ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীকে কোপানো শুরু, ছিনিয়ে নেয় পাঁচ লাখ টাকা এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় বিপদ ব্ল্যাক কার্বন গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, আগুন ও উত্তেজনার ছয় ঘণ্টা শিশুর কখন টয়লেট ব্যবহার শুরু করা উচিত ভৌতিক নয়, হ্যালোউইনে তারকাদের সাজে নস্টালজিয়া সবাইকে এক কক্ষে নিয়ে ডাকাতেরা বলে, ‘চিৎকার করলে বোম মেরে উড়িয়ে দেব’ আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরিতে অংশ নিয়েছে বাবুডাইং কাব স্কাউট দল খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের বদদোয়া: পরিণতি কী

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে স্কুল দপ্তরি, আলমারির ভেতর থেকে আটক

ফরিদপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকার সময় মো. আজাদ শেখ (৩৫) নামে এক স্কুল দপ্তরিকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক আজাদ ওই গ্রামের রব শেখের ছেলে এবং বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ছেলে একই স্কুলে পড়াশোনা করে। সন্তানকে স্কুলে আনা–নেওয়ার সময় দপ্তরি আজাদের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে আজাদ মাঝেমধ্যে গভীর রাতে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

ঘটনার রাতে স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেন। পরে সন্দেহ হলে ঘর তল্লাশি চালিয়ে একটি আলমারির ভেতর থেকে আজাদকে খালি গায়ে অবস্থায় বের করা হয়। এ সময় ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আটকের পর তাকে থানায় না দিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং অর্থ লেনদেনের কথাও শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী জানান, রাতে ঘরে ফিরে তিনি আজাদকে দেখতে পান। স্থানীয়রা ঘর ঘিরে ফেললে আতঙ্কে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।

বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা খান লিমা বলেন, বিষয়টি লোকমুখে জেনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তামেম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অফিসে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দপ্তরি আজাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্তও করা হতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে স্কুল দপ্তরি, আলমারির ভেতর থেকে আটক

আপডেট সময় : ১২:৪১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

ফরিদপুরের সালথায় গভীর রাতে প্রবাসীর স্ত্রীর ঘরে ঢুকে লুকিয়ে থাকার সময় মো. আজাদ শেখ (৩৫) নামে এক স্কুল দপ্তরিকে আটক করেছে স্থানীয়রা।

মঙ্গলবার (৫ মে) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে উপজেলার যদুনন্দী ইউনিয়নের বড় খারদিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আটক আজাদ ওই গ্রামের রব শেখের ছেলে এবং বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরি হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই প্রবাসীর স্ত্রীর ছেলে একই স্কুলে পড়াশোনা করে। সন্তানকে স্কুলে আনা–নেওয়ার সময় দপ্তরি আজাদের সঙ্গে ওই নারীর পরিচয় গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকে আজাদ মাঝেমধ্যে গভীর রাতে ওই বাড়িতে যাতায়াত করতেন বলে দাবি স্থানীয়দের।

ঘটনার রাতে স্থানীয়রা বাড়ির আশপাশে অবস্থান নেন। পরে সন্দেহ হলে ঘর তল্লাশি চালিয়ে একটি আলমারির ভেতর থেকে আজাদকে খালি গায়ে অবস্থায় বের করা হয়। এ সময় ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, আটকের পর তাকে থানায় না দিয়ে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করা হয় এবং অর্থ লেনদেনের কথাও শোনা গেছে। তবে এ বিষয়ে কেউ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি।

এদিকে প্রবাসীর স্ত্রী জানান, রাতে ঘরে ফিরে তিনি আজাদকে দেখতে পান। স্থানীয়রা ঘর ঘিরে ফেললে আতঙ্কে তিনি আলমারিতে লুকিয়ে পড়েন বলে দাবি করেন।

বড় খারদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদা খান লিমা বলেন, বিষয়টি লোকমুখে জেনে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. তামেম উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি শুনেছি। অফিসে গিয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. দবির উদ্দিন জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে দপ্তরি আজাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে সাময়িক বরখাস্তও করা হতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকায় এখনো আলোচনা-সমালোচনা চলছে।