প্রার্থিতা ফিরে পেতে পারেন ড. হামিদুর রহমান আযাদ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৩:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৫৫ বার পড়া হয়েছে

মামলা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে কক্সবাজার-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. হামিদুর রহমান আযাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান এই মনোনয়ন বাতিলের ঘোষণা দেন।
এর পরদিন রাতে জেলা জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলন করেন দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি অভিযোগ করে বলেন, ফ্যাসিবাদী আমলের সাজানো ও মিথ্যা মামলার অজুহাতে তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ অন্যায় ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর হলফনামায় ঋণখেলাপি, কর ফাঁকি বা রাষ্ট্রীয় আর্থিক অনিয়মের কোনো অভিযোগ নেই বলেও তিনি দাবি করেন।
ড. আযাদ বলেন, ২০১৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সংক্রান্ত একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দায়ের করা আদালত অবমাননার মামলাকে সামনে এনে তার প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। অথচ এই মামলা কোনো ফৌজদারি অপরাধের আওতায় পড়ে না। এটি একটি নির্দিষ্ট প্রেক্ষাপটে দায়ের হওয়া আদালত অবমাননার মামলা মাত্র।
তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনেও একই বিষয় উত্থাপন করা হয়েছিল। সে সময় আইনি পর্যালোচনার পর রিটার্নিং কর্মকর্তা এটিকে নির্বাচনী অযোগ্যতা হিসেবে গ্রহণ করেননি। এমনকি ওই মামলায় সাজা ঘোষণার পরও তিনি দেড় বছর সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে ড. আযাদের আইনজীবী মোহাম্মদ আরিফ জানান, সংশ্লিষ্ট মামলায় তিনি তিন মাসের কারাদণ্ড ভোগ করেছেন এবং বর্তমানে মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিলাধীন। এটি কোনো সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ নয়। শুনানি ছাড়াই একতরফাভাবে মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে, যার বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে আপিল করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের সংশোধিত তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন বাতিলের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ১১ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করা যাবে। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর ধারা ১২(১)(গ) অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি ন্যূনতম দুই বছর বা তার বেশি কারাদণ্ডে দণ্ডিত হলে কারামুক্তির পর পাঁচ বছর পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন না। তবে ড. আযাদের ক্ষেত্রে ভোগ করা সাজা দুই বছরের কম হওয়ায় আইনগত বাধা নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবীদের তথ্যমতে, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই দণ্ডাদেশ কার্যকরের জন্য আদালতে আত্মসমর্পণের পর তিনি কারাভোগ করেন এবং পরে জামিনে মুক্তি পান।
যেহেতু মামলাটি বর্তমানে উচ্চ আদালতে আপিলাধীন এবং ভোগ করা সাজা দুই বছরের কম, সে কারণে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে আপিল করলে মহেশখালী ও কুতুবদিয়া থেকে ২০০৮ সালে নির্বাচিত সাবেক এই সংসদ সদস্যের প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বলে আইন ও নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আপিল দাখিল করা হলে বিধি অনুযায়ী বিষয়টি বিবেচনা করা হবে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী আপিল নিষ্পত্তির সময়সূচি নির্ধারিত রয়েছে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি পর্যন্ত।


























