শরীরকে মাদকের বাহন বানিয়ে ইয়াবা পাচার বাড়ছে
- আপডেট সময় : ০৯:২৮:১৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ভয়ংকর মাদক ইয়াবার ব্যবহার ও পাচার। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী লাগাম টানার চেষ্টা করলেও পুরোপুরি সফল হতে পারছে না। কারণ পাচারকারীরা প্রতিনিয়ত নিত্যনতুন পদ্ধতি বেছে নিচ্ছে। বর্তমানে ইয়াবা পাচারের তালিকায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও আলোচিত কৌশল হয়ে উঠেছে ‘বডি প্যাকিং’।
সম্প্রতি চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় র্যাবের বিশেষ অভিযানে ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবাসহ চার রোহিঙ্গা মাদক কারবারি আটক হওয়ার ঘটনায় আবারও সামনে এসেছে এই কৌশল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, এই পদ্ধতিতে ইয়াবা বা অন্যান্য মাদক ছোট ছোট পলিথিনে মুড়িয়ে মানবদেহের ভেতরে বহন করা হয়। কখনো মুখ দিয়ে গিলে পাকস্থলী ও অন্ত্রে রাখা হয়, আবার কখনো শরীরের গোপন অঙ্গে লুকিয়ে পরিবহন করা হয়।
এরপর গন্তব্যে পৌঁছে তা বের করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। সাম্প্রতিক অভিযানে আটক চার রোহিঙ্গাও একই কৌশল ব্যবহার করেছিল। কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামগামী একটি বাসে সাধারণ যাত্রীর ছদ্মবেশে তারা চলাচল করছিল। পরে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব তাদের আটক করে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করে, পেটের ভেতরে ইয়াবার প্যাকেট রয়েছে। পরে সাতকানিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক্স-রে ও পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে তাদের শরীর থেকে উদ্ধার করা হয় ১৯ হাজার ৫০০ পিস ইয়াবা।
আন্তর্জাতিকভাবে ‘বডি প্যাকিং’ পদ্ধতি বহু পুরোনো। লাতিন আমেরিকা থেকে ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকায় কোকেন পাচারের সময় এটি আলোচনায় আসে। বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়াতেও এই কৌশল উদ্বেগজনক হারে ছড়িয়ে পড়ছে।
এই পদ্ধতিতে মাদককে পলিথিন, রাবার, কনডম বা বিশেষ টেপ দিয়ে বহু স্তরে মোড়ানো হয়, যাতে পাকস্থলীর অ্যাসিডে নষ্ট না হয়। একজন পাচারকারী কখনো কখনো শতাধিক প্যাকেটও বহন করে।
চিকিৎসকদের মতে, এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। একটি প্যাকেট ফেটে গেলে শরীরে বিষক্রিয়া হয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিশেষ করে ইয়াবার মতো মেথামফেটামিনভিত্তিক মাদক দ্রুত শরীরে মারাত্মক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা বলছেন, চেকপোস্ট ও স্ক্যানার এড়িয়ে যাওয়ার জন্যই এই পদ্ধতি ব্যবহার করা হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাস, ট্রেন ও লঞ্চ ব্যবহার করে সহজে এক জেলা থেকে অন্য জেলায় মাদক সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
র্যাব-১৫ জানায়, আটক ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রাম হয়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় ইয়াবা সরবরাহ করে আসছিল।
র্যাবের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মাদক পাচারকারীরা এখন মানবদেহকে ব্যবহার করছে। তবে গোয়েন্দা তথ্য ও অভিযান জোরদার করার মাধ্যমে এসব চক্রকে শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে। মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত থাকবে।’

























