পাহাড়ি ঢলে বিধ্বস্ত কচ্ছপতলী-নোয়াপতং সংযোগ সড়ক, জনদুর্ভোগ চরমে
- আপডেট সময় : ০৭:৩৭:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬ ৪৬ বার পড়া হয়েছে

বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগপথ কচ্ছপতলী ও ৪ নম্বর নোয়াপতং ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি পাহাড়ি ঢলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বর্তমানে মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক প্রলয়ংকরী পাহাড়ি ঢলে ৩ নম্বর আলেক্ষ্যং ইউনিয়নের হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় দুই ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের যাতায়াত চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) সরেজমিনে দেখা যায়, হেডম্যানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মূল সড়কের উল্লেখযোগ্য অংশ ধসে পাশের খাদে বিলীন হয়ে গেছে। ফলে সড়কটি এখন এতটাই সরু হয়ে পড়েছে যে, যানবাহন চলাচল তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষের হেঁটে চলাচলও অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছে ওই বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। বিদ্যালয়ের ঠিক সামনে ভয়াবহ এই ভাঙন থাকায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন অভিভাবকরা। এ কারণে অনেক অভিভাবকই আতঙ্কে তাদের সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাতে দ্বিধা প্রকাশ করছেন।
এই সড়ক ব্যবহার করে নিয়মিত যাতায়াত করেন থলিপাড়া, খংক্ষ্যং পাড়া, মহিলা কারবারি পাড়া ও থুইসা পাড়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার শত শত মানুষ। কিন্তু সড়কের এমন বিপর্যস্ত অবস্থার কারণে পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহন চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য আনা-নেওয়া এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করাও সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এদিকে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, ভারী বৃষ্টিপাত শুরু হলে পাহাড়ের মাটি আরও ক্ষয়প্রাপ্ত হয়ে সড়কের অবশিষ্ট অংশটুকুও ধসে পড়তে পারে। তখন পুরো এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই সড়কটি এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের অন্যতম প্রধান পথ। প্রতিদিন কয়েক হাজার মানুষ ও বিভিন্ন যানবাহন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন বেহাল অবস্থা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর সংস্কার উদ্যোগ দেখা যায়নি।
এ অবস্থায় এলাকাবাসী দ্রুত প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বর্ষা শুরু হওয়ার আগেই ভাঙনকবলিত অংশটি স্থায়ী ও টেকসইভাবে সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন। তাদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হলে পুরো অঞ্চলের মানুষ দীর্ঘমেয়াদি দুর্ভোগ ও বিচ্ছিন্নতার শিকার হবে।

























