ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ন্যূনতম বেতন ৩০ হাজার টাকার দাবিতে মিরপুর পোশাক শ্রমিকদের অবরোধ, ভাঙচুর বিনার গামা রশ্মি বিকিরণ কেন্দ্র উদ্বোধন, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণকাল বাড়বে ১২ মাস পর্যন্ত ছেলে বেঁচে নেই, এইচএসসির ফল দেখে কান্নায় ভেঙে পড়লেন বাবা দেশের আর্থিক খাত সংস্কারে ৪৫ কোটি ডলার ঋণ দেবে বিশ্বব্যাংক শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি হ্যালোউইনে মা শ্রীদেবীর আইকনিক ‘নাগিনা’ লুকে হইচই ফেলে দিয়েছেন জাহ্নবী সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে: কুষ্টিয়ায় শফিকুর রহমান বাংলাদেশ রসায়ন অলিম্পিয়াডের আঞ্চলিক পর্ব অনুষ্ঠিত, চূড়ান্ত পর্ব ২৮ নভেম্বর জমির বাণিজ্যিকীকরণে বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে ঢাকা উচ্চকক্ষ নিয়ে আলোচনা লংমার্চে হবে না, কমিটিতে আসুন: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ ০ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শাসকের পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতারা। তাঁরা বলেছেন, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন অব্যাহত রয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়নি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো ভেঙে অংশীদারত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেএসডি জানিয়েছে, শনিবার জেএসডির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো বদলাও—অংশীদারত্বের গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র রূপান্তর করো’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব।

.

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে জেএসডির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। তবে এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই জনগণকে ক্ষমতায়িত করার লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়—এমনকি বিএনপির ৩১ দফায় দেওয়া অঙ্গীকারও কার্যকর করা হচ্ছে না। নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনগণের কাঙ্ক্ষিত পথ কিংবা নিজেদের প্রতিশ্রুতির পথে হাঁটছে না। সংবিধানের গভীর সংস্কারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

শরীফ ভূঁইয়া আরও বলেন, শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও অন্তত জনকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়। ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না রেখে বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথক্‌করণ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা-কাঠামোর পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্র আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

.

সংসদের উচ্চকক্ষে বিকশিত সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে আইন প্রণয়নে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমদ। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোয় ভারসাম্য তৈরি হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সরকার ও শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস হয়নি। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :
   

শুধু শাসকের পরিবর্তন হয়েছে, রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি: জেএসডি

আপডেট সময় : ০২:২৪:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

শাসকের পরিবর্তন হলেও রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) নেতারা। তাঁরা বলেছেন, ক্ষমতার কেন্দ্রীভবন অব্যাহত রয়েছে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণও নিশ্চিত হয়নি। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো ভেঙে অংশীদারত্বের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছে দলটি।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জেএসডি জানিয়েছে, শনিবার জেএসডির ৫৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘পুরোনো ক্ষমতা-কাঠামো বদলাও—অংশীদারত্বের গণতন্ত্রের মাধ্যমে রাষ্ট্র রূপান্তর করো’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় দলটির নেতারা এসব কথা বলেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেএসডির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি তানিয়া রব।

.

আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সাংবাদিক সোহরাব হাসান বলেন, শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের লড়াইয়ের অঙ্গীকার নিয়ে জেএসডির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে রাষ্ট্র সংস্কারের কর্মসূচিকে সামনে নিয়ে আসা হচ্ছে, যা আদর্শিক অবস্থান থেকে এক ধরনের বিচ্যুতি। তবে এই বাস্তবতা মেনে নিয়েই জনগণকে ক্ষমতায়িত করার লড়াই অব্যাহত রাখতে হবে।

সাবেক সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য ও আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায়—এমনকি বিএনপির ৩১ দফায় দেওয়া অঙ্গীকারও কার্যকর করা হচ্ছে না। নির্বাচিত বিএনপি সরকার জনগণের কাঙ্ক্ষিত পথ কিংবা নিজেদের প্রতিশ্রুতির পথে হাঁটছে না। সংবিধানের গভীর সংস্কারে গণভোটের রায় বাস্তবায়নের ঐতিহাসিক সুযোগ হাতছাড়া হয়েছে।

শরীফ ভূঁইয়া আরও বলেন, শাসনক্ষমতা ও রাষ্ট্রকাঠামো এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে সরাসরি জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা সম্ভব না হলেও অন্তত জনকেন্দ্রিক শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা যায়। ক্ষমতাকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক না রেখে বিস্তৃত ও বিকেন্দ্রীভূত করতে হবে। রাষ্ট্রের তিন বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার পৃথক্‌করণ নিশ্চিত করতে হবে। ক্ষমতা-কাঠামোর পরিবর্তন না হলে রাষ্ট্র আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে।

.

সংসদের উচ্চকক্ষে বিকশিত সামাজিক শক্তির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা গেলে আইন প্রণয়নে বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে বলে উল্লেখ করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষক হেলালুজ্জামান আহমদ। তিনি বলেন, এর মাধ্যমে রাষ্ট্রের ক্ষমতা-কাঠামোয় ভারসাম্য তৈরি হবে।

জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার সরকার ও শাসকের পরিবর্তন ঘটলেও ক্ষমতার কেন্দ্রীভূত কাঠামোর মৌলিক পরিবর্তন হয়নি। ক্ষমতার হাতবদল হয়েছে, কিন্তু ক্ষমতার গণতান্ত্রিক পুনর্বিন্যাস হয়নি। রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণ, সম্পদ বণ্টন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা যায়নি।

সভাপতির বক্তব্যে তানিয়া রব জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকার ও গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় কার্যকর করার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার সম্পন্ন করার আহ্বান জানান।