইব্যুনালে শুধু পলাতক আসামিদের বিচার হয়’—জামায়াত নেতার এমন বক্তব্য অসত্য: প্রসিকিউটর কক্সবাজারে নলকূপ খননে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন, যা জানাল পেট্রোবাংলা বেসরকারি খাতের ৫৫% কর্মী এআই ব্যবহার করেন, মেটলাইফের জরিপ প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৩ জন, সবাই অকৃতকার্য ঘর হারিয়েও গল্প বলা থামেনি তাঁদের

আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানিতে গতি, আমদানিতে স্থবিরতা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১১:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট আখাউড়া স্থলবন্দর। দেশের রাজস্ব আয় ও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বন্দরটির ৩০ বছরের যাত্রায় এখনো রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হয়নি। বর্তমানে রপ্তানিতে কিছুটা গতি ফিরলেও আমদানিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নীতিগত সীমাবদ্ধতা, বিভিন্ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং আমদানি সংকুচিত হওয়ার কারণে বন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় কমছে, তেমনি সীমান্ত এলাকায় চোরাই পণ্যের অবৈধ বাজারও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ে এই স্থলবন্দরে। বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে ভারত সরকার বাংলাদেশের কয়েকটি স্থলবন্দর দিয়ে কিছু উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে আখাউড়া বন্দরের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে রপ্তানি কার্যক্রম। আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুটকি, পাথর, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেল।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় রপ্তানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর রপ্তানি চালু না হলে বন্দরের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।’

অন্যদিকে আমদানিতে এখনো রয়েছে স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে যাচ

আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, ‘যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোই আগে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

আখাউড়া স্থলবন্দরে রপ্তানিতে গতি, আমদানিতে স্থবিরতা

আপডেট সময় : ১১:১৪:০২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১০ মে ২০২৬

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট আখাউড়া স্থলবন্দর। দেশের রাজস্ব আয় ও দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখলেও বন্দরটির ৩০ বছরের যাত্রায় এখনো রপ্তানি ও আমদানির মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ভারসাম্য তৈরি হয়নি। বর্তমানে রপ্তানিতে কিছুটা গতি ফিরলেও আমদানিতে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, নীতিগত সীমাবদ্ধতা, বিভিন্ন পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা এবং আমদানি সংকুচিত হওয়ার কারণে বন্দরের স্বাভাবিক বাণিজ্য প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এতে যেমন সরকারের রাজস্ব আয় কমছে, তেমনি সীমান্ত এলাকায় চোরাই পণ্যের অবৈধ বাজারও সক্রিয় হয়ে উঠছে।

আখাউড়া স্থলবন্দর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি নিছার উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘ব্যবসায়ীরা নতুন নতুন পণ্য রপ্তানির চেষ্টা করছেন। একইসঙ্গে নিষিদ্ধ পণ্য ছাড়া সব ধরনের পণ্য আমদানির অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। এতে বন্দরের কার্যক্রম বাড়বে এবং সরকারের রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।’

বন্দর সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের প্রভাব পড়ে এই স্থলবন্দরে। বিশেষ করে গত বছরের মে মাসে ভারত সরকার বাংলাদেশের কয়েকটি স্থলবন্দর দিয়ে কিছু উচ্চ চাহিদাসম্পন্ন পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা দিলে আখাউড়া বন্দরের রপ্তানি প্রায় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।

তবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে দেশে নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে রপ্তানি কার্যক্রম। আখাউড়া শুল্ক স্টেশনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত এ বন্দর দিয়ে ৪৩৭ কোটি ১৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকার পণ্য রপ্তানি হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হিমায়িত মাছ, সিমেন্ট, শুটকি, পাথর, আটা, ময়দা ও ভোজ্যতেল।

আখাউড়া স্থলবন্দরের ব্যবসায়ী রাজিব ভূঁইয়া বলেন, ‘দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ায় রপ্তানি আবার বাড়তে শুরু করেছে। তবে নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা পণ্যগুলোর রপ্তানি চালু না হলে বন্দরের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে না।’

অন্যদিকে আমদানিতে এখনো রয়েছে স্থবিরতা। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে ভারত থেকে যেসব পণ্য আমদানির অনুমতি রয়েছে, তার বেশিরভাগই ত্রিপুরার বাইরে থেকে আনতে হয়। এতে পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় লাভ কমে যাচ

আখাউড়া স্থলবন্দরের শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার কাজী আল মাসুম বলেন, ‘যেসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, সেগুলোই আগে সবচেয়ে বেশি রপ্তানি হতো। ব্যবসায়ীদের দাবিগুলো জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে পাঠানো হয়েছে। দুই দেশের আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধান হবে বলে আশা করছি।’