ঢাকা ০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আশুগঞ্জ ও আখাউড়া চারলেনের কাজ আট বছরে ৬২ শতাংশ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০৬:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬ ২২ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরকে যুক্ত করা ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলেও আট বছর পেরিয়ে কাজ শেষ হয়নি। অগ্রগতি থেমে আছে মাত্র ৬২–৬৪ শতাংশে।

প্রকল্পের একবার সংশোধনের পর মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকারের দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে ২ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় নতুন করে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তিনটি প্যাকেজের একটি বাতিলের সিদ্ধান্তে। তন্তর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় প্যাকেজটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন চারলেন হচ্ছে কেবল আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত।

চারলেন প্রকল্পের পরিচালক শামীম আহমেদ এবিষয়ে বলেন, এ পর্যন্ত কাজের ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন ২০২৬ মধ্যে শেষ হবে কিন্তু আমরা প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছি।  তবে ব্যয় বাড়বে না বলে দাবি করেন তিনি। আমরা চেষ্টা করছি বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে, যাতে রেল ও সড়ক পরিবহনও স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই মহাসড়কজুড়ে ভয়াবহ দুরবস্থা। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কুয়াশায় ঢেকে যায় এলাকা, আর বর্ষায় হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তা। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে দেবে গেছে সড়ক। আশুগঞ্জ গোলচত্বর, খাটিহাতা বিশ্বরোড মোড়, বিরাশার, পৈরতলা বাসস্ট্যান্ড, পুনিয়াউট, রাধিকা, সুলতানপুর থেকে তন্তরসহ সব জায়গাই এখন ভোগান্তির নামান্তর।

বিশেষ করে যানযটের সময় সরাইল বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।

বাসচালক ও যাত্রীরা জানান, চারলেন কাজের কারনে রাস্তায় ধুলাবালি বেশি, শ্বাসকষ্ট হয় আমাদের। এছাড়াও যানজটে আটকে থাকতে হয়। রাস্তার কাজ শেষ হলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে রেলপথে ঝুঁকলেও সেখানেও ভিড় আর বিলম্ব নিত্যদিনের সঙ্গী।

প্রকল্পের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গত বছরের অক্টোবরে আশুগঞ্জ–বিশ্বরোড অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ১২ জন কর্মকর্তাকে প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থানের নির্দেশ দেন। কড়া ভাষায় বলেন, ঢাকায় বসে অফিস নয়, মাঠে থেকেই কাজ শেষ করতে হবে, নচেৎ বরখাস্ত।

জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও প্রকল্পের অগ্রগতি—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত কাজ আগামী জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্বাচন সামনে থাকায় কাজ দ্রুত শেষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত চারলেনের কাজ আগামী জুন ২০২৬ এবং আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই চারলেনের সরাইল বিশ্বরোড মোড় – আখাউড়া তন্তর ব্রীজ দুই সাইডের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও এ প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৬ সালে শেষ করার কথা রয়েছে। সামনে নির্বাচন তাই আশা করি দ্রুত চারলেন সম্পন্ন হবে।

আশুগঞ্জ ও আখাউড়া চারলেন মহাসড়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সময়, নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু আট বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই প্রকল্প এখন মানুষের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষা আর প্রতিদিনের দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ও মহাসড়ক উন্নয়নের নামে আর কত বছর ভোগান্তি পোহাতে হবে জনসাধারণের এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মুখে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

আশুগঞ্জ ও আখাউড়া চারলেনের কাজ আট বছরে ৬২ শতাংশ।

আপডেট সময় : ০৬:১৫:৩১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ বন্দরকে যুক্ত করা ৫০ দশমিক ৫৮ কিলোমিটার মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রকল্পটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘসূত্রতা, ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২০১৭ সালে স্বপ্নের যাত্রা শুরু হলেও আট বছর পেরিয়ে কাজ শেষ হয়নি। অগ্রগতি থেমে আছে মাত্র ৬২–৬৪ শতাংশে।

প্রকল্পের একবার সংশোধনের পর মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৫ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ভারত সরকারের দ্বিতীয় লাইন অব ক্রেডিট (এলওসি) থেকে ২ হাজার ৯৮২ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়ন ২ হাজার ৮০৯ কোটি টাকা। ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এই প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ ছিল ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় নতুন করে মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত নেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে তিনটি প্যাকেজের একটি বাতিলের সিদ্ধান্তে। তন্তর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ১১ দশমিক ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ তৃতীয় প্যাকেজটি বাদ দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন চারলেন হচ্ছে কেবল আশুগঞ্জ থেকে আখাউড়ার তন্তর পর্যন্ত।

চারলেন প্রকল্পের পরিচালক শামীম আহমেদ এবিষয়ে বলেন, এ পর্যন্ত কাজের ৬২ শতাংশ শেষ হয়েছে। এই প্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুন ২০২৬ মধ্যে শেষ হবে কিন্তু আমরা প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৭ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির জন্য আবেদন করেছি।  তবে ব্যয় বাড়বে না বলে দাবি করেন তিনি। আমরা চেষ্টা করছি বাকি কাজ দ্রুত শেষ করতে, যাতে রেল ও সড়ক পরিবহনও স্বাভাবিক হয়।

সরেজমিনে দেখা গেছে, এই মহাসড়কজুড়ে ভয়াবহ দুরবস্থা। শুষ্ক মৌসুমে ধুলার কুয়াশায় ঢেকে যায় এলাকা, আর বর্ষায় হাঁটুসমান পানিতে তলিয়ে যায় রাস্তা। কোথাও বড় বড় গর্ত, কোথাও পিচ উঠে গিয়ে দেবে গেছে সড়ক। আশুগঞ্জ গোলচত্বর, খাটিহাতা বিশ্বরোড মোড়, বিরাশার, পৈরতলা বাসস্ট্যান্ড, পুনিয়াউট, রাধিকা, সুলতানপুর থেকে তন্তরসহ সব জায়গাই এখন ভোগান্তির নামান্তর।

বিশেষ করে যানযটের সময় সরাইল বিশ্বরোড থেকে আশুগঞ্জ পর্যন্ত প্রায় ১৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে সময় লাগে ৪–৫ ঘণ্টা।

বাসচালক ও যাত্রীরা জানান, চারলেন কাজের কারনে রাস্তায় ধুলাবালি বেশি, শ্বাসকষ্ট হয় আমাদের। এছাড়াও যানজটে আটকে থাকতে হয়। রাস্তার কাজ শেষ হলে আমাদের জন্য সুবিধা হবে। অনেক যাত্রী বাধ্য হয়ে রেলপথে ঝুঁকলেও সেখানেও ভিড় আর বিলম্ব নিত্যদিনের সঙ্গী।

প্রকল্পের ধীরগতিতে ক্ষুব্ধ হয়ে সড়ক উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান গত বছরের অক্টোবরে আশুগঞ্জ–বিশ্বরোড অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট ১২ জন কর্মকর্তাকে প্রকল্প এলাকায় সার্বক্ষণিক অবস্থানের নির্দেশ দেন। কড়া ভাষায় বলেন, ঢাকায় বসে অফিস নয়, মাঠে থেকেই কাজ শেষ করতে হবে, নচেৎ বরখাস্ত।

জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান বলেন, জনগণের নিরাপত্তা ও প্রকল্পের অগ্রগতি—দুটিই সমান গুরুত্বপূর্ণ। আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড পর্যন্ত কাজ আগামী জুন ২০২৬-এর মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। নির্বাচন সামনে থাকায় কাজ দ্রুত শেষ হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

আশুগঞ্জ থেকে সরাইল বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত চারলেনের কাজ আগামী জুন ২০২৬ এবং আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই চারলেনের সরাইল বিশ্বরোড মোড় – আখাউড়া তন্তর ব্রীজ দুই সাইডের কাজ শুরু হবে। এছাড়াও এ প্রকল্পের মেয়াদ জুন ২০২৬ সালে শেষ করার কথা রয়েছে। সামনে নির্বাচন তাই আশা করি দ্রুত চারলেন সম্পন্ন হবে।

আশুগঞ্জ ও আখাউড়া চারলেন মহাসড়ক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সময়, নিরাপত্তা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও ভবিষ্যতের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। কিন্তু আট বছরেও কাজ শেষ না হওয়ায় এই প্রকল্প এখন মানুষের কাছে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দীর্ঘ অপেক্ষা আর প্রতিদিনের দুর্ভোগের প্রতিচ্ছবি। যাত্রী ভোগান্তি কমাতে ও মহাসড়ক উন্নয়নের নামে আর কত বছর ভোগান্তি পোহাতে হবে জনসাধারণের এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের মুখে।