ঢাকা ০৮:৪০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৭:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬ ৩৮ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বৈঠকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে দুই ধরনের ক্যাম্পেইন একসঙ্গে চলবে।

জামায়াত নেতারা নির্বাচন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত জানালে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজন হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচন কেন্দ্রগুলো দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরার ব্যবস্থাও থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সব কার্যক্রম মনিটর করা হবে এবং ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এবারের নির্বাচন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ বা গোজামিলের হবে না। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনকালীন সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি হটলাইন চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জয়-পরাজয় নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল করা এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক

আপডেট সময় : ০৭:২০:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল।

রোববার (১৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, মিয়া গোলাম পরওয়ার ও রফিকুল ইসলাম খান।

বৈঠকে সরকারের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ও সড়ক, সেতু ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

বৈঠকে নির্বাচন সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। জামায়াতে ইসলামীর নেতারা জানান, আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে তারা পূর্ণোদ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন। একই সঙ্গে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে তাদের প্রচারণা ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং ২২ জানুয়ারি থেকে দুই ধরনের ক্যাম্পেইন একসঙ্গে চলবে।

জামায়াত নেতারা নির্বাচন সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতেই একটি ভালো ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচন সংক্রান্ত জরুরি তথ্য, অভিযোগ বা মতামত জানালে তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশনের নজরে আনা হবে এবং প্রয়োজন হলে সরকার ব্যবস্থা নেবে।

নির্বাচন কেন্দ্রগুলো দ্রুত সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ কেন্দ্রে জানুয়ারির মধ্যেই সিসি ক্যামেরা স্থাপন সম্পন্ন হবে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের জন্য বডি ক্যামেরার ব্যবস্থাও থাকবে। কন্ট্রোল রুম থেকে সব কার্যক্রম মনিটর করা হবে এবং ফুটেজ সংরক্ষণ করা হবে।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এ বিষয়ে আইনগত কোনো বাধা নেই বলে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে নিশ্চিত হওয়া গেছে। গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব সংস্কারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।

তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময় অনুযায়ী ১২ ফেব্রুয়ারিতেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে এবং এবারের নির্বাচন কোনোভাবেই প্রশ্নবিদ্ধ বা গোজামিলের হবে না। নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর করতে সরকার, নির্বাচন কমিশন ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

নির্বাচনকালীন সময়ে স্থানীয় পর্যায়ে উদ্ভূত বিরোধ নিরসনে রাজনৈতিক দল ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অংশগ্রহণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান প্রধান উপদেষ্টা। পাশাপাশি সব ধরনের অভিযোগ গ্রহণের জন্য একটি হটলাইন চালু থাকবে বলেও জানান তিনি।

বৈঠক শেষে জয়-পরাজয় নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নির্বাচন সফল করা এবং দেশের কল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধান উপদেষ্টা।