ঢাকা ০৭:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কিছু বুঝে ওঠার আগেই ব্যবসায়ীকে কোপানো শুরু, ছিনিয়ে নেয় পাঁচ লাখ টাকা এখনই অবসর নেবেন না, ইঙ্গিত নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর বড় বিপদ ব্ল্যাক কার্বন গাজীপুরে পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ: সংঘর্ষ, আগুন ও উত্তেজনার ছয় ঘণ্টা শিশুর কখন টয়লেট ব্যবহার শুরু করা উচিত ভৌতিক নয়, হ্যালোউইনে তারকাদের সাজে নস্টালজিয়া সবাইকে এক কক্ষে নিয়ে ডাকাতেরা বলে, ‘চিৎকার করলে বোম মেরে উড়িয়ে দেব’ আঞ্চলিক কাব ক্যাম্পুরিতে অংশ নিয়েছে বাবুডাইং কাব স্কাউট দল খারাপ ফলাফল করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে জবাবদিহির আওতায় আনার নির্দেশ শিক্ষামন্ত্রীর সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের বদদোয়া: পরিণতি কী

রায়গঞ্জে রাস্তার মাঝেই বিদ্যুতের খুঁটি

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলাধীন ধানগড়া পুরাতন চৌরাস্তা সেন্টার পয়েন্টমোর হতে রায়গঞ্জ বাজার হয়ে ভূঁইয়াগাতী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে গত দেড় বছর পূর্বে। কাজটির তদারকি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদারস। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯কোটি ৪১ টাকা।

এই রাস্তার দুই পাশে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১৩টি খুঁটি। কাজের ৫০ শতাংশ শেষ হলেও সরানো হয়নি রাস্তার মাঝে অথবা রাস্তার ভিতরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো। ফলে অপরিকল্পিত এই উন্নয়নের সুফল পাওয়ার বদলে চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে দিন কাটাতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবনির্মিত এই পাকা রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের ১৩খুঁটি ঠিক রাস্তার পাশে অথবা মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার পাশে খুঁটিগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাঁকগুলোতে খুঁটি থাকার কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সদর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,দিনের বেলা কোনোমতে চলাচল করা গেলেও রাতের অন্ধকারে এই খুঁটিগুলো মরণফাঁদে পরিণত হবে । সড়ক বাতির ব্যবস্থা না থাকায় এবং সতর্কতামূলক কোনো চিহ্ন না থাকায় অপরিচিত চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হ‌ওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে কাজিপুর থেকে তাড়াশে

যাওয়ার পথে ভ্যানচালক মুক্তার হোসেন বলেন, দ্রুত এই খুঁটিগুলো অপসারণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন,”উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যথাযথ সমন্বয় না থাকায় সাধারণ মানুষের বিপদ বাড়ছে। রাস্তা নির্মাণের আগেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে খুঁটিগুলো সরানো উচিত ছিল।”

ধানগড়া বাজারের শরিফুল ইসলাম বলেন, খুঁটি থাকলে রাস্তাটি টেকসই হবে না এবং ভবিষ্যতে খুঁটি সরালে সরকারের দ্বিগুণ টাকা নষ্ট হবে। তিনি আরো বলেন, খুঁটিনা সরানো না হলে ধানগড়া বাজারের ভিতরে সব সময়ই যানজট লেগে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, রাস্তা প্রশস্ত করার আগে বিদ্যুৎ বিভাগকে পত্র দেওয়া হয়েছে। সে মোতাবেক পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাদেরকে একটি ডিমান্ড নোট পাঠানো হয়েছে। তবে ডিমান্ড নোটে একটু ত্রুটি থাকার কারণে অনুমোদনের জন্য এখনো ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে সঠিক ডিমান্ড নোট পেলে খুঁটি সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘শিফটিং চার্জ’ দিয়ে খুটি সারানোর ব্যবস্থা করানো হবে। তিনি আরো বলেন,সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয়বার কাজের সময় বর্ধিতকরণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ডিমান্ড নোট অনুযায়ী টাকা জমা না দেওয়ায় খুঁটি অপসরণের কাজ সম্ভব হয়নি। টাকা জমা দিলে ঠিকাদারের মাধ্যমে খুঁটি অপসারণ করা হবে।

উন্নয়ন যখন মানুষের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই উন্নয়নের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই দপ্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই খুঁটিগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

রায়গঞ্জে রাস্তার মাঝেই বিদ্যুতের খুঁটি

আপডেট সময় : ০৪:৫১:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৬ মে ২০২৬

সিরাজগঞ্জ জেলার রায়গঞ্জ উপজেলাধীন ধানগড়া পুরাতন চৌরাস্তা সেন্টার পয়েন্টমোর হতে রায়গঞ্জ বাজার হয়ে ভূঁইয়াগাতী উচ্চ বিদ্যালয় পর্যন্ত অতি গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তার প্রশস্তকরণের কাজ শুরু হয়েছে গত দেড় বছর পূর্বে। কাজটির তদারকি করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদারস। প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৯কোটি ৪১ টাকা।

এই রাস্তার দুই পাশে রয়েছে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের ১৩টি খুঁটি। কাজের ৫০ শতাংশ শেষ হলেও সরানো হয়নি রাস্তার মাঝে অথবা রাস্তার ভিতরে থাকা বিদ্যুতের খুঁটিগুলো। ফলে অপরিকল্পিত এই উন্নয়নের সুফল পাওয়ার বদলে চরম দুর্ভোগ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে দিন কাটাতে হবে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবনির্মিত এই পাকা রাস্তার বেশ কয়েকটি স্থানে বিদ্যুতের ১৩খুঁটি ঠিক রাস্তার পাশে অথবা মাঝে দাঁড়িয়ে আছে। রাস্তার পাশে খুঁটিগুলো আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বাঁকগুলোতে খুঁটি থাকার কারণে ভারী যানবাহন চলাচলে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

রায়গঞ্জ উপজেলা সদর বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক সেলিম রেজা বলেন,দিনের বেলা কোনোমতে চলাচল করা গেলেও রাতের অন্ধকারে এই খুঁটিগুলো মরণফাঁদে পরিণত হবে । সড়ক বাতির ব্যবস্থা না থাকায় এবং সতর্কতামূলক কোনো চিহ্ন না থাকায় অপরিচিত চালকরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হ‌ওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এই রাস্তা দিয়ে কাজিপুর থেকে তাড়াশে

যাওয়ার পথে ভ্যানচালক মুক্তার হোসেন বলেন, দ্রুত এই খুঁটিগুলো অপসারণ করা না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ঠিকাদার বলেন,”উন্নয়ন হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু যথাযথ সমন্বয় না থাকায় সাধারণ মানুষের বিপদ বাড়ছে। রাস্তা নির্মাণের আগেই সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সাথে সমন্বয় করে খুঁটিগুলো সরানো উচিত ছিল।”

ধানগড়া বাজারের শরিফুল ইসলাম বলেন, খুঁটি থাকলে রাস্তাটি টেকসই হবে না এবং ভবিষ্যতে খুঁটি সরালে সরকারের দ্বিগুণ টাকা নষ্ট হবে। তিনি আরো বলেন, খুঁটিনা সরানো না হলে ধানগড়া বাজারের ভিতরে সব সময়ই যানজট লেগে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রকৌশল বিভাগের সাথে যোগাযোগ করা হলে রায়গঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী রবিউল আলম বলেন, রাস্তা প্রশস্ত করার আগে বিদ্যুৎ বিভাগকে পত্র দেওয়া হয়েছে। সে মোতাবেক পল্লী বিদ্যুৎ অফিস থেকে আমাদেরকে একটি ডিমান্ড নোট পাঠানো হয়েছে। তবে ডিমান্ড নোটে একটু ত্রুটি থাকার কারণে অনুমোদনের জন্য এখনো ঢাকায় পাঠানো সম্ভব হয়নি। তবে সঠিক ডিমান্ড নোট পেলে খুঁটি সরানোর জন্য প্রয়োজনীয় ‘শিফটিং চার্জ’ দিয়ে খুটি সারানোর ব্যবস্থা করানো হবে। তিনি আরো বলেন,সঠিক সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দ্বিতীয়বার কাজের সময় বর্ধিতকরণ করা হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, সিরাজগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ১ এর একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ডিমান্ড নোট অনুযায়ী টাকা জমা না দেওয়ায় খুঁটি অপসরণের কাজ সম্ভব হয়নি। টাকা জমা দিলে ঠিকাদারের মাধ্যমে খুঁটি অপসারণ করা হবে।

উন্নয়ন যখন মানুষের পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়ায়, তখন সেই উন্নয়নের সার্থকতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট দুই দপ্তরের সমন্বয়ের মাধ্যমে এই খুঁটিগুলো নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।