ঢাকা ০৩:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বিশ্বব্যাংক–এর অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৃষ্টির মধ্যেই ড্রেনের ঢালাই কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ড্রেনের ঢালাই কাজ চলছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এছাড়া ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঢালাইয়ে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এর আগে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মামুনুর রশিদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রকল্পের কাজের অনিয়ম নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কাজের মান ও ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, রাতের অন্ধকারে ড্রেনের ঢালাই কাজ চালানো হয় এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি পক্ষের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সাবেক হিসাব মহানিয়ন্ত্রক ফারুক মোহাম্মদ ছিদ্দিকী ইউএনওকে অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বছর ১১ জানুয়ারিতে ধারণ করা একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দেখা যায়—পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা বা প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকলেও গ্রেড ওয়ালের কাজ চলছিল। যথাযথ কাঠামো (শাটারিং) ব্যবহার না করে দুই পাশে পলিথিন দিয়ে ঢালাই দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে গ্রেড ওয়াল বাঁকা হয়ে গেছে এবং কংক্রিট ও সিমেন্টের সমন্বয় ঠিকমতো হয়নি।

এমনকি ওই ওয়ালের এক পাশে মাটি ধসে পড়ায় নির্মিত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্রও ভিডিওতে দেখা যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র আরও জানায়, পটিয়া পৌরসভার ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় কার্পেটিং সড়ক, আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেন, আরসিসি সড়ক এবং স্ট্রিট লাইটিং স্থাপনের কাজ চলছে।

২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করে আইটি এন্টারপ্রাইজ–মমতা অ্যান্ড সন্স (জেভি)। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, যথাযথ তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার উপসহকারী কর্মকর্তা মামুন বলেন, আমি উপস্থিত না থাকলেও আমার প্রতিনিধি সেখানে ছিল। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মমতা অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে তার ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, কাজের গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।

পটিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

পটিয়ায় বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ

আপডেট সময় : ০৬:৪৫:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৩ মে ২০২৬

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় বিশ্বব্যাংক–এর অর্থায়নে প্রায় ১৪ কোটি টাকার একটি উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বৃষ্টির মধ্যেই ড্রেনের ঢালাই কাজ চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে তড়িঘড়ি করে ঢালাই কাজ সম্পন্ন করা হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টিকে উপেক্ষা করেই ড্রেনের ঢালাই কাজ চলছিল। এ সময় ঘটনাস্থলে কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার উপস্থিতি দেখা যায়নি।

এছাড়া ব্যবহৃত নির্মাণসামগ্রীর মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, ঢালাইয়ে নিম্নমানের বালু ব্যবহার করা হয়েছে। এতে প্রকল্পের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এর আগে, গত ১৯ ফেব্রুয়ারি মামুনুর রশিদ নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা প্রকল্পের কাজের অনিয়ম নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, কাজের মান ও ব্যবস্থাপনায় চরম অনিয়ম রয়েছে।

তিনি দাবি করেন, রাতের অন্ধকারে ড্রেনের ঢালাই কাজ চালানো হয় এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে ঠিকাদারি পক্ষের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়। বিষয়টি সাবেক হিসাব মহানিয়ন্ত্রক ফারুক মোহাম্মদ ছিদ্দিকী ইউএনওকে অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

এ বছর ১১ জানুয়ারিতে ধারণ করা একটি ভিডিওর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেখানে দেখা যায়—পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা বা প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকলেও গ্রেড ওয়ালের কাজ চলছিল। যথাযথ কাঠামো (শাটারিং) ব্যবহার না করে দুই পাশে পলিথিন দিয়ে ঢালাই দেওয়ায় নির্মাণকাজের মান প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ফলে গ্রেড ওয়াল বাঁকা হয়ে গেছে এবং কংক্রিট ও সিমেন্টের সমন্বয় ঠিকমতো হয়নি।

এমনকি ওই ওয়ালের এক পাশে মাটি ধসে পড়ায় নির্মিত অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার চিত্রও ভিডিওতে দেখা যায় বলে তিনি অভিযোগ করেন। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সূত্র আরও জানায়, পটিয়া পৌরসভার ৪ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে এই প্রকল্পের আওতায় কার্পেটিং সড়ক, আরসিসি বক্স কালভার্ট, আরসিসি ড্রেন, আরসিসি সড়ক এবং স্ট্রিট লাইটিং স্থাপনের কাজ চলছে।

২০২৫ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর কাজ শুরু করে আইটি এন্টারপ্রাইজ–মমতা অ্যান্ড সন্স (জেভি)। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী এ বছরের ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, যথাযথ তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিজেদের ইচ্ছামতো কাজ পরিচালনা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ বিষয়ে পটিয়া পৌরসভার উপসহকারী কর্মকর্তা মামুন বলেন, আমি উপস্থিত না থাকলেও আমার প্রতিনিধি সেখানে ছিল। বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মমতা অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী সাজ্জাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ঘটনাস্থলে তার ভাই জসিম উদ্দিন বলেন, কাজের গুণগত মান বজায় রেখেই কাজ করা হচ্ছে।

পটিয়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান জানান, অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।