জলবায়ু পরিবর্তনে দ্বিগুণ সংকটে চরাঞ্চলে
- আপডেট সময় : ০৬:৪৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬ ৪৮ বার পড়া হয়েছে

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও স্বাস্থ্যসেবার ঘাটতির কারণে দেশের চরাঞ্চলের মানুষ দ্বিগুণ সংকটে পড়েছে বলে জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ কেবল স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। বঞ্চিত এই জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এখন মৌলিক ন্যায্যতার প্রশ্ন।
মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর ভিআইপি লাউঞ্জে কোস্ট ফাউন্ডেশন, ইক্যুইটি বিডি এবং বিডিসিএসও প্রসেস আয়োজিত ‘মৌলিক স্বাস্থ্য সেবা: চরাঞ্চলের একটি উপেক্ষিত বাস্তবতা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলা হয়।
বক্তারা বলেন, দুর্গম চরাঞ্চলে বসবাসকারী মানুষ প্রতিনিয়ত অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম করছে। সেখানে উন্নয়ন যদি বাস্তব পরিবর্তন না আনে, তবে তা শুধু পরিসংখ্যানের উন্নয়ন হিসেবেই থেকে যাবে।
প্রসবকালীন সেবার উন্নয়নে চরাঞ্চলে প্রয়োজনীয় কমিউনিটি ক্লিনিক ও নিরাপদ মাতৃসেবা কেন্দ্র স্থাপন, ধাত্রীদের দক্ষতা বৃদ্ধির উদ্যোগ এবং আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের জটিল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম করে তোলার ওপর জোর দেন বক্তারা। পাশাপাশি দুর্গম এলাকায় নৌ-অ্যাম্বুলেন্স, ভাসমান ক্লিনিক ও মোবাইল মেডিকেল টিম চালুরও দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও ইক্যুইটি বিডির প্রধান সঞ্চালক এম. রেজাউল করিম চৌধুরী। এতে আরও বক্তব্য দেন বিডিসিএসও প্রসেসের সমন্বয়কারী মোস্তফা কামাল আকন্দ, সোসাইটি ফর ডেভেলপমেন্ট ইনিশিয়েটিভ-এর সহকারী পরিচালক সৈয়দ আশরাফ হোসেন এবং মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কোস্ট ফাউন্ডেশনের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক প্রধান এম. এ. হাসান।
এম. রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, চরাঞ্চলে প্রায় এক কোটি মানুষ বসবাস করে, যারা জলবায়ু পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবার সংকটের কারণে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। দুর্যোগের সময় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় চিকিৎসার কোনো ব্যবস্থা থাকে না।
মোস্তফা কামাল আকন্দ বলেন, চরাঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত না করে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব নয়। এজন্য আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় বরাদ্দ কমপক্ষে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর দাবি জানান তিনি।
এম. এ. হাসান বলেন, পটুয়াখালীর চরহাদি, ভোলার চরমোজাম্মেল, চর জহিরউদ্দিন, চটকিমারা, নাগরপাটওয়ারীর চর ও চর নিউটনের মতো অসংখ্য চরাঞ্চলে লাখ লাখ মানুষ বাস করলেও সেখানে ন্যূনতম স্বাস্থ্যসেবা নেই। অনেক জায়গায় কমিউনিটি ক্লিনিকও নেই। তিনি চরাঞ্চলের জন্য আলাদা ‘চরাঞ্চল স্বাস্থ্যখাত’ নামে বাজেট বরাদ্দের প্রস্তাব দেন।
সৈয়দ আশরাফ হোসেন বলেন, চরাঞ্চলের মানুষকে প্রাথমিক চিকিৎসা পেতেও দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে উপজেলা বা জেলা সদর হাসপাতালে যেতে হয়। দুর্যোগের সময় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় সাধারণ রোগও মারাত্মক আকার ধারণ করে। বিশেষ করে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এজন্য জরুরি রোগী ও গর্ভবতী মায়েদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার জন্য নৌ-অ্যাম্বুলেন্স ও বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

























