রাজবাড়ীতে হাড় কাঁপানো শীত, পুরাতন কাপড়ের বাজারে মানুষের ঢল
- আপডেট সময় : ০৬:৩৮:৫০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

রাজবাড়ীতে কনকনে শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে জনজীবন। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চারপাশে বইছে হিমেল হাওয়া। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। নিত্যদিনের জীবিকার সংগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীতের যন্ত্রণা। ফলে প্রয়োজনের তাগিদে বেড়েছে গরম কাপড়ের চাহিদা।
শীতার্ত মানুষের কষ্ট লাঘবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিম্নআয়ের মানুষের মাঝে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান থাকলেও বাস্তবতার তাড়নায় অনেকেই ভিড় করছেন পুরাতন কাপড়ের বাজারে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) সকালে রাজবাড়ী শহরের ১ নম্বর রেলগেট সংলগ্ন পুরাতন গরম কাপড়ের বাজারে গিয়ে দেখা যায়, শীতের পোশাক কিনতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, নারী-পুরুষ—সব বয়সী মানুষের আনাগোনায় মুখর হয়ে উঠেছে বাজার এলাকা।
এই বাজারে ১০০ টাকা থেকে শুরু করে ৭০০–৮০০ টাকা পর্যন্ত দামে বিক্রি হচ্ছে পুরাতন সোয়েটার, জ্যাকেট, শাল, কোটসহ বিভিন্ন ধরনের শীতের কাপড়। সীমিত সামর্থ্যের মানুষের কাছে এসব পুরাতন কাপড়ই হয়ে উঠেছে শীত মোকাবেলার প্রধান ভরসা।
পুরাতন কাপড় বিক্রেতা ঠান্টু মিয়া, আব্দুল জলিল মিয়া, কাসেম মন্ডল, হালিম শেখ ও জামাল উদ্দিন খন্দকার জানান, কয়েকদিন আগেও ক্রেতা কম ছিল। তবে শীত জেঁকে বসার পর হঠাৎ করেই বিক্রি বেড়ে গেছে। তারা বলেন, পাইকারি বাজারে কাপড়ের দাম বেশি হওয়ায় বিক্রির দামও কিছুটা বাড়ছে। শীত কমে গেলে আবার চাহিদা থাকবে না, তাই এই সময়েই বেশি বিক্রি করার চেষ্টা করছেন তারা।
শহর ও গ্রামাঞ্চলের পথে পথে চোখে পড়ছে আরেকটি চেনা দৃশ্য। মোড়ে মোড়ে, চায়ের দোকানের সামনে কিংবা খোলা জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন রিকশাভ্যান চালক, দিনমজুর ও শ্রমজীবী মানুষ। আগুনের চারপাশে জড়ো হয়ে কিছুটা উষ্ণতা খোঁজার এই দৃশ্য যেন শীতের রাজবাড়ীর নীরব বাস্তবতা তুলে ধরছে।
এ বিষয়ে রাজবাড়ী জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. হাফিজুর রহমান জানান, শীতার্তদের সহায়তায় জেলায় পাঁচ হাজার কম্বল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। জেলা সদরসহ পাঁচটি উপজেলাতেই নিয়মিতভাবে কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
হাড় কাঁপানো এই শীতে মানুষের চোখেমুখে যেমন কষ্টের ছাপ, তেমনি পুরাতন কাপড়ের বাজার আর আগুনের উষ্ণতায় টিকে থাকার এক মানবিক চিত্র ফুটে উঠছে রাজবাড়ীর অলিগলিতে।

















