ঢাকা ০৭:২৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চড়া দামের আপেল শুধু সরকার পরিবর্তনে কিংবা গণ-অভ্যুত্থানে মানুষের মৌলিক সমস্যার সমাধান হয় না ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ–সংঘর্ষ, গ্রেপ্তার ৫ শতাধিক আজ টিভিতে যা দেখবেন (১ নভেম্বর ২০২৬) ইসরায়েলের রাস্তায় হাজারো মানুষ, ইহুদি-আরব সরকার গঠনের দাবি সেনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে মোজতবা খামেনির প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক, কী নির্দেশ দিলেন নিউমার্কেটের সামনে ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান, বসানো হলো গাছের চারা ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, ভাঙচুর বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত ছেলে বেঁচে নেই, এইচএসসির ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ, সংকটে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ

দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬ ৫০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর সব ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়। এ কারণে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মেরামত কাজ চলছে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

এর আগে থেকেই ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩ নম্বর ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু হলেও কয়েক মাসের মধ্যে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-র ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নানা জটিলতার কারণে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেই ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় মজুত দ্রুত বেড়ে গেছে। বর্তমানে খনিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও ব্যবহার না হওয়ায় ইয়ার্ডে মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে, যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। বিকল্প স্থানে কয়লা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি আরও বেড়ে গেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সব ইউনিট বন্ধ, সংকটে উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র-এর সব ইউনিটের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চলের অন্তত আট জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

বুধবার (২২ এপ্রিল) রাত ১০টা ১০ মিনিটে ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এর ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রটির তিনটি ইউনিটই বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে।

বিদ্যুৎকেন্দ্রটির প্রধান প্রকৌশলী আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, কয়লার সঙ্গে পাথর মিশে যাওয়ায় ১ নম্বর ইউনিটের বয়লার পাইপ ফেটে যায়। এ কারণে ইউনিটটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, মেরামত কাজ চলছে এবং উৎপাদন স্বাভাবিক করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে।

এর আগে থেকেই ১২৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ২ নম্বর ইউনিট এবং ২৭৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩ নম্বর ইউনিট দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। জানা গেছে, বিদ্যুৎকেন্দ্রটির ৩ নম্বর ইউনিটটি ২০২৪ সালের ১ নভেম্বর থেকে এবং ২ নম্বর ইউনিটটি ২০২০ সালের নভেম্বর থেকে বন্ধ রয়েছে। গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর ১ নম্বর ইউনিট বন্ধ হওয়ার পর ১৪ জানুয়ারি পুনরায় চালু হলেও কয়েক মাসের মধ্যে আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়।

২০০৬ সালে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি-র ওপর ভিত্তি করে স্থাপিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটির মোট উৎপাদন ক্ষমতা ৫২৫ মেগাওয়াট। তবে যান্ত্রিক ত্রুটি ও নানা জটিলতার কারণে কখনোই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণেই ঘন ঘন ত্রুটি দেখা দিচ্ছে।

এদিকে বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েছে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি কর্তৃপক্ষ। খনির উৎপাদিত কয়লার একমাত্র ক্রেতা এই বিদ্যুৎকেন্দ্র হওয়ায় মজুত দ্রুত বেড়ে গেছে। বর্তমানে খনিতে দৈনিক গড়ে ২ হাজার ৭০০ টন কয়লা উত্তোলন করা হলেও ব্যবহার না হওয়ায় ইয়ার্ডে মজুত বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টনে, যা ধারণক্ষমতার অনেক বেশি।

বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বলেন, কয়লা সংরক্ষণের জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে। বিকল্প স্থানে কয়লা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও উত্তরাঞ্চলের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতি আরও বেড়ে গেছে।