ঢাকা ০১:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

‘গর্বিত বিপ্লবীর মা’ পরিচয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিলেন সালাহউদ্দিন আম্মারের মা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ ২১ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মা রোকেয়া খানম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন ‘গর্বিত বিপ্লবীর মা’ হিসেবে এবং ছেলের রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি সালাহউদ্দিন আম্মার-এর রাজনৈতিক যাত্রা, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং পরিবার হিসেবে নানা সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসের শুরুতেই তিনি লিখেন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত ছেলেকে নিয়ে তার মধ্যে গভীর উদ্বেগ থাকলেও, আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনার পর তিনি তাকে দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করার মানসিক সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার ছেলে কারও ব্যক্তিগত ঘৃণার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের কারণে মূল্যায়িত হয়।

রোকেয়া খানম তার লেখায় অতীত রাজনৈতিক সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারকে রাজনৈতিক কারণে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিজের ভাইয়ের ওপর নির্যাতন, স্বামীর শারীরিক ক্ষতির মতো ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এসব অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সে ছেলেকে নিরাপত্তার কথা ভেবে দূরে পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তার জীবন ও সিদ্ধান্তগুলো বদলে যায় বলে তিনি জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি ছেলের বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, কেউ বিরক্ত হলেও তিনি তাকে থামাতে চান না, বরং দোয়া করেন যেন সে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ছেলের নিরাপত্তা ও সঠিক পথে থাকা।

তিনি আরও লেখেন, অতীতে পরিবারকে ঘরবন্দী রাখা, ওষুধ নিতে বাধা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি অনুভব করেন। এসব ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে, তবে তার উদ্দেশ্য কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া।

সবশেষে রোকেয়া খানম রাজনৈতিক দল-মত ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্যাগ ও শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

‘গর্বিত বিপ্লবীর মা’ পরিচয়ে ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিলেন সালাহউদ্দিন আম্মারের মা

আপডেট সময় : ০৯:৫০:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আম্মারের মা রোকেয়া খানম ফেসবুকে একটি দীর্ঘ স্ট্যাটাস দিয়েছেন, যেখানে তিনি নিজের পরিচয় তুলে ধরেছেন ‘গর্বিত বিপ্লবীর মা’ হিসেবে এবং ছেলের রাজনৈতিক জীবন ও পারিবারিক অভিজ্ঞতা নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেছেন।

শুক্রবার রাত ১০টার দিকে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসে তিনি সালাহউদ্দিন আম্মার-এর রাজনৈতিক যাত্রা, আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং পরিবার হিসেবে নানা সময়ের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।

স্ট্যাটাসের শুরুতেই তিনি লিখেন, ১৫ জুলাই পর্যন্ত ছেলেকে নিয়ে তার মধ্যে গভীর উদ্বেগ থাকলেও, আবু সাঈদের মৃত্যুর ঘটনার পর তিনি তাকে দেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করার মানসিক সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, তার ছেলে কারও ব্যক্তিগত ঘৃণার বিষয় নয়, বরং রাজনৈতিক অবস্থান ও আদর্শের কারণে মূল্যায়িত হয়।

রোকেয়া খানম তার লেখায় অতীত রাজনৈতিক সময়ের নানা অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন, তাদের পরিবারকে রাজনৈতিক কারণে কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। নিজের ভাইয়ের ওপর নির্যাতন, স্বামীর শারীরিক ক্ষতির মতো ঘটনাগুলো উল্লেখ করে তিনি লেখেন, এসব অভিজ্ঞতা তার জীবনে গভীর প্রভাব ফেলেছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, মাত্র ১৬ বছর বয়সে ছেলেকে নিরাপত্তার কথা ভেবে দূরে পাঠাতে বাধ্য হয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই তার জীবন ও সিদ্ধান্তগুলো বদলে যায় বলে তিনি জানান।

স্ট্যাটাসে তিনি ছেলের বর্তমান রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও কথা বলেন। সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি লেখেন, কেউ বিরক্ত হলেও তিনি তাকে থামাতে চান না, বরং দোয়া করেন যেন সে দায়িত্বশীলভাবে এগিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ছেলের নিরাপত্তা ও সঠিক পথে থাকা।

তিনি আরও লেখেন, অতীতে পরিবারকে ঘরবন্দী রাখা, ওষুধ নিতে বাধা দেওয়া এবং চাপ প্রয়োগের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে বলে তিনি অনুভব করেন। এসব ঘটনাকে তিনি রাজনৈতিক বাস্তবতার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্ট্যাটাসের এক পর্যায়ে তিনি বলেন, প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় থাকবে, তবে তার উদ্দেশ্য কেবল নিরাপত্তা নয়, বরং ভবিষ্যতের জন্য একটি দৃষ্টান্ত রেখে যাওয়া।

সবশেষে রোকেয়া খানম রাজনৈতিক দল-মত ভেদাভেদ ভুলে সবাইকে ইতিবাচক রাজনীতির আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ত্যাগ ও শহীদদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র হিসেবে এগিয়ে যাবে।