চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ: দেড় ঘণ্টায় ৩ দুর্ঘটনায় নিহত ৩
- আপডেট সময় : ০৬:১১:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ৮৮ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে মৃত্যুফাঁদ: দেড় ঘণ্টায় ৩ দুর্ঘটনা, নিহত ৩—আতঙ্কে চুনতির বাসিন্দারা
নুরুল আমিন লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের বন ও পুকুর এলাকা জুড়ে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি এখন জনমনে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১১টা থেকে শুরু করে অল্প সময়ের মধ্যেই দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকায় পরপর তিনটি মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে একটি দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তিনজন প্রাণ হারান, আহত হন আরও কয়েকজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজের অংশ হিসেবে সড়কের পাশে গভীর গর্ত খনন করা হয়েছে। কিন্তু এসব গর্তের পাশে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা, সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড কিংবা ব্যারিকেড না থাকায় প্রতিনিয়ত ঘটছে দুর্ঘটনা।
ঘটনার বর্ণনায় জানা যায়, একটি কাভার্ড ভ্যান অপর একটি কাভার্ড ভ্যানকে ওভারটেক করার সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের গর্তে পড়ে যায়। এর কিছু সময়ের মধ্যেই একই এলাকায় আরও দুটি দুর্ঘটনা ঘটে, যা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তোলে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, লোহাগাড়ার চুনতির জাঙ্গালিয়া এলাকা থেকে শুরু করে অন্তত পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার মহাসড়ক বর্তমানে “দুর্ঘটনার কারখানা” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে, আর বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা লেগেই থাকছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা এখন চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। যানবাহনে চলাচল তো দূরের কথা, মহাসড়কের পাশে হেঁটে চলাচল করাও তাদের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। অনেকেই প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।
ক্ষোভ আর হতাশা প্রকাশ করে এলাকাবাসী বলেন, গত ১৮ মাস ধরে তারা এ সমস্যার সমাধানের দাবিতে মানববন্ধন, সড়ক অবরোধসহ নানা আন্দোলন করে আসছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি।
“আমরা বলতে বলতে ক্লান্ত। এখন যেন বোবা হয়ে গেছি। এত আন্দোলন করেও কোনো ফল পাইনি। আর বলার মতো শক্তিও নেই”—এভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা।
এদিকে সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে মহাসড়কের ঝুঁকিপূর্ণ অংশগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার, সঠিক পরিকল্পনায় কাজ সম্পন্ন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত না করা হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
তারা অবিলম্বে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। যাতে এই গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় এবং প্রাণহানির মিছিল বন্ধ হয়।

























