সওজের জলাশয় দখল করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণ, অনুমোদনহীন কাজে উদ্বেগ
- আপডেট সময় : ০৭:৩৪:২৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬ ৪২ বার পড়া হয়েছে

ঝালকাঠি পৌর এলাকায় সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের মালিকানাধীন একটি জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই বরিশাল–ঝালকাঠি–পিরোজপুর–বাগেরহাট–খুলনা জাতীয় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে এ নির্মাণকাজ চলায় পরিবেশ ও অবকাঠামোগত নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
জানা যায়, ঝালকাঠি শহরের বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় সওজের অধিগ্রহণকৃত একটি প্রাকৃতিক জলাশয় ভরাট করে ট্রাকস্ট্যান্ড নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়। এ প্রকল্পে পৌরসভা থেকে ৭ লাখ ৭ হাজার ৮৮৭ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। দরপত্রের মাধ্যমে কার্যাদেশ পাওয়ার পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ শুরু করে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জমিটি সওজ বিভাগের অধীন হলেও সেখানে কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই মাটি ভরাট ও অবকাঠামো নির্মাণের কার্যক্রম চলছে। এতে এলাকার প্রাকৃতিক জলাধার ও পরিবেশগত ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে গত ১৫ এপ্রিল ঝালকাঠি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘হাইওয়ে মাস্টার প্ল্যান ২০৪০’ বাস্তবায়ন সংক্রান্ত সভায় বিষয়টি উত্থাপন করেন সওজ ঝালকাঠি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহরিয়ার শরীফ খান। তিনি সভায় বিষয়টির প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জেলা প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের কাছে লিখিতভাবে চিঠি দেন।
চিঠিতে বলা হয়, মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। সওজের অধিগ্রহণকৃত জমি কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়া অন্য কাজে ব্যবহার করা আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। ভূমি ব্যবহার নীতিমালা অনুযায়ী সরকারি জমির ব্যবহার পরিবর্তনের আগে যথাযথ অনুমোদন প্রয়োজন।
সওজ বিভাগ আরও জানায়, ওই জলাশয়টি প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন এবং পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের আওতায় সুরক্ষিত। অনুমতি ছাড়া জলাধারের শ্রেণি পরিবর্তন করলে আইনগত শাস্তির বিধান রয়েছে।
স্থানীয় জমির মালিক কামরুল ইসলাম তালুকদার অভিযোগ করে বলেন, অধিগ্রহণের পরও প্রকল্পের বিষয়ে তাদের কোনো নোটিশ বা আলোচনা করা হয়নি।
ঠিকাদার মাহমুদুল ইসলাম বলেন, তিনি পৌরসভা থেকে কার্যাদেশ পেয়েই কাজ শুরু করেছেন। জমির মালিকানা ও অন্যান্য বিষয় পৌর কর্তৃপক্ষ দেখবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. নাজমুল হাসান বলেন, শহরের যানবাহন ব্যবস্থাপনা উন্নত করতে ট্রাকস্ট্যান্ড প্রয়োজন ছিল। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়া জলাশয় ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণ অব্যাহত থাকলে পরিবেশের ক্ষতি ছাড়াও ভবিষ্যতে মহাসড়ক উন্নয়ন পরিকল্পনাও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। সওজ বিভাগ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।























