ঢাকা ০৬:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার প্রতিবাদে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মানববন্ধন ২০ বছর পর সার্জেন্ট পদে ৮৪ ও এসআই পদে ১৬২ জন যোগ দিচ্ছেন তিন বিজ্ঞানীর ভ্রমণ বাল্যবিবাহ ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন করলেন বন্ধুরা পিরোজপুরে মানিক পশারীর সঙ্গে কী ঘটেছিল জানতে কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয় যৌন আবেদননির্ভর উপস্থাপনা ঠেকাতে না পেরে জাহ্নবীর আফসোস নাহিদ রানার মধ্যে সুপারস্টার হওয়ার সম্ভাবনা দেখেন বিশপ ইনানী সৈকতে গোসলে নেমেছিল ১৬ শিক্ষার্থী, ভেসে গিয়ে প্রাণ গেল একজনের তিনটি আইন নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে আইনমন্ত্রীর কাছে চিঠি অ্যামনেস্টির চড়া সুদে ঋণ, অন্যের সহায়তা, জমি বিক্রির টাকায় চিকিৎসা

জকসু নির্বাচন

মেস-বাসায় প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:০৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬ ৪৯ বার পড়া হয়েছে
আমাদের সর্বশেষ নিউজ পেতে ক্লিক করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ জানুয়ারি। নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় অনলাইন কার্যক্রমের পাশাপাশি মেস, বাসাভাড়া ও হলে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ক্যাম্পাসে সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি আবাসন সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের অবস্থানস্থল মেসগুলোই এখন প্রার্থীদের প্রধান প্রচারণা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার মেসে মেসে ঘুরে ভোট চাইছেন জকসু প্রার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। কেউ দলীয় পরিচয়ে, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছোট আড্ডায় বসছেন। কোথাও চা-নাশতার টেবিলে, কোথাও সরাসরি কক্ষে ঢুকে ভোট প্রার্থনা করছেন, আবার কোথাও গল্প-আড্ডার মধ্য দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তারা। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা নয়, ভোটের জন্য প্রার্থীরা ছুটে চলছেন ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আজিমপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন তারা।

প্রচারণাকালে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথাও শুনছেন। অনেক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন জকসু না থাকায় তাদের দাবি-দাওয়া জানানোর মতো কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক প্ল্যাটফর্ম ছিল না। মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে আবাসনের অপ্রতুল পরিবেশ, আর্থিক সংকট, নিরাপত্তা, রাতে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় চলাচলের ঝুঁকি এবং মেসভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন।

এ বিষয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার চিন্তা জবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে। জকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা তাকে নির্বাচিত করবে। তবে দীর্ঘ বিরতির কারণে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ না-ও হতে পারে বলে শঙ্কা জানান তিনি।

বামজোট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ইভান তাহসীব বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তারা কাজ করে আসছেন। প্রচারণায় ইশতেহার ও অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। তবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলতাবাজার এলাকায় মেসে থাকা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসির আহম্মেদ বলেন, প্রার্থীরা তাদের অভিযোগের কথা শুনছেন এবং ক্যাম্পাসের বাইরে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, এটি ভালো লাগছে। তবে নির্বাচনের পর যেন তারা শিক্ষার্থীদের ভুলে না যান, সেটাই বড় প্রশ্ন। তার মতো অনেক শিক্ষার্থী আশাবাদী হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, ভোটাররাই জকসু নির্বাচনের প্রাণ। ভোটাররা কেন্দ্রে না এলে জকসু নির্বাচন অর্থহীন হয়ে যাবে। সর্বোচ্চ প্রচারণার চেষ্টা চলছে এবং ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানান তিনি। আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন।

মেসকেন্দ্রিক এই প্রচারণা জকসু নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে প্রার্থীরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা প্রার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিশ্রুতি পাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রার্থীরাও ভোটারদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রার্থীদের মধ্যে যুক্তিতর্কের ঘটনাও দেখা গেছে, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মেসে প্রচারণা চালানো হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। সে কারণে ভোটের দিন উপস্থিতি কিছুটা কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, তাদের প্যানেলের ইশতেহার তুলে ধরা হচ্ছে, তবে কোনো উপঢৌকন বা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :
   

জকসু নির্বাচন

মেস-বাসায় প্রচারণায় ব্যস্ত প্রার্থীরা, ভোটার উপস্থিতি নিয়ে শঙ্কা

আপডেট সময় : ১১:০৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ জানুয়ারী ২০২৬

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে আগামী ৬ জানুয়ারি। নির্বাচন সামনে রেখে শেষ মুহূর্তের প্রচারণায় অনলাইন কার্যক্রমের পাশাপাশি মেস, বাসাভাড়া ও হলে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন প্যানেল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা। ক্যাম্পাসে সরাসরি মতবিনিময়ের পাশাপাশি আবাসন সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের অবস্থানস্থল মেসগুলোই এখন প্রার্থীদের প্রধান প্রচারণা কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। সন্ধ্যা নামলেই বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার মেসে মেসে ঘুরে ভোট চাইছেন জকসু প্রার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত প্রার্থীদের ব্যস্ততা চোখে পড়ছে। কেউ দলীয় পরিচয়ে, কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছোট আড্ডায় বসছেন। কোথাও চা-নাশতার টেবিলে, কোথাও সরাসরি কক্ষে ঢুকে ভোট প্রার্থনা করছেন, আবার কোথাও গল্প-আড্ডার মধ্য দিয়ে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন তারা। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা নয়, ভোটের জন্য প্রার্থীরা ছুটে চলছেন ঢাকা শহরের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। আজিমপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, খিলগাঁও, নারায়ণগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সঙ্গে দেখা করছেন তারা।

প্রচারণাকালে প্রার্থীরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নানা অভিযোগ ও প্রত্যাশার কথাও শুনছেন। অনেক শিক্ষার্থী জানান, দীর্ঘদিন জকসু না থাকায় তাদের দাবি-দাওয়া জানানোর মতো কোনো প্রতিনিধিত্বমূলক প্ল্যাটফর্ম ছিল না। মেসে থাকা শিক্ষার্থীরা বিশেষভাবে আবাসনের অপ্রতুল পরিবেশ, আর্থিক সংকট, নিরাপত্তা, রাতে ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় চলাচলের ঝুঁকি এবং মেসভাড়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরছেন।

এ বিষয়ে ‘ঐক্যবদ্ধ নির্ভীক জবিয়ান’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী একেএম রাকিব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর থেকেই তার চিন্তা জবি শিক্ষার্থীদের নিয়ে। জকসুতে নির্বাচিত হলে শিক্ষার্থীদের জন্য আরও বেশি কাজ করার সুযোগ তৈরি হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, শিক্ষার্থীরা তাকে নির্বাচিত করবে। তবে দীর্ঘ বিরতির কারণে ভোটার উপস্থিতি আশানুরূপ না-ও হতে পারে বলে শঙ্কা জানান তিনি।

বামজোট সমর্থিত ‘মওলানা ভাসানী ব্রিগেড’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ইভান তাহসীব বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে তারা কাজ করে আসছেন। প্রচারণায় ইশতেহার ও অতীত আন্দোলন-সংগ্রামের বিষয়গুলো তুলে ধরা হচ্ছে। তবে নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় ভোটার উপস্থিতি নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কলতাবাজার এলাকায় মেসে থাকা ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাসির আহম্মেদ বলেন, প্রার্থীরা তাদের অভিযোগের কথা শুনছেন এবং ক্যাম্পাসের বাইরে এসে খোঁজ নিচ্ছেন, এটি ভালো লাগছে। তবে নির্বাচনের পর যেন তারা শিক্ষার্থীদের ভুলে না যান, সেটাই বড় প্রশ্ন। তার মতো অনেক শিক্ষার্থী আশাবাদী হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন।

জাতীয় ছাত্রশক্তি সমর্থিত ‘ঐক্যবদ্ধ জবিয়ান’ প্যানেলের জিএস পদপ্রার্থী ফয়সাল মুরাদ বলেন, ভোটাররাই জকসু নির্বাচনের প্রাণ। ভোটাররা কেন্দ্রে না এলে জকসু নির্বাচন অর্থহীন হয়ে যাবে। সর্বোচ্চ প্রচারণার চেষ্টা চলছে এবং ইতিবাচক সাড়া মিলছে বলে জানান তিনি। আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের দিন ভোটাররা কেন্দ্রে উপস্থিত হবেন।

মেসকেন্দ্রিক এই প্রচারণা জকসু নির্বাচনে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। দীর্ঘদিন পর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগকে প্রার্থীরা বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছেন। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা প্রার্থীদের কাছ থেকে সরাসরি প্রতিশ্রুতি পাচ্ছেন, অন্যদিকে প্রার্থীরাও ভোটারদের বাস্তব সমস্যা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাচ্ছেন। কোথাও কোথাও প্রার্থীদের মধ্যে যুক্তিতর্কের ঘটনাও দেখা গেছে, তবে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে ‘অদম্য জবিয়ান ঐক্য’ প্যানেলের ভিপি পদপ্রার্থী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, মেসে প্রচারণা চালানো হলেও শিক্ষার্থীর সংখ্যা তুলনামূলক কম। নির্বাচন স্থগিত হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী বাড়ি চলে গেছেন। সে কারণে ভোটের দিন উপস্থিতি কিছুটা কম হওয়ার শঙ্কা রয়েছে। তিনি জানান, তাদের প্যানেলের ইশতেহার তুলে ধরা হচ্ছে, তবে কোনো উপঢৌকন বা খাবার বিতরণ করা হচ্ছে না।