ঢাকা ১২:০৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গঙ্গার পানি না এলে ভারতের পণ্যও বাংলাদেশে আসবে না: নাহিদ ইসলাম দেশে আলু চাষ কমছে, পেঁয়াজের বাড়ছে; কারণ কী অন্য আসামিদের সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সবাই আক্রান্ত হতে পারেন—এই বুদ্ধি কোথায় পেলেন: প্রসিকিউশনকে প্রশ্ন ট্রাইব্যুনালের হঠাৎ উচ্ছেদ নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বাসা ছাড়তে এক মাস সময় দেওয়ার দাবি বাক্স্বাধীনতা ক্ষুণ্নের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ নেই, রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিধান নিয়ে রিট খারিজ যুক্তরাষ্ট্রে বসে ওয়ারীতে মাদকের ল্যাব পরিচালনা, দেশে ফিরে গ্রেপ্তার আবার হামলা হলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে, যুক্তরাষ্ট্রকে হুঁশিয়ারি ইরানের মির্জা নাথানের চোখে: বাংলার বারভূঁইয়াদের হাতি অটোরিকশা নিয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মাইকিং, ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিও সভাপতির ছেলে এইচএসসি পাসের পর চুয়াডাঙ্গা জেলা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ভুগছে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

শ্রীপুর (গাজীপুর) প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকট এখন জনদুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মী না থাকায় অধিকাংশই কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের প্রত্যাহার এবং শূন্যপদে দ্রুত জনবল নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, শূন্যপদ ও প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের তালিকা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন, কার্ডিওলজি, শিশু ও সার্জারি), মেডিকেল অফিসার এবং ডেন্টাল সার্জনসহ অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এতে নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া ছয়জন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আরও ২৭টি পদ শূন্য থাকায় সার্বিক সেবাব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শ্রীপুর একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসকরা হিমশিম খেলেও অনেক রোগীকেই সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার মানে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে হাসপাতালটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

চিকিৎসক ও জনবল সংকটে ভুগছে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আপডেট সময় : ০৯:৩০:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের চিকিৎসক ও জনবল সংকট এখন জনদুর্ভোগের বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ৫০ শয্যার এই হাসপাতালটিতে প্রতিদিন হাজারো রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও সহায়ক কর্মী না থাকায় অধিকাংশই কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীতকরণ, প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের প্রত্যাহার এবং শূন্যপদে দ্রুত জনবল নিয়োগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

গাজীপুরের সিভিল সার্জন ডা. মামুনুর রহমান বলেন, শূন্যপদ ও প্রেষণে থাকা চিকিৎসকদের তালিকা ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতরে পাঠানো হয়েছে। জনগুরুত্ব বিবেচনায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন, কার্ডিওলজি, শিশু ও সার্জারি), মেডিকেল অফিসার এবং ডেন্টাল সার্জনসহ অন্তত ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য রয়েছে। আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) পদও দীর্ঘদিন ধরে খালি পড়ে আছে। এতে নিয়মিত অস্ত্রোপচার কার্যক্রম প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে।

এছাড়া ছয়জন চিকিৎসক প্রেষণে অন্যত্র দায়িত্ব পালন করছেন। তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির আরও ২৭টি পদ শূন্য থাকায় সার্বিক সেবাব্যবস্থায় স্থবিরতা তৈরি হয়েছে।

চিকিৎসকদের মতে, শ্রীপুর একটি শিল্পাঞ্চল হওয়ায় প্রতিদিন গড়ে দেড় থেকে দুই হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। সীমিত জনবল নিয়ে চিকিৎসকরা হিমশিম খেলেও অনেক রোগীকেই সেবা না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালে হাসপাতালটি ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও সেই অনুপাতে জনবল বাড়ানো হয়নি। ফলে অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও সেবার মানে প্রত্যাশিত পরিবর্তন আসেনি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে হাসপাতালটির কার্যক্রম স্বাভাবিক করা হবে।