ঢাকা ১২:২০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি গুদাম থেকে পাচারকালে ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

গাইবান্ধা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

গাইবান্ধায় সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলন করা সরকারি ভর্তুকির ইউরিয়া সার অবৈধভাবে পাচারের সময় একটি ট্রাকসহ ২০০ বস্তা সার জব্দ করেছে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন। এ সময় ট্রাকের চালক মিন্টু মণ্ডলকে (৪০) আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার ব্রিজ রোডের কদমতলা এলাকায় ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু। অভিযানে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এবং সদর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু মণ্ডল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালুয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, ‘৫০ কেজি ওজনের ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার বহনের দায়ে এবং পাচারের গন্তব্য ও ডিলারের নাম গোপন করার অপরাধে অভিযুক্ত মিন্টুকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে তাকে সময় দেওয়া হয়েছে। পরিশোধ না করলে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হবে।’

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত মিন্টু মণ্ডল তুলসীঘাট সরকারি বাফার গুদাম থেকে সারগুলো লোড করে কুড়িগ্রামে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন। তবে সারগুলো কার নামে উত্তোলন হয়েছে এবং কার কাছে সরবরাহ করা হচ্ছিল তা স্বীকার করেনি। সার পাচারে কারা জড়িত এবং ক্রয়কারী ব্যক্তিসহ সবাইকে শনাক্তে তদন্ত করা হবে।

এদিকে, সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম বলেন, ‘সরকারি ভর্তুকির সার পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকটি তুলসীঘাটে আসে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকসহ সারগুলো আটক করে কৃষি বিভাগকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করা হয়।’

তিনি আরও জানান, জরিমানা আদায়ের পর ট্রাকের চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জব্দ করা ৫০ কেজি ওজনের ২০০ বস্তার ১০ মেট্রিক টন সার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সারের মালিকানা দাবিদার কেউ আপিল করে প্রমাণ দিতে পারলে আইনি প্রক্রিয়ায় সার হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় নিলাম প্রক্রিয়ায় স্বল্প মূল্যে প্রকৃত উপকারভোগী কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।

এ ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাফার গুদাম থেকে জব্দ হওয়া ওই ইউরিয়া সার উত্তোলন করেন পলাশবাড়ীর ডিলার রনি ট্রেডার্সের প্রোপাইটর মোজাহারুল ইসলাম। তবে সারগুলো নিজের গুদামে না নিয়ে তা বিক্রি করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মোজাহারুলের কাছ থেকে সারগুলো কেনেন কাবলির বাজার এলাকার সার ব্যবসায়ী মিজান। সার নিয়ে ট্রাকটি মিজানের কাছেই পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে জানা যায়।

তবে আটক ট্রাকের চালক মিন্টু মণ্ডল জিজ্ঞাসাবাদে ওই তথ্য স্বীকার না করে কেবল জানান, ট্রাকটি কুড়িগ্রামের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

সরকারি গুদাম থেকে পাচারকালে ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ

আপডেট সময় : ০১:৪৯:০৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

গাইবান্ধায় সরকারি গুদাম থেকে উত্তোলন করা সরকারি ভর্তুকির ইউরিয়া সার অবৈধভাবে পাচারের সময় একটি ট্রাকসহ ২০০ বস্তা সার জব্দ করেছে কৃষি বিভাগ ও প্রশাসন। এ সময় ট্রাকের চালক মিন্টু মণ্ডলকে (৪০) আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে সদর উপজেলার ব্রিজ রোডের কদমতলা এলাকায় ট্রাকটি আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) জাহাঙ্গীর আলম বাবু। অভিযানে সদর উপজেলা কৃষি অফিসার এবং সদর থানা পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মিন্টু মণ্ডল সদর উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের বালুয়া গ্রামের ওয়াহেদ আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জাহাঙ্গীর আলম বাবু বলেন, ‘৫০ কেজি ওজনের ২০০ বস্তা ইউরিয়া সার বহনের দায়ে এবং পাচারের গন্তব্য ও ডিলারের নাম গোপন করার অপরাধে অভিযুক্ত মিন্টুকে জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে তাকে সময় দেওয়া হয়েছে। পরিশোধ না করলে তাকে তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হবে।’

তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত মিন্টু মণ্ডল তুলসীঘাট সরকারি বাফার গুদাম থেকে সারগুলো লোড করে কুড়িগ্রামে নিয়ে যাচ্ছিলেন বলে স্বীকার করেন। তবে সারগুলো কার নামে উত্তোলন হয়েছে এবং কার কাছে সরবরাহ করা হচ্ছিল তা স্বীকার করেনি। সার পাচারে কারা জড়িত এবং ক্রয়কারী ব্যক্তিসহ সবাইকে শনাক্তে তদন্ত করা হবে।

এদিকে, সদর উপজেলার কৃষি অফিসার রাকিবুল আলম বলেন, ‘সরকারি ভর্তুকির সার পাচারের উদ্দেশ্যে ট্রাকটি তুলসীঘাটে আসে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা ট্রাকসহ সারগুলো আটক করে কৃষি বিভাগকে খবর দেন। পরে পুলিশ ও প্রশাসন নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে সারবোঝাই ট্রাকটি জব্দ করা হয়।’

তিনি আরও জানান, জরিমানা আদায়ের পর ট্রাকের চালককে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে জব্দ করা ৫০ কেজি ওজনের ২০০ বস্তার ১০ মেট্রিক টন সার জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালকের জিম্মায় রাখা হয়েছে। সারের মালিকানা দাবিদার কেউ আপিল করে প্রমাণ দিতে পারলে আইনি প্রক্রিয়ায় সার হস্তান্তর করা হবে। অন্যথায় নিলাম প্রক্রিয়ায় স্বল্প মূল্যে প্রকৃত উপকারভোগী কৃষকদের কাছে বিক্রি করা হবে।

এ ঘটনার পর অনুসন্ধানে জানা গেছে, বাফার গুদাম থেকে জব্দ হওয়া ওই ইউরিয়া সার উত্তোলন করেন পলাশবাড়ীর ডিলার রনি ট্রেডার্সের প্রোপাইটর মোজাহারুল ইসলাম। তবে সারগুলো নিজের গুদামে না নিয়ে তা বিক্রি করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, মোজাহারুলের কাছ থেকে সারগুলো কেনেন কাবলির বাজার এলাকার সার ব্যবসায়ী মিজান। সার নিয়ে ট্রাকটি মিজানের কাছেই পৌঁছে দেওয়ার উদ্দেশ্যে যাচ্ছিল বলে জানা যায়।

তবে আটক ট্রাকের চালক মিন্টু মণ্ডল জিজ্ঞাসাবাদে ওই তথ্য স্বীকার না করে কেবল জানান, ট্রাকটি কুড়িগ্রামের দিকে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি।